বাজারের সময়টা ভাল যাচ্ছে না। টানা ছ’সপ্তাহ সূচক নেমেছে, ২০২০-র পরে এই প্রথম। ছোট-মাঝারি শেয়ার তেমন না পড়লেও, বেশির ভাগ বড় মাপেরগুলি ধরাশায়ী হয়েছে। যদিও মূল্যায়ন সংস্থা মুডি’জ় চলতি বছরে ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে ৭% করেছে।
অগস্টে চড়েছে খুচরো (৪.৮২%) এবং পাইকারি (৯.৯২%) মূল্যবৃদ্ধির হার। যা উস্কে দিয়েছে সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কাকে। বাজার মনে করছে, দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বরে সুদ বাড়াবে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। পশ্চিম এশিয়ায় আশু যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই। হরমুজ় প্রণালী এখনও বন্ধ। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের লাগছে আরও বেশি। ফলে বিদেশি মুদ্রা তো বেরিয়ে যাচ্ছেই। দামও বাড়ছে জিনিসের। অশোধিত তেল এমন চড়া থাকলে দেশে আবার পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়তে পারে। এ বছর বর্ষার প্রায় ১৫% ঘাটতিও খাদ্যপণ্যের দামকে ঠেলে তুলবে। তাতে আরও জোরদার হবে সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা। মূল্যবৃদ্ধি রুখতে আমেরিকা, জাপান ইতিমধ্যেই সুদ বাড়িয়েছে। ফলে বেড়েছে তাদের বন্ড ইল্ড। বিদেশে বন্ড থেকে আয় বাড়লে ভারতে ছাড়বে আরও বিদেশি লগ্নি। বর্তমানে লাগাতার এ দেশে শেয়ার এবং বন্ড বিক্রি করছে তারা। ফলে ডলার বাড়ছে, পড়ছে টাকা।
আমেরিকা ফের ভারতে ১০০% শুল্ক চাপানোর পথে এগোচ্ছে। এক বছর বাড়াচ্ছে এইচওয়ানবি ভিসার উপর ১,০০,০০০ ডলার ফি-র মেয়াদও। সিদ্ধান্ত দু’টি ধাক্কা দিতে পারে ভারতীয় অর্থনীতিকে।
ভারতে অবশ্য বাজার দুর্বল থাকলেও নতুন শেয়ারের (আইপিও) জোয়ার এসেছে। শুধু এ মাসের শেষ ১৫ দিনেই বাজারে শেয়ার ছাড়ছে এক ডজন সংস্থা। এর অন্যতম এনএসই। ২২,৫৬৮ কোটি টাকার এই আইপিও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম, হুন্ডাই মোটরসের পরে। ১৭ সেপ্টেম্বর খুলেছে। দু’দিনে আবেদন এসেছে মোট ছাড়া শেয়ারের থেকে বেশি শেয়ার কেনার জন্যে। আজ বিকেলে বন্ধ হবে। নথিবদ্ধ হবে চলতি সপ্তাহেই। এর আগেও বেশ কিছু আইপিও এসেছে। এগুলির বাজার থেকে মোটা টাকা শুষে নেওয়াও শেয়ার সূচকের দুর্বলতার কারণ।
লগ্নি আসছে ফান্ডেও। তবে বড় শেয়ার-ভিত্তিক ফান্ডের (লার্জ ক্যাপ ফান্ড) তুলনায় বেশি লগ্নি টানছে ছোট-মাঝারিগুলি (মিড ক্যাপ, স্মল ক্যাপ ফান্ড)। কারণ, দু’বছর হল এগুলি ভাল রিটার্ন দিচ্ছে। হতাশ করছে লার্জ ক্যাপ ফান্ড। এই দু’বছরেই বেশি পড়েছে সেনসেক্স-নিফ্টি। ২০২৪-এর ২৬ সেপ্টেম্বর সেনসেক্স ছিল সর্বোচ্চ, ৮৫,৮৩৬ অঙ্কে। গত শুক্রবার নেমেছে ৭৪,২৯৫-এ। দু’বছরে পতন ১৩.৪৪%। বড় মেয়াদের জন্য সেই সময়ে যাঁরা এক কিস্তিতে বড় ফান্ডে লগ্নি করেছেন, তাঁরা কিছুটা হতাশ।
(মতামত ব্যক্তিগত)