দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে টাটা গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তাই টাটা সন্স এবং টাটা ট্রাস্টসের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধ কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব মিটিয়ে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সোমবার তিনি জানান, এই মতবিরোধ নিয়ে জনগণের মধ্যে খুব বেশি চর্চা হওয়া ঠিক নয়। তবে সরকার দু’পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবে কি না, তা নিয়ে মুখ খোলেননি নির্মলা। দেশ গঠনে পার্শি সম্প্রদায়ের ভূমিকা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’। ভারতের অর্থনীতিতে এর ভূমিকা রয়েছে। তাই নিজেদের মধ্যে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পথে হাঁটা উচিত। এ জন্য সকলকে পেশাদারি মনোভাব বজায় রাখার বার্তাও দিয়েছেন মন্ত্রী।
এ দিকে, টাটা সন্সের শেয়ার বাজারে নথিভুক্তি, সংস্থার চেয়ারম্যান পদে এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই এ বার টাটাদের দু’টি ট্রাস্টসের পর্ষদে না ফেরার বার্তা দিলেন আইনজীবী দারিয়াস খাম্বাটা। তিনি বর্তমানে দোরাবজি টাটা ট্রাস্টস এবং রতন টাটা ট্রাস্টসের অছি (ট্রাস্টি) হিসেবে রয়েছেন। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং সিইও সিদ্ধার্থ শর্মাকে পাঠানো চিঠিতে খাম্বাটার বক্তব্য, অছি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাকি ট্রাস্টিদের সায় লাগে। কিন্তু সেই সায় পেতে হলে তাঁকে হয়তো স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দিতে হবে।
ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টাটা সন্সের নথিভুক্তি বাতিলের আর্জি নিয়ে আন্তরিক ভাবে সংস্থা এগিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন খাম্বাটা। বাজারে নথিভুক্তির বিপক্ষে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, সেটা হলে টাটা সন্সকে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার পিছনে ছুটতে হবে। কথা রাখার জন্য টাটা টেলিকমিউনিকেশন্সের বকেয়া মেটানো, এয়ার ইন্ডিয়া হাতে নেওয়া, সেমিকনডাক্টরে লগ্নির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে না। এ সব কথা বিচার করে ৯ নভেম্বর এই পদে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে আর নতুন করে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁর দাবি।