ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে অনলাইনে লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর আরোপ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এমডিআর চালুর তারিখ পিছোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। ইউপিআইয়ে এমডিআর আরোপের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও এর সঠিক সময় এখনও আসেনি— এমনটাই মনে করছেন ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার বাএনপিসিআইয়ের-এর ‘ইনোভেশন কাউন্সিল’-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও উদ্যোগপতি শান্তনু পাল। তাঁর লেখা ‘ক্যাশলেস ইন্ডিয়া’ বইটি নিয়ে আলোচনা সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে কলকাতায় এসে এমনটাই জানালেন তিনি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। ছিলেন ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনের চেয়ারম্যান শৈবাল চট্টোপাধ্যায়, এ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও প্রবীণা রাই। সহ-লেখক বি সাম্বামূর্তিকে নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন শান্তনুও। বি সাম্বামূর্তি এক জন ব্যাঙ্কার ও ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন।
ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আমূল বদলে দিয়েছে সাধারণ মানুষের টাকা লেনদেনের পদ্ধতি এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার ধরন। ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই চালু হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীরা একাধিক পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পেরেছেন ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহক। ডিজিটাল লেনদেন হয়েছে আরও সহজ ও সর্বসাধারণের নাগালের মধ্যে। এই অভাবনীয় পরিবর্তন এবং কয়েক দশক ধরে কী ভাবে বিপুল পরিসরে ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, সেই ইতিহাসও তুলে ধরেছে বইটি। নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিরা, প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির কাহিনি মলাটবন্দি হয়েছে ‘ক্যাশলেস ইন্ডিয়া’তে। জানালেন দুই লেখক। কয়েক দশক ধরে কী ভাবে বিপুল পরিসরে ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, সেই ইতিহাসও তুলে ধরেছে বইটি। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে অর্থের লেনদেনের সম্পর্ক কী ভাবে বদলে গিয়েছে এবং কী ভাবে রিয়েল-টাইম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে, তারও ব্যাখ্যা রয়েছে বইটিতে।