আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তার পরেই বছরের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোয় মেতে উঠবে আপামর বাঙালি। সেই লক্ষ্যে শুরু হয়েছে দেদার কেনাকাটা। বাহারি পোশাক, জুতো থেকে প্রসাধন সামগ্রী কিনতে দোকান-বাজার-শপিং মলগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। সেখানে লেনদেনে নগদের বদলে অনেকেই ব্যবহার করছেন ক্রেডিট কার্ড। কারও আবার রয়েছে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই দুইয়ের মধ্যে কোনটা বেশি লাভজনক?
ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিগত ঋণের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার আগে উৎসবের মরসুমে খরচের পরিমাণ ঠিক করার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ছোটখাটো কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রথমটিকেই আদর্শ বলে চিহ্নিত করেছেন তাঁরা। কারণ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেডিট কার্ডের কিস্তি পরিশোধের সুযোগ পেয়ে থাকেন গ্রাহক। তা ছাড়া, এর জন্য আলাদা করে কোনও ঋণের আবেদন করতে হয় না তাঁকে।
আরও পড়ুন:
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের দ্বিতীয় সুবিধা হল, কেনাকাটার খরচকে মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহক। ফলে, অক্টোবরের ধার যে নভেম্বরেই মিটিয়ে ফেলতে হবে, তা কিন্তু নয়। এর জন্য তিন থেকে ছ’মাস বা আরও বেশি সময় পেতে পারেন তিনি। তবে সে ক্ষেত্রে সুদবাবদ বাড়তি টাকা গুনতে হবে তাঁকে।
এ ছাড়া, ক্রেডিট কার্ডে আরও একটি সমস্যা রয়েছে। সেটা হল, এর মাসিক কিস্তির সুদ ও প্রসেসিং ফি-র উপর পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি (গুড্স অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) ধার্য করে থাকে সরকার। ব্যক্তিগত ঋণে এই সমস্যা নেই। তাই খরচের অঙ্ক বেশি হলে এবং দীর্ঘ মেয়াদে সেটা পরিশোধ করতে চাইলে দ্বিতীয়টি বেছে নেওয়া ভাল, বলছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন:
ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক এবং সেটা পরিশোধের মেয়াদ আগে থেকে নির্ধারিত করে থাকে ব্যাঙ্ক। যদিও এর সুদের হার আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর, ঋণদাতা ও ঋণের শর্তের উপর ভিত্তি করে বদলাতে পারে। এতে শুধুমাত্র প্রসেসিং ফি-র উপর জিএসটি দিতে হয় গ্রাহককে।
একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি ক্রেডিট কার্ডে এক লাখ টাকার কেনাকাটা করলেন। বার্ষিক ১৬ শতাংশ সুদের হারে ১২টি কিস্তিতে ওই অর্থ পরিশোধ করবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে জিএসটি যোগ করে প্রতি মাসে তাঁকে দিতে হবে আনুমানিক ১২,৮৩৫ টাকা। একই ভাবে ১২ মাসের জন্য ওই টাকা ব্যক্তিগণ ঋণ হিসাবে নিলে সুদের পরিমাণ ১৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তখন অন্যান্য খরচ ধরে ৮,৯৫১ টাকা হবে তাঁর মাসিক কিস্তি।