E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রাজ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকা লগ্নি করছে রশ্মি গোষ্ঠী, চাকরি পেতে পারেন ৫০ হাজার মানুষ

পাশাপাশি, ২৫০ কোটি টাকা লগ্নি করে খড়গপুরে আদানি গোষ্ঠী সিমেন্ট কারখানা গড়ছে বলেও খবর। ইতিমধ্যেই এসিসি এবং অম্বুজা সিমেন্টস অধিগ্রহণের হাত ধরে সাঁকরাইল এ ফারাক্কায় তাদের দু’টি কারখানা রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০৭:৫০

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বার এখানে ৩৫,০০০ কোটি টাকা লগ্নির পরিকল্পনা ঘোষণা করল রশ্মি গোষ্ঠী। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থা জানিয়েছে, এর মধ্যে ৩০,০০০ কোটি টাকা ঢালা হবে ইস্পাত শিল্পে এবং নিজস্ব ব্যবহারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে। আর বাকি ৫০০০ কোটি যাবে কয়লা উত্তোলনের জন্য খনি চালু করতে। সংস্থা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের লগ্নি পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাজ্যে নতুন কাজ পাবেন ৫০,০০০ মানুষ।

পাশাপাশি, ২৫০ কোটি টাকা লগ্নি করে খড়গপুরে আদানি গোষ্ঠী সিমেন্ট কারখানা গড়ছে বলেও খবর। ইতিমধ্যেই এসিসি এবং অম্বুজা সিমেন্টস অধিগ্রহণের হাত ধরে সাঁকরাইল এ ফারাক্কায় তাদের দু’টি কারখানা রয়েছে। তৃতীয়টি গড়ার জন্য কথা চালাচ্ছে সংস্থা। পশ্চিমবঙ্গের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘ দিন ধরে থাকলেও, এর আগে এত বড় লগ্নি পরিকল্পনা হাতে নেয়নি রশ্মি। এ দিন তাদের জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট লালবাবু চৌরাসিয়া বলেন, ‘‘রাজ্যে নতুন সরকার আসায় তাঁদের লগ্নি পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা।’’ নতুন সরকারের শিল্প নীতি কী হয়, তার দিকেও তাকিয়ে আছেন তাঁরা। তিনি জানান, যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা কার্যকর হলে এখানে ইস্পাত শিল্পে কর্মসংস্থান হবে ৩৫,০০০ এবং খননে ১৫,০০০।

আপাতত পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে লগ্নির কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়া এবং পুরুলিয়ায় একই ছাতার তলায় ইস্পাত উৎপাদনের সব উপাদান তৈরির কারখানা গড়া বলে দাবি চৌরাসিয়ার। জামুরিয়ার কারখানা গড়তে ইতিমধ্যেই ৪৮০ একর জমি কিনেছেন তাঁরা। সেখানে বছরে ১৫ লক্ষ টন ইস্পাত তৈরিই সংস্থার লক্ষ্য। পুরুলিয়ায় ইস্পাত কারখানা তৈরি করতে গত বছর ৯৮০ একর জমি হাতে নিয়েছে রশ্মি। সেখানে উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২৮ লক্ষ টন। ওই কারখানার জমিতে ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ প্রকল্পও গড়া হবে।

নতুন দু’টি কারখানা গড়ার পাশাপাশি, খড়্গপুর এবং ঝাড়গ্রামে তাদের বর্তমান কারখানা দু’টির সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে সংস্থা। একই সঙ্গে ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কয়লার সংস্থানের লক্ষ্যে তিনটি খনি চালুর কথা জানায় তারা। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট জয়ন্ত ঘোষ বলেন, ‘‘বর্তমানে বিদেশ থেকে ৭০ লক্ষ টন কয়লা আমদানি করতে হয়। এ বার বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের তিনটি খনি থেকেই তা উত্তোলন করা হবে। পুরোটাই ইস্পাত তৈরির কাজে লাগানো হবে।’’

তিনি আরও জানান, বীরভূমের খাগরা জয়দেব এবং কাস্তা খনি দু’টি চালুর জন্য ২৫০ একর জমি হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যেই সেগুলিতে কাজ শুরুর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়ছে। তবে আসানসোলের কুয়ারডি তিরাথ খনির লাইসেন্সের জন্য আড়াই বছর আগে আবেদন করলেও, এখনও তা পায়নি সংস্থা। জয়ন্তের দাবি, ‘‘ওই খনির জন্য প্রায় এক বছর আগে ৭০০ একর জমি কিনে ১৬৫ কোটি টাকা দাম মিটিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও আমরা এখনও তা হাতে পাইনি। লাইসেন্স এবং জমি পেলেই খনিটি চালু করা হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
investments Adani Group West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy