প্রায় দু’বছর ধরে ঝিমিয়ে শেয়ার বাজার। মাঝেমধ্যে প্রাণ ফিরলেও তা ধরে রাখা যায়নি। ২০২৪ এর ২৬ সেপ্টেম্বর সেনসেক্স উঠেছিল ৮৫,৮৩৬ অঙ্কে। এটাই তার উচ্চতার সর্বকালীন নজির। এর পরে ২০২৫-এর ২৭ নভেম্বর কাছাকাছি পৌঁছলেও (৮৫,৭২০), ওই শিখর টপকে নতুন নজির গড়তে পারেনি। বরং তা ক্রমশ নামতে নামতে এখন অনেকটা নীচে। গত শুক্রবার ছিল ৭৭,২৬৪। সেনসেক্স লম্বা সময় ধরে চুপসে থাকায় ম্লান শেয়ারভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ডও। বিশেষত বড় শেয়ার ভিত্তিক (লার্জ ক্যাপ) ফান্ডগুলি। তুলনায় মাঝারি (মিড ক্যাপ) এবং ছোট (স্মল ক্যাপ) ফান্ডের অবস্থা অনেকটা ভাল। যে কারণে ভাল রকম লগ্নি ঢুকছে এগুলিতে। লার্জ ক্যাপ অবশ্য পুঁজি টানছে কম। উল্টে কোনও কোনও মাসে লগ্নি হারাচ্ছে। যেমন, জুলাইয়ে বেরিয়েছে ১৩২২ কোটি টাকা। শুধু ছোট বা মাঝারি মেয়াদে নয়, মাঝারি এবং ছোট ফান্ডগুলির অনেকে লম্বা মেয়াদেও আকর্ষণীয় রিটার্ন দিয়েছে।
ছ’মাস পার করল ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ। এত দিনের বেশির ভাগ সময়ে হরমুজ় বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ চূড়ান্ত ভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তেল আমদানিতে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। ৮০% চাহিদাই মেটে আমদানি করে। সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় অশোধিত তেলের দাম অনেক সময়েই লাগামছাড়া হয়েছে। যা আঘাত করেছে ভারতীয় অর্থনীতিতে। তবু ভাল চলছে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। আয়কর এবং জিএসটি আদায় বাড়ছে। সংস্থার আর্থিক ফলও মোটের উপর ভাল হয়েছে। যে কারণে বাজার তেমন চাঙ্গা না থাকলেও ফান্ডের লগ্নিকারীরা দমে যাননি। বিনিয়োগ বহাল রেখেছেন। যার অনেকটাই শেয়ার বাজারে যাচ্ছে। ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাজার হুড়মুড়িয়ে পড়ছে না।
অনেক দিন শেয়ার বিক্রি করার পরে ভারতের বাজারে ফিরেছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন সংস্থার প্রথম ছাড়া শেয়ার (আইপিও) আসছে লাগাতার। গত সপ্তাহে বাজার নিয়ন্ত্রক সেবির ছাড়পত্র পেয়েছে জিয়ো প্লাটফর্মের আইপিও। এটাই হতে চলেছে দেশের বৃহত্তম আইপিও। সম্ভাব্য আকার ৩৮০০ কোটি ডলার (প্রায় ৩৬.৫ হাজার কোটি টাকা)। দেশের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারও পৌঁছেছে সর্বকালীন উচ্চতায় (৭২,৯৩৩ কোটি ডলার)। এ সব দেখেই ফান্ডের লগ্নিকারীরা অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাজার ছেড়ে যাননি। বর্ষায় ঘাটতি এবং সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাঁদের আশা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু শোধরালেই সূচক উঠবে। অনেকে ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘর থেকেও সঞ্চয়ের একাংশ ফান্ডে সরাচ্ছেন। কারণ—
এক, শেয়ার ভিত্তিক ফান্ডে মূলধনী লাভের উপর করের হার বেশ কম (১২.৫%)। বছরে প্রথম ১.২৫ লাখ টাকার দীর্ঘকালীন মূলধনী লাভ করমুক্ত। দুই, বড় মেয়াদের জমায় ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরের তুলনায় অনেকটা বেশি রিটার্ন পাওয়ার আশা। তিন, এসআইপি পদ্ধতিতে মাসে মাসে অল্প করে টাকা জমানোর সুবিধা। চার, দীর্ঘ মেয়াদে বড় সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। পাঁচ, প্রয়োজনে যখন খুশি লগ্নির আংশিক অথবা পুরোটা তুলতে অসুবিধা নেই। ছয়, সঠিক ফান্ড বেছে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। গত মাসের শেষে ফান্ডে মোট অ্যাকাউন্টের (ফোলিও) সংখ্যা ২৮ কোটি ছাড়িয়েছে। লগ্নিকৃত মোট সম্পদ ছিল ৮৫.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা।
(মতামত ব্যক্তিগত)