কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডে কিছু নিয়ম বদলের কথা জানাল কেন্দ্র। তা আনা হয়েছে মূলত অগ্রিমের ক্ষেত্রে। সদস্যদের পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে অগ্রিম নেওয়ার বিধি আগের থেকে সরল হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, অন্তত ২৫% টাকা অ্যাকাউন্টে জমা রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কেউ তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা টাকার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশের বেশি আগাম তুলতে পারবেন না। বাকি ২৫% চাকরি ছাড়ার পরে হাতে আসবে।
সরকারি মহলের দাবি, অবসর অথবা অন্য কারণে চাকরি ছাড়ার পরে সদস্যদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায় তারা। এই নিয়মে চাইলেও জমার পুরোটা খরচ করতে পারবেন না কেউ। কাজেই সম্বলহীন হতে হবে না। এ ছাড়া, পিএফ থেকে টিডিএস (সূত্রে কাটা কর) কাটা আটকানোর জন্য জমা দিতে হবে ১২১ নম্বর ফর্ম। আগে দিতে হত ১৫জি অথবা ১৫এইচ ফর্ম।
দেশের সমস্ত (২৯টি) শ্রম আইনকে মিশিয়ে চারটি শ্রমবিধি তৈরি করেছে মোদী সরকার। তার অন্যতম শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বিধির আওতায় রয়েছে পিএফ সংক্রান্ত বিধি। এতেই আনা হয়েছে নতুন নিয়ম। নতুন নিয়মে অগ্রিম নেওয়া যাবে তিনটি কারণে: জরুরি সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজন, গৃহ সংক্রান্ত প্রয়োজন এবং বিশেষ প্রয়োজন। তবে টাকা তোলার জন্য সদস্যপদ কমপক্ষে ১২ মাসের পুরনো হতে হবে। জরুরি সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিয়ে। নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের চিকিৎসা এবং শিক্ষার জন্য আগাম টাকা তুলতে পারবেন সদস্য। শিক্ষার জন্য মোট ১০ বার তোলা যাবে। এ ছাড়া গৃহ সংক্রান্ত এবং বিবাহের জন্য তোলা যাবে ৫ বার করে। চিকিৎসার জন্য ৩ বার।
গৃহ সংক্রান্ত প্রয়োজনের শ্রেণিতে টাকা তোলা যাবে গৃহ নির্মাণ, কেনা, বাড়ি তৈরির জন্য জমি কেনা, গৃহঋণ শোধ, নিজের বাড়ি সম্প্রসারণ, সংস্কার, নবীকরণ ইত্যাদি কারণে। বিশেষ প্রয়োজনের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনও কারণের উল্লেখ করা হয়নি। এতে পুরো ৭৫% টাকাই তুলে নিতে পারেন সদস্য।
পিএফের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং ইউটিইউসির সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ বলেন, ‘‘নতুন নিয়মে পিএফের টাকা তোলা অনেক সহজ হয়েছে। তবে এতে টাকা তোলার ঝোঁক বৃদ্ধির আশঙ্কা। বিশেষত গরিব মানুষের। সে ক্ষেত্রে তাঁরা কিন্তু অবসরের পরে কম টাকা হাতে পাবেন। এতে প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য অর্থাৎ অবসরকালীন জীবনে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।’’