প্রচুর ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০১৬-এ প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা চালু করেছিল মোদী সরকার। এতে বহু প্রান্তিক মানুষের ঘরে দূষণহীন রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে বলেও একাধিক বার দাবি করেছে তারা। কিন্তু আসল ছবিটা যে অন্য কথা বলছে, তা উঠে এসেছে খোদ কেন্দ্রের তথ্যেই। দেখা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬)-এ দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলা গ্রাহক গোটা বছরে কোনও সিলিন্ডার কেনেননি (নো রিফিল বুকিং)। সংখ্যাটা প্রায় ২১.৭২ লক্ষ। যা শেষ চার বছরে বেড়েছে প্রায় ১৩০%। গত পাঁচ বছরের মধ্যে চারটিতেই সিলিন্ডার না কেনার তালিকায় সকলের আগে বাংলা। দ্বিতীয় স্থানে উত্তরপ্রদেশ। গত অর্থবর্ষে উজ্জ্বলায় একটিও সিলিন্ডার না কেনার সংখ্যা যোগী রাজ্যে প্রায় ২০.৬৩ লক্ষ। মধ্যপ্রদেশে প্রায় ১৮.৮৫ লক্ষ। সামান্য কর্নাটকে, মাত্র ৩.৪১ লক্ষ।
তেল মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত পয়লা জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে উজ্জ্বলা গ্রাহকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১.২৫ কোটি। সেই হিসাবে প্রতি ৫ জন গ্রাহকের মধ্যে এক জন সারা বছরে একটিও সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন না। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এতে স্পষ্ট অনেকেই উজ্জ্বলা সংযোগ নিয়েছেন। কিন্তু তা ব্যবহার করছেন না। প্রকল্প সফল হলে এটা হত না। বরং মোটামুটি ২০-২৫ শতাংশই নিয়মিত ভাবে রান্না করছেন বিকল্প জ্বালানিতে। সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২১-’২২ থেকে ২০২৪-’২৫ সাল পর্যন্ত এ রাজ্যে যথাক্রমে ৯.৫১ লক্ষ, ১৮.১৯ লক্ষ, ২১.৭৫ লক্ষ এবং ২০.৮৮ লক্ষ উজ্জ্বলা গ্রাহক বছরে একটি সিলিন্ডারও বুক করেননি। রাজ্যের ডিলার সংগঠনের দাবি, উজ্জ্বলা গ্রাহকদের অনেকেই যে বছরে একটি সিলিন্ডারও ব্যবহার করতে পারেন না, বিরোধী-সহ বিভিন্ন মহলের সেই দাবি এই তথ্যের মাধ্যমে স্বীকার করল কেন্দ্র।উজ্জ্বলা গ্রাহকদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে গড়ে সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে। এক মাত্র মধ্যপ্রদেশ ছাড়া বাকি বড় রাজ্যগুলিতে বছরে তা ৫। গোটা দেশ ধরলে প্রায় ৩। বর্তমানে উজ্জ্বলায় নাম লেখানো একটি দরিদ্র পরিবার বছরে মাত্র ৪টি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। ফলে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এমনিতেই হাজার টাকার কাছাকাছি দামে সিলিন্ডার কেনার সাধ্য নেই অনেকের। তার উপর সাহায্য কমানো হচ্ছে।
এ দিকে, উজ্জ্বলায় ভর্তুকি পেতে প্রতি বছর আধার ভিত্তিক কেওয়াইসি করা বাধ্যতামূলক। আপাতত ১৬ অগস্ট পর্যন্ত এই কাজ সারা যাবে। তার মধ্যে না করলে গ্যাসের খরচ বাড়বে। মিলবে না ভর্তুকিও। সূত্রের খবর, সব স্তরের গ্রাহকদের সুবিধার জন্য আগামী ১৫ ও ১৬ অগস্ট রাজ্যের বহু গ্যাস বিক্রেতা তাঁদের অফিসখোলা রাখছেন।