যে ক’টি বিষয় ভারতের অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে, তার মধ্যে আছে বৃষ্টিতে ঘাটতির আশঙ্কা, চড়া মূল্যবৃদ্ধি, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা, তেলের দামে অস্থিরতা এবং ঊর্ধ্বমুখী ডলার। সব ক’টিই আবার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই সমস্ত ঘটনার উপরেই নির্ভর করে আন্দোলিত হয় শেয়ার ও ঋণপত্রের (বন্ড) বাজার। তাইলগ্নির আগে এই সব বিষয় বুঝে নেওয়া জরুরি।
পশ্চিম এশিয়াতে যুদ্ধ থেমেও না থামায় তেলের দাম উপরের দিকেই থাকছে। যে দিনই তা একটু বেশি বাড়ছে, সে দিন সূচক পড়ছে। দাম সামান্য মাথা নামলে বাজার উঠছে। তেলের দাম বাড়লেডলারও মাথা তোলে। ডলার বাড়ে বিদেশি লগ্নিকারীরা শেয়ার বেচেপুঁজি তুললেও। যেমন, গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলে ৯০ ডলারের নীচে নামায় সূচক চার দিন উঠেছে। তার আগের সপ্তাহে দাম ১০০ ডলার ছোঁয়ায় পাঁচ দিনই তা পড়েছিল। সুতরাং এতে লক্ষ্য রাখতেহবে লগ্নিকারীদের।
জুনে দেশে খুচরো ও পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪.৩৮% এবং প্রায় ১০%। বৃষ্টি কম হলে কৃষি উৎপাদন কমতে পারে, যা আরও ঠেলে তুলবে দামকে। এই অবস্থায় আজ, সোমবার থেকে ঋণনীতি বৈঠকে বসবে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। বুধবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা। দাম চড়লে রেপো রেট (যে সুদে ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয় আরবিআই) বাড়িয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। রেপো বাড়লে ঋণ-আমানতে সুদ বাড়ে। ফলে মানুষ যেমন কম ঋণ নেন, তেমনই বেশি করে সঞ্চয় করেন। বাজারে নগদ ও পণ্যের চাহিদা কমে। মাথা নামায় জিনিসের দাম।
সুদ বাড়লে সংস্থাগুলির খরচমাথা তোলে এবং কমে শিল্পেঋণের চাহিদা। এতে বাড়ি-গাড়ি ঋণের চাহিদা কমতে পারে।এগুলির বিক্রি কমলে মার খায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প। সব মিলিয়ে ধাক্কা খায় আর্থিক কর্মকাণ্ড তথা জাতীয় উৎপাদন। তাই সুদ-সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিচার করতে হয় আরবিআই-কে। যে কারণে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক এই দফায় রেপো না-ও বাড়াতে পারে বলে ধারণা। তবে জিনিসের দাম চড়তে থাকলে অক্টোবরে সেই সম্ভাবনা থাকবে।
সুদে নজর রাখতে হবে বন্ডে লগ্নিকারীদেরও। কারণ, তা উঠলে আগে ইস্যু করা বন্ডের বাজার দর কমে এবং তার প্রকৃত আয় (ইল্ড) বাড়ে। এতে সরকারের ঋণপত্র ছেড়ে ঋণ নেওয়ার খরচও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ সুদ বৃদ্ধি কেন্দ্র ও পুরনো লগ্নিকারী, কারও কাছেই কাম্য নয়। নতুনেরা কম দামে বন্ড কিনতে পারবেন।
(মতামত ব্যক্তিগত)