আয়করের মতো জিএসটি-তেও ‘ফেসলেস’ কর আদায় ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এতে কর মেটাতে গিয়ে ব্যবসায়ী বা শিল্প সংস্থাকে আর অফিসারের মুখোমুখি হতে হবে না। ফলে জিএসটি-তে দুর্নীতি বা ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ বহুলাংশে বন্ধ করা যাবে। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে যে সব ব্যবসায়ী এবং শিল্প সংস্থা কেন্দ্রীয় জিএসটি প্রশাসনের আওতায় রয়েছেন, তাঁদের জন্য কয়েক মাসের মধ্যে ‘ফেসলেস’ কর আদায়ের ব্যবস্থা চালু করার ভাবনা রয়েছে। পরে রাজ্যের জিএসটি প্রশাসনের জন্যেও তা আনার প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে ব্যবস্থাটি এখনই বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেই।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বসতে চলেছে জিএসটি পরিষদের বৈঠক। বুধবার বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এক দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিষদের শেষ বৈঠকে কর কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। করের হার কার্যত দু’টিতে নামিয়ে আনা হয়।
অর্থ মন্ত্রকের হিসাব, বহু পণ্যে জিএসটি-র বোঝা চাপায় গত অক্টোবর থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্তবাজারে কেনাকাটার পরিমাণ ২৫.৮ শতাংশ বেড়েছে।
মন্ত্রক সূত্র জানাচ্ছে, এখন থেকে জিএসটি-তে করের হার পরিবর্তন বছরে মাত্র এক বারই হবে। সেই হার ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। যেমন, ফেব্রুয়ারির বাজেটে আয়করে রদবদল ঘোষণা হলেও তা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। যে হেতু গত সেপ্টেম্বরে জিএসটি-র কর কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন হয়েছে, তাই বৃহস্পতিবার পরিষদের বৈঠকে করের হারে বদলানো হচ্ছে না। বদলে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে পাঁচটি ক্ষেত্রে জিএসটি ব্যবস্থার সংস্কার করতে চাইছে অর্থ মন্ত্রক।
গত এক বছরে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের তিনটি সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। তার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক একগুচ্ছ সংস্কারের প্রস্তাব দেবে। যেমন, জিএসটি আইনে কর অফিসারদের গ্রেফতারির ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতারির ক্ষমতা থাকবে, তবে শুধু মাত্র অপরাধের প্রমাণ মেলার পরে। জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নয়। এ ছাড়া, জিএসটি-তে তিন দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে রিফান্ড, সংস্থার বন্ধের ক্ষেত্রে সরাসরি রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে কেন্দ্রের।