বাংলায় নতুন প্রকল্প তৈরির পথে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল (আইওসি)। তাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা লগ্নি করতে চলেছে তারা। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই প্রকল্পে হলদিয়ায় মোট ১৭৫ একর জমি লাগবে। ৮৫ একরের বন্দোবস্ত হয়েছে। বাকিটার জন্য রাজ্য কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এ দিন কলকাতায় জানান, কেন্দ্রের তরফে প্রকল্পটিতে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া হবে। সংস্থার চেয়ারম্যান অরবিন্দ সহানিও তাতে সায় দেন। মনে করা হচ্ছে, নতুন প্রকল্পের হাত ধরে হলদিয়া শোধনাগারের ক্ষমতা অনেকটা বাড়বে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, লগ্নির অঙ্ক হতে পারে কমপক্ষে ৭-১০ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পটি সম্পর্কে অবশ্য বিশদে বলতে রাজি হননি মুখ্যমন্ত্রী বা তেলমন্ত্রী। শুভেন্দু শুধু জানান, হলদিয়ায় আইওসি-র উৎপাদন ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়বে। এখনও পুরো জমি পায়নি সংস্থাটি। পেলেই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করবে। তবে প্রকল্পটি যে রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, সেই বার্তা স্পষ্টই দিয়েছেন তিনি। এ দিন পুরীর দাবি, এখন হলদিয়ায় বার্ষিক ৯০ লক্ষ টন তেল শোধন হতে পারে। অশোকনগর ছাড়া রাজ্যের আরও চারটি জায়গায় গ্যাস ও তেল উত্তোলনের পরীক্ষাও করা হচ্ছে। ইতিবাচক খবর মিলবে বলেই আশা।
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল নিয়ে যথেষ্ট চাপের মধ্যে পড়েছিল ভারত। যদিও হরদীপ সিংহ পুরী এ দিন মার্চেন্টস চেম্বারের এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারত ভালই সামলেছে। তাঁর দাবি, এর প্রমাণ, বিশ্ব জুড়ে যখন জ্বালানির দাম ৭৫-৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভারতে সেই বৃদ্ধি মাত্র ৭-৮ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পেট্রল-ডিজ়েল থেকে রান্নার গ্যাস, জ্বালানির দাম অনেকটা চড়েছে। এলপিজি নিয়ে যে চিন্তা আছে, তা পুরী এ দিন মেনেও নিয়েছেন। কারণ, ভারতে এর গ্রাহক ৩৩.৪০ কোটি।
২৮-৩১ জানুয়ারি কলকাতায় ‘ইন্ডিয়ান এনার্জি উইক’-এর আসর বসছে বলেও জানান পুরী। তাঁর বার্তা, ১৭৫টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি যোগ দেবেন।