আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ ও তার সিংহভাগ মালিকানা কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে দেশ জুড়ে দু’দিনের ধর্মঘট শুরু করলেন ব্যাঙ্কের অফিসার ও কর্মীরা।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয়ক কমিটি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০ শতাংশ অংশীদারি কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি-র অংশীদারি থাকলেও সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ কানাডার উদ্যোগপতি প্রেম বৎসের সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সের হাতে চলে যাবে। এর প্রতিবাদে দেশ জুড়ে আইডিবিআই-এর ২ হাজারের বেশি শাখার ১০ হাজার কর্মী ধর্মঘটে নেমেছেন। আইডিবিআইয়ের অফিসার, কর্মীদের ইউনাইটেড ফোরামের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বভারতীয় ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন এআইবিইএ-র সহ-সভাপতি এন কৃষ্ণণ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘কেন একটি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেচেদেওয়া হচ্ছে?”
আইডিবিআইয়ের অফিসার ও কর্মীদের দাবি, কেন্দ্র অন্তত এই ব্যাঙ্কের ৫১ শতাংশ অংশীদারি রাখুক। যাতে সরকারের হাতে সিংহভাগ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকে। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের অংশীদারি বিক্রিতে অভিযোগ উঠেছে, সরকার যে ন্যূনতম দর ঠিক করেছিল, তার থেকে কম দরে ফেয়ারফ্যাক্সকে ৬০ শতাংশ অংশীদারি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কংগ্রেস এ নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসি-র তদন্ত দাবি করেছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আগেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এর জবাব দিলেও, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ধর্মঘট নিয়ে তিনি মুখ খোলেননি। সোমবার মুম্বইয়ে এইচএসবিসি ইন্ডিয়া-র এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘ভারতের নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত। আমি প্রায়ই দেখি, বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও তাদের নিজেদের ক্ষেত্রে কী ঘটবে, তা নিয়ে আশঙ্কা থাকে। আমাদের অর্থনীতির ভিতের দিকে তাকান, মজবুত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা, স্থায়ী নেতৃত্ব, দেশের অর্থনীতিতে উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে তাকান। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির ভাষ্য নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলা দরকার।’’
উল্টো দিকে, কংগ্রেস নেতা শক্তিসিন গোহিল সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ তুলেছেন, আইডিবিআই লোকসানে চলা ব্যাঙ্ক নয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই ব্যাঙ্ক ৩০,১০৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। ব্যাঙ্কের অনুৎপাদিত সম্পদের হার ২%। যে সংস্থাকে এই ব্যাঙ্ক বেচে দেওয়া হচ্ছে, তারা প্রথমে কিছু টাকা মিটিয়ে আইডিবিআই-এর পুঁজি কাজে লাগিয়েই তার শেয়ার কিনবে বলে জানিয়েছে। গোহিল বলেন, ‘‘ফেয়ারফ্যাক্সের চেয়ারম্যান প্রেম বৎস নরেন্দ্র মোদীর খুবই ঘনিষ্ঠ। ২০১৭ সালে তিনি ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাত’ সম্মেলনে মোদীর প্রশংসা করে তাঁকে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান লি কুয়ান ইউ-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। হয়তো এই প্রশংসার জন্যই তাঁকে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বেচেদেওয়া হচ্ছে।’’