দেশে বিমা শিল্পে ১০০% প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির (এফডিআই) পথ খুলতে পারে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই। রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, সেই সময়ে সংসদে বিমা সংশোধনী বিল পেশ করতে পারে সরকার। সাধারণত নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়ে চলে বড়দিনের আগে পর্যন্ত। যদিও কেন্দ্রের এই প্রস্তাব নিয়ে আগেই আপত্তি তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, বিমায় বিদেশি লগ্নি বাড়লে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি সুবিধা পাবে। দেশীয় শিল্পের উপকার হবে না। একাংশের এটাও মত, বিমা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। সম্পূর্ণ বিদেশি একটি সংস্থা কখনওই এ দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার কথা ভাববে না।
এ দিন জিএসটি সংস্কারের কার্যকারিতাও তুলে ধরেছেন নির্মলা। তাঁর দাবি, উৎসবের মরসুমের আগে করের হার দু’টিতে নামানোর সিদ্ধান্তে ও বহু পণ্যে কর কমায় মানুষের উপকার হবে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হার চালুর কথা। যদিও জিএসটি কমায় রাজ্যগুলির যে ক্ষতি হবে, তা পুষিয়ে দেওয়া নিয়ে জট বহাল। এর সওয়াল করেছেন কেরলের অর্থমন্ত্রী কে এন বালগোপাল। তাঁর দাবি, সকলে যাতে কর কমার আর্থিক সুবিধা পান, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, এ বছর বাজেটে বিমায় এফডিআই-এর সীমা ৭৪% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার প্রস্তাব দেন নির্মলা। বলেছিলেন, যে সমস্ত বিদেশি সংস্থা তাদের সংগ্রহ করা প্রিমিয়ামের পুরোটাই ভারতে লগ্নি করবে, তারাই এই সুবিধা পাবে। পাশাপাশি, বিমায় পেড-আপ মূলধন, সংযুক্ত লাইসেন্স-সহ নানা নিয়ম সরলীকরণের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। রয়েছে এলআইসি আইন সরলের কথা। যাতে সংস্থার পর্ষদই শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি করা থেকে কর্মী নিয়োগের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কেন্দ্রের দাবি, ২০৪৭-এর মধ্যে সব মানুষের কাছে বিমার সুবিধা পৌঁছতে এই সিদ্ধান্ত কাজে দেবে।