E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

চিনির দাম চড়ছে, কাঠগড়ায় ই-২০ পেট্রল

পরিস্থিতি সামলাতে মোদী সরকারের নীতিতে একেবারে উলটপুরাণ। এই মরসুমে মোদী সরকার চিনি রফতানিতে ছাড় দিয়েছিল। প্রথমে ১৫ লক্ষ টন, তার পরে ২০ লক্ষ টন পর্যন্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০২৬ ০৭:০৮
চিনির দাম বাড়ছে।

চিনির দাম বাড়ছে। ফাইল চিত্র।

কুড়ি দিনে কুড়ি টাকা! উৎসবের মরসুম এগিয়ে আসছে। চিনির দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সঙ্গে দোসর গুড়ও। চিনির দর যেমন গত ২০ দিনে কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়েছে, তেমন গুড়ের দামও ২৫ টাকা বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষে চিনির দাম প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৪৬ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। দেশের বহু বাজারে এখন তা ৬৫ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। কলকাতার বহু বাজারে ইতিমধ্যেই চিনির দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা। সাধারণ গৃহস্থের সংসার খরচ নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। এমনিতেই বাজারে আনাজ, দুধ, ভোজ্য তেল-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ঊর্ধবমুখী। চায়ের দোকানদার, মিষ্টির দোকানের মালিকদের মাথায় হাত। লাভের গুড় কি চিনিতেই খেয়ে যাবে!

পরিস্থিতি সামলাতে মোদী সরকারের নীতিতে একেবারে উলটপুরাণ। এই মরসুমে মোদী সরকার চিনি রফতানিতে ছাড় দিয়েছিল। প্রথমে ১৫ লক্ষ টন, তার পরে ২০ লক্ষ টন পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ডিগবাজি খেয়ে সরকার চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোট ১০ লক্ষ টন চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে। কোনও শুল্ক বসবে না। দেশের বাজারে চিনিতে টান পড়ায়, গত দশ বছরে এই প্রথম চিনি আমদানি করতে হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্রের ই-২০ পেট্রলের নীতি মেনে ইথানল তৈরির জন্য চিনির জোগান দিতেই কি বাজারে টান পড়েছে? কারণ, দেশের বাজারে বছরে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টন চিনি লাগে। চিনির মরসুম শুরু হয়েছে গত বছর ১ অক্টোবর। এ বছর ৩ কোটি ১১ লক্ষ টন মতো চিনি উৎপাদন হবে বলে অনুমান ছিল। এর মধ্যে ৩১ লক্ষ টন ইথানল তৈরির জন্য সরানো হয়েছে। তার উপরে চিনি রফতানি হয়েছে। উৎসবের মরসুমের জন্য অগস্ট থেকে চিনির চাহিদা বাড়তেই চিনিকল থেকে জোগানে টান পড়ছে।

আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালের অভিযোগ, ‘‘পুরোপুরি অশিক্ষিতদের নিয়ে তৈরি সরকার। কী করলে কী হবে, তা কেউ কিছু জানে না। তেল আমদানিতে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করতে আখ থেকে ইথানল তৈরি হচ্ছিল। ফলে চিনিতে টান পড়েছে। এখন বিদেশি মুদ্রা খরচ করেই চিনি আমদানি হবে!’’ কংগ্রেসের প্রশ্ন, মহারাষ্ট্রের চিনিকলের মালিকদের ফায়দা পাইয়ে দিতেই কি প্রথমে চিনি রফতানি, তার পরে চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত?

মোদী সরকার বৃহস্পতিবার চিনির মজুতদারিতে বিধিনিষেধ জারি করেছে। কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী জানিয়েছেন, যে সব বড় ব্যবসায়ী মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন, তারা ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবেন না। এঁদের মধ্যে মিষ্টি, নরম পানীয়, মোড়কে ভরা খাবার প্রস্তুতকারী থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা, হোটেল-রেস্তরাঁগুলিও রয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Sugar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy