শিল্প ও অর্থনীতির মাপকাঠিতে পশ্চিমবঙ্গের হাল ফেরাতে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁর বার্তা, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের দিক থেকে বলছি, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাবে। শুধু বলতে হবে, কী চাই। আমরা তা দেব। যাতে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবেস্বপন দাশগুপ্ত তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’’
দিল্লিতে গত কাল সন্ধ্যায় স্বপনের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন হয়েছিল। নির্মলা, তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব স্যান্যাল হাজির ছিলেন। নির্মলা সেখানে রাজ্যের আমলাদের নতুন উদ্যমে ও প্রাণশক্তি নিয়ে কাজে নামতে বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, গত পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকার অলস হয়ে বসেছিল। তারা শুধু রাজনীতি করেছে। কী ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন করা যায়, কী ভাবে দেশের অর্থনীতিতে রাজ্যের যোগদান বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করেনি। ফলে পশ্চিমবঙ্গের আমলাতন্ত্রও শীতঘুমে চলে গিয়েছিল। এখন রাজ্যের আমলাদের বোঝাতে হবে, সময় নষ্ট করা যাবে না। বাকি দেশের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অর্থমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের সামনে উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘উত্তরপ্রদেশ এক সময় থমকে ছিল। কিন্তু গত দশ বছরে পণ্য করিডর, প্রতিরক্ষা করিডর, পরিকাঠামোয় দারুণ কাজ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকেও তাল মেলাতে হবে। স্বপনকে এই দায়িত্ব পালনে একা ছেড়ে দিলে হবে না। আমাদের সকলকে এ কাজে যোগ দিতে হবে। সাহায্য করতে হবে।’’
ওই নৈশভোজে কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে আলাদা ভাবে কথা হয়েছে। আজ সকালেও দু’জনের ঘরোয়া বৈঠক হয়েছে। নির্মলা বলেছেন, ‘‘স্বপন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী হওয়ায় বিশেষ ভাবে আনন্দিত। কারণ অন্য কেউ হলে আমি ভাবতাম, তিনি নিশ্চয়ই কাজ করবেন। স্বপনের ক্ষেত্রে আমার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস রয়েছে। কারণ উনি পরিশ্রম করে, ভেবেচিন্তে কাজ করেন। ওঁর লেখা কলামও হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে রাজ্যের বাজেট তৈরির জন্য বিশেষ সময় পাননি। আমি মুগ্ধ যে দায়িত্ব পেয়েই উনি নিজের টিমকে কাজে নামিয়ে দিয়েছেন। কারখানা উৎপাদন, কৃষির মতো ক্ষেত্রের সঙ্গে চিন্তাধারায় পশ্চিমবঙ্গের নেতৃত্বকেও ফিরিয়ে আনতে হবে।’’