বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের চড়া দরের জেরে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির বিপুল লোকসান হচ্ছে দাবি করা হয়েছিল। তবে তথ্য বলছে, জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৩০,১০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল (আইওসি), ভারত পেট্রলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম। গত বছরের থেকে ৬৮.৩% বেশি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তেল সংস্থার লাভ হলেও জ্বালানির দামে সুরাহা নেই কেন আমজনতার? নভেম্বরেও পেট্রল, ডিজ়েল, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম কমেনি। কলকাতায় সিলিন্ডার রইল ৯৬৮ টাকা। পেট্রল লিটারে ১১৩.৫১, ডিজ়েল ৯৯.৮২ টাকা। বরং বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ও বিমান জ্বালানি এটিএফ আরও বাড়ল। আশঙ্কা, এতে ছোট দোকানে খেতেও বেশি টাকা লাগবে। বাড়বে উড়ান ভাড়া।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে এপ্রিল-জুনে তেল সংস্থাগুলির অবশ্য ১৮,১৫০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল। তবে জুলাই-সেপ্টেম্বরে মূলত তেল শোধন করে লাভ করেছে তারা। আগে সস্তায় কেনা তেলও সুরাহা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ইরান যুদ্ধের আগে বিশ্ব বাজারে তেলের ব্যারেল ৬০-৬৫ ডলারে নামলেও দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমেনি। সংস্থাগুলি আগের ক্ষতি মেটানোর যুক্তিতে গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) বিপুল লাভ ঘরে তোলে, ৭৭,৮২১ কোটি টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বরের অঙ্ক তার প্রায় ৩৯%।
যুদ্ধে অশোধিত তেল দামি হওয়ায় দেশে বেড়েছে তেল-গ্যাসের দাম। এখন বিশ্ব বাজারে দাম ১১০ ডলারের উপরে থাকায় দেশে কমার প্রশ্ন নেই। অথচ জুলাই-সেপ্টেম্বরে আইওসি নজিরবিহীন মুনাফা কামিয়েছে। ৭৬১০ কোটি থেকে বেড়ে তা ছুঁয়েছে ২১,৬৩০ কোটি টাকা। তিন সংস্থা মিলিয়েও লাভ ৮০,০০০ কোটির কাছাকাছি। প্রশ্ন উঠছে, পেট্রলে ২০% ইথানল মেশানো জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ার পরেও লোকসানের বোঝা শুধু সাধারণ মানুষই বইছেন কেন?