E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কমেছে বিদেশি মুদ্রার আগমন, বেড়েছে আমদানি খরচ, আয়-ব্যয়ে উদ্বেগের ছবি অর্থ মন্ত্রকের রিপোর্টে

টাকার দামের পতন ঠেকাতে ও বিদেশি মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়া রুখতে ইতিমধ্যেই খরচে রাশ টানার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিস্থিতি যে খুব একটা ভাল নয়, এ বার উঠে এল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টেও।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৭:২২

— প্রতীকী চিত্র।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে ধাক্কা খেয়েছে ভারতে বিদেশি মুদ্রা আসা। উপরন্তু অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও টাকার দামের অবমূল্যায়নের প্রভাবে মাথা তুলছে আমদানি খরচ। যা চলতি খাতে ঘাটতিকে ঠেলে তুলছে। ফলে চাপ বাড়ছে দেশের অর্থনীতির উপরে। টাকার দামের পতন ঠেকাতে ও বিদেশি মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়া রুখতে ইতিমধ্যেই খরচে রাশ টানার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরিস্থিতি যে খুব একটা ভাল নয়, এ বার উঠে এল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টেও। যা জানাচ্ছে, গত অর্থবর্ষে ভারতে যে পরিমাণ ডলার ঢুকেছে, বেরিয়ে গিয়েছে তার থেকে ৩০৮০ কোটি বেশি। তার আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ডলার বেরোনোর হার দাঁড়িয়েছে ছ’গুণ। যার জেরে কমেছে বিদেশি মুদ্রা ভান্ডার।

শীর্ষ ব্যাঙ্কের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদেশি মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণ মূলত তিনটি—

  • বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম বাড়ায় ভারতের আমদানি খরচ অতিরিক্ত বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় রফতানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় মাথা তুলেছে বাণিজ্য ঘাটতি।
  • বিভিন্ন দেশে শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার বাড়ানোয় ভারতের শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিচ্ছে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি। ফলে বিদেশি মুদ্রা আসা কমেছে।
  • ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম তলানিতে নামায় আমদানি বাবদ খরচ আরও বেড়েছে, যা বিদেশি মুদ্রা ভান্ডারের উপরে চাপ তৈরি করছে।

আরবিআই-এর আশঙ্কা, এই ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। আমদানি খরচ বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে জিনিসপত্রের দামে। ঘাটতি মেটাতে শীর্ষ ব্যাঙ্ককে নিজস্ব তহবিল থেকে ডলার বিক্রি করতে হবে। সেটা দেশের দীর্ঘকালীন বিদেশি মুদ্রা নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে। দেশের অর্থনীতির গতি শ্লথ হলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়বে। ফলে চাপ পড়বে কোষাগারে। এই আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বাজার খোঁজা, রফতানি শুল্কে ছাড়, প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি টানতে সংস্কারের পথে হাঁটা, বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ডলার সাশ্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Reserve Bank of India (RBI) Reserve bank of India Indian Economy Economic Growth

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy