উদ্বেগ বাড়িয়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেই গেল দেশের পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান জানাল, মে মাসের ৯.৬৮% থেকে বেড়ে জুনে তা হয়েছে ৯.৮৭%। এর অন্যতম কারণ খাদ্যপণ্যের বাড়তে থাকা দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুচরো মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলেছে (৪.৩৮%)। তবে পাইকারি এই হার তাকে দ্রুত আশঙ্কাজনক উচ্চতায় ঠেলে তুলতে পারে। সে ক্ষেত্রে সুদ বাড়বে দেশে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এ দিন কেন্দ্রকে দুষেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স-এ লেখেন, ‘‘মোদী সরকারের ১২ বছরের সার কথা এটাই: মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ডালি আর জনতার উপর চড়া দাম এবং বেকারত্বের নিষ্ঠুর কোপ।’’
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, চিন্তা আরও বাড়ছে খাদ্যপণ্যের খুচরো দাম ইতিমধ্যেই চড়তে শুরু করায়। রাজ্যে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ফোরাম অব ট্রেডার্স অর্গানাইজ়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ কোলের দাবি, অনেক কিছুই বেড়েছে। যেমন: কলকাতায় পেঁয়াজের কিলো ২০-২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা হয়ে গিয়েছে। রসুন ১২০-১২৫ টাকা থেকে হয়েছে ২০০ টাকা। বেগুন ৩০-৩৫ ছিল। হয়েছে ৬০ টাকা। টোম্যাটো-র কিলোও ২০-২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায় পৌঁছেছে। গাজর ৩০-৩৫ থেকে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রকের হিসাব, খাদ্যপণ্যের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি ৫.৪৯% ছুঁয়েছে। যার কারণ বৃষ্টির ঘাটতি এবং ‘এল নিনিয়ো’-র প্রভাব। তবে খাবার ছাড়া বাকি পণ্যের ক্ষেত্রে তা আরও চড়া, ১১.০৭%। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার বলেন, ‘‘চড়া পাইকারি দামের প্রভাব অবশ্যই খুচরোতে পড়বে। সুদ বৃদ্ধির পথ চওড়া হচ্ছে। বর্ষার ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন মার খেলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়বেই।তবে এতে বাজারে বেআইনি মজুত বাড়তে পারে। তখন মূল্যবৃদ্ধিকে রোখা আরও কঠিন হবে। সে দিকে সরকারের কড়া নজর রাখা জরুরি।’’ বন্ধন ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ বলেন, ‘‘মূল্যবৃদ্ধি চড়লেই সুদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এখন সেটা হলে সাধারণ মানুষ এবং শিল্পের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।’’ কোলে খাদপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য সারের চড়া দামকে দায়ী করছেন। বলছেন, ‘‘পাইকারির বাজারে চড়া দামের সুযোগ নিয়ে যাতে খুচরো বিক্রেতারা দাম বাড়াতে না পারেন, অবিলম্বে রাজ্য সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।’’