ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এবং অর্থনীতি সংক্রান্ত বৈঠকে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির কথা তুলে ধরলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে বাণিজ্য বড়িয়ে এই ঘাটতি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
মস্কো সফররত জয়শঙ্করের কথায়, “গত কয়েক বছরে দু’দেশের বাণিজ্য কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫-২৬ সালে তা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও ব্যাপক বেড়েছে। ৬.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ঘাটতি এখন ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।” গত কয়েক বছরে দেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাশিয়া থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিপুল পরিমাণ অশোধিত তেল কিনেছে ভারত। সেটাই যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতিকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তা অবশ্য সরাসরি উল্লেখ করেননি বিদেশমন্ত্রী। তবে এই ঘাটতি কমানোকে ভারতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন। জয়শঙ্কর বলেন, “নয়াদিল্লি চাইছে রাশিয়ার বাজারে আরও বেশি ভারতীয় পণ্য প্রবেশ করুক।” শুল্কের বাধা কমানো, অর্থপ্রদানের ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
গত কাল রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠকের পর জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে সরব হয়েছে রাশিয়া। পুতিন জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি চালু থাকবে। আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে আসতে ভারতের অবস্থান যে বদলায়নি, মস্কো এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।
তেল, পেট্রোপণ্য এবং কয়লার সরবরাহের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়া হাইড্রোকার্বন ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করছে। রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, রাশিয়া সে দেশের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির বিনিয়োগে আগ্রহী। অন্য দিকে পুতিনের বক্তব্য, ভারতে জ্বালানির পাশাপাশি সার সরবরাহও বাড়াচ্ছে রাশিয়া।