এ বছর দফায় দফায় মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট (যে সুদে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক ঋণ দেয়) কমিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাঙ্কগুলিও ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। যাতে শিল্প সংস্থাগুলি কম খরচে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারে। তাতে লগ্নি এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে। কিন্তু রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে ব্যাঙ্ক থেকে শিল্পকে দেওয়া ঋণ বৃদ্ধির হার উল্টে কমেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের বক্তব্য, বিশ্ব বাজারের অনিশ্চিত অবস্থার ফলে রফতানির চাহিদা কমেছে। তার প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও ব্যাঙ্ক ঋণে। অন্য একটি অংশের আবার বক্তব্য, জিএসটি কমার ফলে বাজারে জিনিসপত্রের চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে (২০২৫-এর অক্টোবর থেকে ২০২৬-এর মার্চ) শিল্প ঋণের ছবিতে বদল আসতে পারে।
সম্প্রতি ৪১টি নির্বাচিত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের ঋণের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। খাদ্য বাদ দিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্রকে দেওয়া ঋণের ৯৫% আসে এই ব্যাঙ্কগুলি থেকে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া পক্ষের হিসাবে এখানে বৃদ্ধির হার ১০.২%। যা আগের বছরের একই সময়ে ১৩% ছিল। কিন্তু সবচেয়ে নজরে পড়ার মতো বিষয়, শিল্প ক্ষেত্রে ঋণ বাড়লেও সেই বৃদ্ধির হার নেমেছে ৭.৩ শতাংশে।
বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বারের ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা কমিটির চেয়ারম্যান স্মরজিৎ মিত্রের বক্তব্য, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার ফলে রফতানি মার খাচ্ছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের উৎপাদন ক্ষেত্রে। সাধারণত উৎপাদনের বরাত প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে আসে। সরবরাহ হয় তৃতীয় ও চতুর্থ ত্রৈমাসিকে। বরাত কমার ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অনেক সংস্থাই কমিয়েছে। খুচরো ও ব্যক্তিগত ঋণও কমেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঋণ বৃদ্ধির হার আরও কমবে।’’ কেন্দ্র অবশ্য বার বার বলে আসছে, ব্যাঙ্ক ছাড়াও অন্যান্য সূত্র থেকে পুঁজি সংগ্রহ করছে শিল্প সংস্থা। সম্প্রতি কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন বলেছেন, শেয়ার এবং বিভিন্ন ধরনের ঋণপত্র থেকে পুঁজি সংগ্রহ বেড়েছে। সেগুলিকে একত্রিত করেই শিল্পের কর্মকাণ্ডের হিসাব কষতে হবে।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফসি) দেওয়া ব্যাঙ্ক ঋণ বৃদ্ধির হার ১০% থেকে নেমেছে ৪ শতাংশে। পরিষেবা ক্ষেত্রে তা ১৩.৭% থেকে কমে হয়েছে ১০.২%।