এ বারও রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার তুলনায় অর্থনীতির অগ্রগতির পথ সুগম রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিল। যে কারণে জিনিসপত্রের দাম মাথা তুললেও বাড়াল না রেপো রেট (যে সুদে তারা বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয়)। ফলে বিভিন্ন ধরনের ঋণে সুদের হার এখনই বাড়ছে না। ঋণে সুদ বৃদ্ধি না হওয়া শিল্পের পক্ষে সদর্থক। অর্থনীতি সম্পর্কে শীর্ষ ব্যাঙ্কের আগাম অনুমানও আশা জাগানোর মতো। এক দিকে যেমন তারা চলতি অর্থবর্ষে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বভাস ৫.১% থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়েছে, তেমনই আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৬% থেকে বাড়িয়ে করেছে ৬.৭%। শিল্প এবং শেয়ার বাজারের জন্য এটা আশাপ্রদ।
হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকলেও আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ থামার আশায় বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেলও ফের ১০০ ডলার থেকে নেমেছে ৮০ ডলারের কাছে। পাশাপাশি অনাবাসী ভারতীয়েরা বড় পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা ভারতীয় ব্যাঙ্কের এফসিএনআর জমা প্রকল্পে পাঠাচ্ছেন। এই দুইয়ের জেরে টাকাকে কিছুটা ঠেলে তুলে ডলার মাথা নামিয়েছে। বহু দিন পরে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলিও ভারতের বাজারে ফিরতে শুরু করেছে। ৭ অগস্ট পর্যন্ত তারা নিট লগ্নি করেছে ২৮৮৮ কোটি টাকা। বিদেশি লগ্নি বাড়লে শেয়ার বাজার শক্তি পাবে। আরও মাথা নামাবে ডলার। অর্থাৎ ছোট থেকে মাঝারি মেয়াদে বাজারের চাঙ্গা হওয়া নির্ভর করবে যুদ্ধ শেষ হওয়া, হরমুজ় খোলা, তেলের আন্তর্জাতিক দাম ৮০ ডলারের নীচে থাকা, অনাবাসীদের জমা এবং বিদেশি লগ্নি অব্যাহত থাকার উপরে।
কিছু নেতিবাচক বিদেশি শর্তের জন্য বাজার দুর্বল থাকলেও, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কিন্তু যথেষ্ট মজবুত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—জুলাইয়ে জিএসটি সংগ্রহ আগের বছরের তুলনায় ১৫.৪% বেড়ে পৌঁছেছে ২,১১,২০৫ কোটি টাকায়। এপ্রিল-জুলাই চার মাসে তা ১০.১% বেড়ে হয়েছে ৮.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা। গাড়ি বিক্রি ৩৩.৬% বেড়ে ছুঁয়েছে ৪,৬৩,২৪৯। গাড়ি বিক্রি বাড়লে উপকৃত হয় ইস্পাত, টায়ার, রং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (গাড়ি ঋণদাতা), গাড়ি সারাই, বৈদ্যুতিক এবং বৈদ্যুতিন-সহ বেশ কিছু শিল্প। বাড়ে কর্মসংস্থান।
কিছু সংস্থা আকর্ষণীয় ত্রৈমাসিক ফলও উপহার দিয়েছে। এপ্রিল-জুনে ২২.৮১% বেড়ে এলআইসির লাভ পৌঁছেছে ১৩,৪৯২ কোটি টাকায়। বার্জার পেন্টসের লাভ বেড়েছে ২৮.৫৫%, ভারতী এয়ারটেলের ৩৭.৩%, ওএনজিসি-র দ্বিগুণেরও বেশি, লুপিনের ১৬%। টাইটানের একত্রিত নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৫%, হিন্দালকোর ৭৫ শতাংশরও বেশি। ১৩.৭৩% বেড়ে স্টেট ব্যাঙ্কের একত্রিত নিট লাভ ২৪,১১৩ কোটি টাকা। বাকিগুলি বেরোবে আগামী শুক্রবারের মধ্যে।
এখন অর্থ দফতরকে ভাবাচ্ছে মূলত বর্ষার ঘাটতি। জুনের ১ থেকে অগস্টের ৭ তারিখ পর্যন্ত দেশে ১১% কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর আমেরিকার ১০০% শুল্ক চাপানোর হুমকিতেও।
(মতামত ব্যক্তিগত)