খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ৪% লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে গিয়েছে। জুনের ৩.৩৮% থেকে বেড়ে জুলাইয়ে ছুঁয়েছে ৪.৪৫%। ১৯ মাসে যা সর্বোচ্চ। আর পণ্যের এ ভাবে বাড়তে থাকা দামই একটু একটু করে সুদ বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করছে দেশে।
জিনিসপত্রের দাম এ ভাবে বাড়তে থাকলে আরবিআই অর্থনীতির অগ্রগতির তুলনায় মূল্যবৃদ্ধিকে বাগে আনাকে বেশি গুরুত্ব দেবে— তাদের ঋণনীতি কমিটির অগস্টের বৈঠকের কার্যবিবরণী তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে অনুমান, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রেপো রেট (যে সুদে আরবিআই অন্যান্য ব্যাঙ্ককে ধার দেয়) বাড়াতে পারে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে রেপো ছিল ৬.৫০%। পণ্যের দাম কমতে থাকায় কয়েক কিস্তিতে ওই হার ছেঁটে গত ডিসেম্বরে নামিয়ে আনা হয় ৫.২৫ শতাংশে। তা এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সুদ কমেছে মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট। যা সাধারণ ঋণগ্রহীতা থেকে শিল্প— সকলকেই কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ফের সুদ বাড়লে শিল্পের পুঁজি জোগাড়ের খরচ বাড়বে। মধ্যবিত্তের উপর বাড়বে ঋণ শোধের মাসিক কিস্তির চাপ। বাজার থেকে ধার করতে বাড়তি সুদ বাবদ সরকারকেও গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা। সুদ বাড়লে বন্ডের দাম নেমে তার ইল্ডকে ঠেলে উপরে তুলবে সুদের কাছাকাছি পৌঁছতে। বস্তুত সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কায় গত সপ্তাহেই বন্ড ইল্ড পৌঁছেছে ৬.৮৭ শতাংশে। বন্ডের দাম কমলে অবশ্য বাজার থেকে তা কেনা লাভজনক। কারণ ইল্ড বাড়লে প্রকৃত আয়ও বাড়ে।
কোনও কাজের শর্ত না রেখে বিভিন্ন রাজ্য সরকার নানা ধরনের অনুদান দিতে শুরু করেছে। এতে বাজারে টাকার জোগান বাড়বে। যা পণ্যের দামকে ঠেলে তুলতে পারে। অগস্টে মূল্যবৃদ্ধির হার (১২ সেপ্টেম্বর জানা যাবে) আরও চড়লে আরবিআই অক্টোবরের ঋণনীতিতে সুদ বাড়াতে পারে। যা ধাক্কা দিতে পারে শেয়ার বাজারকে। ঋণে সুদ বাড়লে তা বাড়ে জমাতেও। অর্থাৎ রেপো বাড়লে ব্যাঙ্ক, ডাকঘর এবং অন্যান্য জমায়ও তার ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে পারে। যা খুশি করবে সুদ নির্ভর অসংখ্য মানুষকে।
মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অবশ্য ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ না-থামাও। যার জেরে হরমুজ় প্রণালী এখনও বন্ধ। ভারতের মাথাব্যথা বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ফের ৯০ ডলার পার করেছে। তার উপর এল নিনিয়োর প্রভাবে ভারতের ৪০% অঞ্চলে ন্যূনতম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে বর্ষার ঘাটতি ছিল ১৩%। যা কৃষিকাজকে আঘাত করে ঠেলে তুলতে পারে খাদ্যপণ্যের দামকে। চিনি ইতিমধ্যেই লাগামছাড়া হয়েছে। ইউরোপ-সহ বিশ্বের নানা দেশেই সৃষ্টি হয়েছে খরার পরিস্থিতি।
বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তায় আবার বাড়ছে সোনা-রুপোর দর। শনিবার ১০ গ্রাম পাকা সোনা (২৪ ক্যারাট) ছুঁয়েছে ১,৬১,৮০০ টাকা। হলমার্ক গয়নার সোনা ১,৫৪,৫৫০। রুপোর বাটের কেজি পৌঁছেছে ২,৪৭,৭৫০ টাকায়। শেয়ার বাজার ঝিমিয়ে থাকলেও এই দুই ধাতুতে লগ্নিকারীরা খুশি।