প্রায় চার বছরের মাথায় রেপো রেট বৃদ্ধি করল ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৫.৫ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে সেটি। এর জেরে গৃহঋণে পরিবর্তনশীল (ফ্লোটিং) সুদের হারে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে প্রতি মাসের কিস্তি। ফলে খরচের অঙ্ক কতটা বাড়তে পারে, বর্তমানে সেই হিসাব কষছেন গ্রাহকদের একাংশ। উদাহরণের সাহায্যে সেটি বুঝে নেওয়া যাক।
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি ৩০ বছরের মেয়াদে ৫০ লক্ষ টাকা গৃহঋণ নিয়েছেন। বছরে ৭.৭৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে তাঁকে। এই হিসাবে তাঁর মাসিক কিস্তির পরিমাণ ৩৫,৮২১ টাকা। এখন রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই সুদের হার বেড়ে দাঁড়াবে আট শতাংশ। ফলে প্রতি মাসে ৩৬,৬৮৮ টাকা করে দিতে হবে তাঁকে। অর্থাৎ মাসে ৮৬৭ টাকা বেশি খরচ হবে ওই গ্রাহকের।
আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, কিস্তির হিসাবে এই অর্থ খুব সামান্য মনে হলেও বিষয়টি মোটেই সে রকম নয়। কারণ, বছরের পর বছর ধরে ওই বাড়তি অর্থ দিতে হবে গ্রাহককে। ফলে, সব মিলিয়ে সুদ বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা বেশি দেবেন তিনি। তবে, মাসিক কিস্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ পরিশোধের সময় বৃদ্ধির সুযোগ থাকছে তাঁর হাতে। সে ক্ষেত্রে বেশি দিন ধরে ধার শোধ করতে হবে তাঁকে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ মনে করেন, সেটা বেছে নেওয়া খুব লাভজনক নয়। বরং, ঋণের মেয়াদ না বাড়িয়ে মাসিক কিস্তির অঙ্ক বৃদ্ধির রাস্তায় হাঁটাই ভাল। কারণ, তাৎক্ষণিক খরচ কম হলেও লম্বা সময়ে বেশি সুদ গুণতে হবে তাঁকে। তা ছাড়া, আগামী দিনে ফের বাড়তে পারে রেপো রেট। তাতে ঋণের অঙ্ক আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এই হিসাব কেবলমাত্র পরিবর্তনশীল সুদের হারে গৃহঋণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যাঁরা স্থায়ী সুদের হারে টাকা ধার নিয়েছেন, অপরিবর্তিত থাকবে তাঁদের মাসিক কিস্তি। কারণ, ওই ঋণ আরবিআইয়ের রেপো রেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। পরিবর্তনশীল সুদে গৃহঋণের গ্রাহকদের অবিলম্বে মাসিক কিস্তি বৃদ্ধির বিষয়টি জানাবে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক।
প্রসঙ্গত, সুনির্দিষ্ট একটি সুদের হারে সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দিয়ে থাকে আরবিআই। অর্থনীতির পরিভাষায় একেই বলে রেপো রেট। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে পরিবর্তনশীল সুদের হারে নেওয়া আমজনতার যাবতীয় ঋণ। এর জেরে রেপো রেট বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ে সেগুলির মাসিক কিস্তিও।