সদ্য সমাপ্ত বাদল অধিবেশনে সংশোধনী বিল ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ়’ পাস হয়েছে সংসদে। ফলে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) লেনদেনের উপর মাশুল বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ধার্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তথ্য বলছে যে, গত পাঁচ বছরে ডিজিটাল বা ইউপিআই লেনদেনের গতি কমেছে। একই সময়ে মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ২০২০-’২১ সালে জনগণের হাতে থাকা নগদ অর্থের বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ, প্রায় ১৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ এই হার কমে প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এলেও, এর পর থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আরবিআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ‘দ্য হিন্দু’র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, জনগণের হাতে থাকা নগদ অর্থের বৃদ্ধির হার ২০২৪-২৫ সালে ৬.৫ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে ১২ শতাংশ হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত জনগণের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১.৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
অন্য দিকে, ‘ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)’-এর তথ্য অনুযায়ী এই সময়ে ইউপিআই লেনদেনের হার কমেছে। ২০১৯-২০ সালে ইউপিআই লেনদেনের বৃদ্ধির হার ছিল ১৩৩ শতাংশ, যা ২০২০-২১ সালে কমে প্রায় ৯৫ শতাংশে নেমে আসে। কোভিড-১৯ অতিমারির পর এই হার আবার বেড়ে ১০৫ শতাংশে পৌঁছোলেও, তার পর থেকে ইউপিআই প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের গতি ধারাবাহিক ভাবে কমেছে এবং ২০২৫-২৬ সালে বৃদ্ধির হার ২০.৩ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের এপ্রিল-অগস্ট সময়ের তুলনায় ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে (অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত) ইউপিআই লেনদেনের বৃদ্ধির হার আরও কমে ১৮.৭ শতাংশ হয়েছে। যদিও ইউপিআই লেনদেনের এই ১৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি একই সময়ে জনগণের হাতে থাকা নগদ অর্থের ১৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় এখনও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, নগদ অর্থ ও ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের হার বৃদ্ধির বিষয়টি উচ্চতর মুদ্রাস্ফীতির হারের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
যদিও ইউপিআই পরিষেবায় মাশুল বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। সংসদে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছেন, “মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের উপরই প্রযোজ্য। গ্রাহকদের ওপর নয়।” তবে বিরোধী দলের সদস্যেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত এই খরচের বোঝা গ্রাহকদের ওপরই চাপানো হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আরবিআইয়ের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর নিয়ে এখনই আলোচনা করাটা সময়ের আগে আলোচনা করার মতো বিষয়। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন, লেনদেন ব্যবস্থার মতো পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং এর খরচ কাউকে না কাউকেই বহন করতে হবে।