E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এলপিজি বাঁচাতে বিকল্পের পরামর্শ

সোমবার বিকেলে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের জাহাজ শিবালিক এলপিজি বা রান্নার গ্যাস নিয়ে ভারতে পৌঁছেছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে নন্দাদেবী নামের জাহাজও এলপিজি বয়ে এনেছে। দু’টি জাহাজ মিলিয়ে এসেছে মোট ৯২,৭০০ টন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৫

—প্রতীকী চিত্র।

রান্নার গ্যাস সঞ্চয় করতে এ বার খোদ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বিদ্যুৎচালিত ইনডাকশন কুকার এবং অন্য জ্বালানি ব্যবহারের ‘পরামর্শ’ দিল। যদিও তারা এ দিনও জানিয়েছে, গৃহস্থের জন্য রান্নার গ্যাস বা অশোধিত তেল, পেট্রল, ডিজ়েলের জোগানে এখন অভাব নেই। কিন্তু কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে যদি দীর্ঘদিন অশোধিত তেলের ব্যারেল ১৩০ ডলারের ঘরে থাকে, তা হলে সামগ্রিক ভাবে অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়বে। তবে তা ৯০ ডলারে থাকলে বিশেষ সমস্যা হবে না। এখন বিশ্ব বাজারে দাম ১০১-১০৩ ডলারে ঘোরাফেরা করছে।

সোমবার বিকেলে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের জাহাজ শিবালিক এলপিজি বা রান্নার গ্যাস নিয়ে ভারতে পৌঁছেছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে নন্দাদেবী নামের জাহাজও এলপিজি বয়ে এনেছে। দু’টি জাহাজ মিলিয়ে এসেছে মোট ৯২,৭০০ টন। কিন্তু তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই। কারণ মাত্র দু’দিনের এলপিজি সিলিন্ডার জোগান দিতেই এই গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। হরমুজে ২২টি ভারতীয় জাহাজ আটকে এখনও। তার মধ্যে ছ’টিতে এলপিজি রয়েছে। সেই জাহাজ কবে ছাড়া পাবে, তার পরে ফের কবে দেশের উপকূলে ভিড়বে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। একটি সূত্রের খবর, দু’টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করতে চলেছে। ইরানের থেকে ছাড়পত্র আদায়ের বিনিময়ে কোনও রকম লেনদেনের খবর বিদেশ মন্ত্রক অস্বীকার করেছে।

আজ তেল মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা ফের বলেছেন, গৃহস্থের এলপিজি জোগানে কোনও সমস্যা নেই। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ কিছুটা চালু হয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের কারণ রয়েছে। তাই যতটা সম্ভব ইনডাকশন কুকার, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজন মতো এলপিজি সংরক্ষণ করতে হবে। সূত্রের খবর, মূল সমস্যা হল অশোধিত তেল অন্য দেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব। কিন্তু আমদানি করা এলপিজি-র ৯০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে।

অশোধিত তেলের জোগানে সমস্যা না থাকলেও তার দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার পেরিয়েছে। নাগেশ্বরন অর্থ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছেন, তেলের দামের কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করছে কতদিন দাম চড়ায় থাকবে। যদি ছয় থেকে নয় মাস ধরে তেলের দাম ১৩০ ডলারে থাকে, তা হলে ২০২৬-২৭ সালে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৪ থেকে ৬.৭ শতাংশে নামবে। মূল্যবৃদ্ধির হার ৫.৫%-এ পৌঁছতে পারে। রাজকোষ ঘাটতি, বিদেশি মুদ্রার লেনদেনের ঘাটতিও বেড়ে যাবে।

কেন্দ্রের বার্তা

দেশে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) কোনও অভাব নেই।

তবু গ্যাস বাঁচাতে যতটা সম্ভব ইনডাকশন কুকার ব্যবহার করা হোক।

অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির কথাও ভাবা যেতে পারে।

অশোধিত তেল অন্য দেশ থেকে কেনা যায়। কিন্তু এলপিজি-র ৯০% আমদানি করতে হয় পশ্চিম এশিয়া থেকে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
LPG Crisis Cooking Gas

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy