ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি প্রচুর কাজ তৈরি করছে। কিন্তু ভাল কর্মসংস্থান হচ্ছে খুব কম। সোমবার এই মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ়। দাবি করেছেন, ভাল বেতনের সুরক্ষিত এবং পছন্দের চাকরি এ দেশে কম হয়। অর্থাৎ যেখানে কর্মীরা উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে পারেন এবং যে কাজ সৎ, সমাজের কাজে আসে, এমন কর্মসংস্থান। বরং যে চাকরি তৈরি হচ্ছে, তার বেশির ভাগটাই ঝুঁকিপূর্ণ, কম আয়ের এবং মানসিক দিক দিয়ে অস্বাস্থ্যকর। কর্মসংস্থান যে মোদী সরকারের অন্যতম মাথাব্যথা, তা গত দু’টি বাজেট বক্তৃতা থেকে স্পষ্ট বলেও মনে করেন ইউপিএ জমানায় একদা সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য এই অর্থনীতিবিদ।
দেশের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাল চাকরি তৈরি করা যে জরুরি, তা ক্রমাগত বলে আসছেন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন, অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর মতো ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্য, সেটা না হলে ভারতে অসাম্য আরও মাথাচাড়া দেবে। যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এরই মধ্যে কৃত্রিম মেধার মতো প্রযুক্তি কাজের বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। গত কয়েক মাসে ভারতে বেকারত্বের হার মোটের উপরে ৫ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু দিন আগে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দ্রেজ়ের বক্তব্য, ভারতে মূলত পুঁজি নির্ভর আর্থিক নীতিতে জোর দেওয়া হয়। শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলি ততটা গুরুত্ব পায় না। ফলে ভাল কাজ তৈরি হয় না। তার উপরে গত প্রায় ১২ বছর ধরে দেশে বেতন সে ভাবে বাড়ছে না। কর্মীদের উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে ততটা সড়গড় না হয়ে ওঠাও শিল্প মহলকে নিয়োগে বিমুখ করে তুলেছে। তাঁর অভিযোগ, এ দেশে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার হাল খারাপ। বহু সরকারি বিদ্যালয়ে এক জন শিক্ষক। ফলে পড়ুয়ারা স্কুল ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা