বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সুভাষ চন্দ্রের। জ়ি-গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তথা এসেল গোষ্ঠীর কর্ণধারের বিরুদ্ধে এ বার এফআইআর দায়ের করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি, ঋণ জালিয়াতি করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ধার নেওয়ার সময় সম্পত্তির পরিমাণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে তাঁর সঙ্কট আরও গভীর হল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২০১৮ সালে দু’টি সংস্থাকে ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ দেয় এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্স। পরবর্তী কালে সেগুলি অনাদায়ী ঋণে পরিণত হয়। দু’টি ঋণের ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রদানকারী ছিলেন সুভাষ চন্দ্র। অভিযোগ, এর জন্য নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখান তিনি। ফলে সুদ ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে লোকসানের অঙ্ক ১,৩২২ কোটিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্স।
সম্প্রতি, সুভাষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গৃণঋণ সংস্থাটির জেনারেল ম্যানেজার নীতা মেনঘানি। তার উপর ভিত্তি করে গত ৩১ অগস্ট এফআইআর রুজু করে সিবিআই। জ়ি-গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ছাড়াও তাতে নাম রয়েছে বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ় প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর পঙ্কজ সুরোলিয়া এবং প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড ও ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর আমিশ পান্ডিয়ার।
এ ছাড়া, স্পিরিট ইনফ্রা পাওয়ার অ্যান্ড মাল্টি ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর রাজীব ধোলাকিয়া এবং বেশ কয়েক জন সরকারি কর্মী ও আধিকারিক এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে তাঁদের নাম লেখেননি এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্সের জেনারেল ম্যানেজার। ফলে তদন্তে ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’ লুকিয়ে থাকার হদিস মিলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, প্রথমে বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ় প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে এলআইসি হাউসিং। পরে তাদের থেকে আরও ৪৮০ কোটি টাকা ধার নেয় ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এবং স্পিরিট ইনফ্রা পাওয়ার অ্যান্ড মাল্টি ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড।
গৃহঋণ প্রদানকারী বিমা সংস্থাটির দাবি, দু’টি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত গ্যারান্টিপত্র দাখিল করেন সুভাষ চন্দ্র। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ প্রথমটি এবং ২০১৮ সালের ১০ অগস্ট দ্বিতীয়টি গৃহীত হয়। তার পরই ঋণ মঞ্জুর করা হয়। অভিযোগপত্রে নীতা লিখেছেন, বসন্ত সাগর ঋণের শংসাপত্রে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ ৬১৯.৭৬ কোটি মার্কিন ডলার বলে জানিয়ে দেন জ়ি-গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। ভারতীয় মুদ্রায় সেটা প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকা।
একই ভাবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রেও নিজের সম্পত্তির পরিমাণ ৪০,০০০ কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন সুভাষ। কিন্তু, তত দিনে ব্যক্তিগত ভাবে পুরোপুরি দেউলিয়া হয়ে গিয়েছেন তিনি। যদিও এলআইসি হাউসিংয়ের অভিযোগ, সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পেতে দেননি জ়ি-গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। এ ব্যাপারে অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি ওই ব্যবসায়ী।