E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

স্যাটকম ব্যবসায় বিশেষ আগ্রহী নয় মুকেশের রিলায়্যান্স, লক্ষ্য কি ইলন মাস্ক?

জিয়োর এক শীর্ষকর্তা জানান, দেশে ফাইবার অপটিক্স ভিত্তিক ‘ফিক্সড ওয়্যারলেস সংযোগ’ অনেক কম দামে পাওয়া যায়। যা গ্রাহকের পক্ষে সুবিধাজনক। ফলে খরচ বেশি হওয়ায় স্যাটকমের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সফল হওয়া মুশকিল।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২৩
মুকেশ অম্বানী।

মুকেশ অম্বানী। — ফাইল চিত্র।

দেশে কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা (স্যাটকম) যতটা ভাবা হচ্ছে, ততটা জনপ্রিয় হবে না বলে মনে করছে রিলায়্যান্স জিয়ো। যার প্রধান কারণ গ্রাহকের চড়া খরচ। তাঁর স্টারলিঙ্ককে ভারতে এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে ইলন মাস্কের মন্তব্য এবং তার জন্য সরাসরি ‘অম্বানী’ নাম নিয়ে আঙুল তোলার ঘটনা যখন দেশ জুড়ে আলোড়ন ফেলেছে, ঠিক তখনই স্যাটকম পরিষেবায় আগ্রহ হারানোর ইঙ্গিত দিল মুকেশ অম্বানীর সংস্থাটি। যা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। একাংশের দাবি, এটা আসলে আমেরিকার ধনকুবেরের দোষারোপের মোক্ষম জবাব।

জিয়োর এক শীর্ষকর্তা জানান, দেশে ফাইবার অপটিক্স ভিত্তিক ‘ফিক্সড ওয়্যারলেস সংযোগ’ অনেক কম দামে পাওয়া যায়। যা গ্রাহকের পক্ষে সুবিধাজনক। ফলে খরচ বেশি হওয়ায় স্যাটকমের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সফল হওয়া মুশকিল। আগামী ২১ অক্টোবর প্রথম বার সংস্থার শেয়ার বাজারে বিক্রির জন্য আসার (আইপিও) আগে নিয়ন্ত্রক সেবির কাছে যে নথি (রেড হেরিং প্রসপেক্টাস) জমা দিয়েছে তারা, তাতে এই ক্ষেত্রকে নিজেদের ব্যবসা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছে জিয়ো। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জিয়োর শীর্ষকর্তা জানান, স্যাটকম ব্যবহারের যা খরচ তাতে কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া গোটা দেশে তা সফল ভাবে ছড়ানো কঠিন। স্টারলিঙ্কের খরচের উদাহরণ তুলে তিনি জানান, ভারতের মতো দেশে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়ে কেউ এই পরিষেবা নেবে না। বরং ৪০০-৫০০ টাকায় অনেক দ্রুত গতির নেট দিচ্ছে জিয়ো।

এ দিকে, জিয়োর আইপিও উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জিয়ো প্ল্যাটফর্মের এমডি আকাশ অম্বানী জানান, সংস্থার সামনে বিরাট বাজার। ফলে বৃদ্ধির সুযোগ অঢেল। কারণ হিসেবে তিনি এবং সংস্থার সিইও পঙ্কজ পাওয়ারের দাবি, ভারতে প্রতি বছর প্রচুর মানুষ ১৮ বছর পেরোন। পাশাপাশি, ২জি থেকে ৫জি-তে যাওয়া গ্রাহকের সংখ্যাও বিপুল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩১.৪ কোটি। সেই বিরাট বাজারে চোখ রেখেই জিয়োকে বাজারে নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত, বার্তা আকাশের। তিনিও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্যাটকম-কে রাখেননি। বরং জোর দিয়েছেন হোম ব্রডব্যান্ড, এন্টারপ্রাইজ় এবং এআই ভিত্তিক পরিষেবায়।

২১ অক্টোবর আইপিও আনছে জিয়ো। ২৩ তারিখ পর্যন্ত তা কেনা যাবে। ১০ টাকা মূল দামের প্রতিটি শেয়ার কিনতে খরচ হবে ১০৬৫-১১১৯ টাকা। তবে ন্যূনতম ১২টি কিংবা ১২-র গুণিতক হিসেবে শেয়ার কেনা যাবে। জিয়োর কর্মীরা প্রতি শেয়ারে ৫৪ টাকা করে ছাড় পাবেন। সংস্থা এই দফায় ২৭ কোটির মতো শেয়ার বাজারে ছাড়বে। তা থেকে প্রায় ৩০,২০০ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্য। তা বেশ কিছু ঋণ আগাম মেটাতে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে, জানান আকাশ। গত মার্চ পর্যন্ত জিয়ো প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক মোট আয় ১৪.৬% বেড়ে হয়েছে প্রায় ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। নিট মুনাফা ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ছুঁয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি। মোট ঋণ প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। যদিও আইপিও-র পর মাসুল বৃদ্ধি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু মন্তব্য করেননি আকাশ।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Satellite internet

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy