খাবার, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অন্য জিনিস-সহ সব কিছুর চড়া দাম চিন্তা বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে চড়ছে সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা। আজ থেকে বৈঠকে বসছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি কমিটি। তিন দিনের পর্যালোচনা শেষে বুধবার জানা যাবে সুদের হার।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, গত কয়েকটি ঋণনীতিতে সুদের হার (রেপো রেট, যে সুদে আরবিআই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয়) ৫.২৫ শতাংশে স্থির রাখার পরে এ বার বাড়ানো হতে পারে ২৫ বেসিস পয়েন্ট। বন্ধন লাইফ ইনশিয়োরেন্সের সমীক্ষায় দাবি, এই দফায় সুদ বৃদ্ধির হার হতে পারে ৫০-৭৫ বেসিস পয়েন্ট। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সত্যিই ফের সুদ বাড়লে ঋণ শোধের মাসিক কিস্তি (ইএমআই) খাতে খরচ বাড়বে সাধারণ ঋণগ্রহীতার। বিপাকে পড়বেন বহু মানুষ, এমনকি চাহিদা কমার ধাক্কায় অর্থনীতিও।
ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা কণিকা পশ্রিচার মতে, একে তো বিভিন্ন দেশে সুদের হার বাড়ছে। তার উপর দেশের আর্থিক বৃদ্ধিও তলিয়ে যায়নি। ফলে মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে আরবিআই-এর সামনে সুদ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। একই মত শরিক মূল্যায়ন সংস্থা ক্রিসিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ দীপ্তি দেশপাণ্ডেরও। তাঁর ধারণা, শুধু অক্টোবরে নয়, আগামী ঋণনীতিগুলিতেও সুদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে আরবিআই।
বন্ধন লাইফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ আগরওয়ালের মতে, আমেরিকায় সুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের বাজারে পণ্যের দাম, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার, বাজারে নগদের জোগান, আর্থিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে আরবিআই। ফলে এ দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্টই নয়, সুদ বাড়তে পারে আরও বেশি। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার অবশ্য সম্প্রতি জানিয়েছে, আমেরিকার সুদ বৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে ভারতের বরং উচিত নিজেদের মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি বুঝে ঋণনীতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া। সে ক্ষেত্রে টাকা-ডলারের বিনিময়মূল্যকে আর্থিক পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজে লাগানোযেতে পারে।