উৎসবের মরসুমে ফের বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। চিনি, ডিম, তেল, ডাল, দুধ-সহ প্রায় সব কিছু কিনতেই বেশি খরচ হচ্ছে মানুষের। কৃষি-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সতর্কবার্তা, দেশের কোথাও অতিবৃষ্টি আর কোথাও অনাবৃষ্টির কারণে থমকে রবিশস্যের বীজ বপন। অথচ রবি মরসুমে ফলন কমলে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আরও বাড়তে পারে দাম। নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির কবলে পড়া দেশ তাই আরও দীর্ঘমেয়াদি চড়া দামের খাদের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কায় খুচরো ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের দাবি, কলকাতায় চিনি, তেল, ডিম-সহ বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। এই দফায় শেষে তা কোথায় পৌঁছবে সেটাই প্রশ্ন।
চিন্তায় কেন্দ্রও। সূত্রের খবর, গত সোমবার রবি চাষ নিয়ে পর্যালোচনার জন্য বৈঠক করেছেন কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। সমস্যা দ্রুত মেটানোর জন্য পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রকের আধিকারিকদের।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, বেশ কিছু জায়গায় মূলত বৃষ্টি কম হওয়াতেই মাটিতে আদ্রতার অভাব দেখা দিয়েছে। তাই বীজ বোনা যাচ্ছে না। কৃষি মন্ত্রকের তথ্য বলছে, আগের বছরের তুলনায় এ বার প্রায় ৪৬% জমিতে তা করাই যায়নি। বিশেষত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গম চাষ। এ বারের রবি মরসুমে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৯ হাজার একর জমিতে গমের বীজ বোনা গিয়েছে। গত বার হয়েছিল ৩.৩৪ লক্ষ একরে। তাদের তথ্য অনুসারে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ অক্টোবর-ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ১০% ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। সেটা হলে, ডিসেম্বরের ঋণনীতিতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক ৫০-৭৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে। যা ঋণগ্রহীতাদের ধার শোধের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই খাতে খরচকে বিপুল বাড়িয়ে দেবে। চাপে পড়বে শিল্পও।
রাজ্যে অবশ্য অতিবৃষ্টি রবি মরসুমের চাষে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। এক ফামার্স প্রডিউসার সংস্থার চাষি রবীন্দ্রনাথ পরামানিক জানান, আলুর বীজ বপনের এক দফার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হয়েছে। ফের বীজ বপন শুরু করেছেন। বনগাঁর চাষি কালীপদ মণ্ডলের দাবি, তাঁর জমিতে সর্ষে, ধানের বীজ নষ্ট করেছে বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার খুচরো বাজারে গত ৭-১০ দিনের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটা করে বেড়েছে বলে দাবি খুচরো ব্যবসায়ীদের। তাঁরা জানান, বহু আনাজের দামই চড়া। এ ছাড়া, সর্বাধিক বেড়েছে চিনি। কেজিতে প্রায় ১০ টাকা। প্রতিটি ডিম ৫০-৭৫ পয়সা বেড়েছে। ভোজ্যতেল চড়েছে লিটারে ৫ টাকা। ডালের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি কেজিতে ৫-২৫ টাকা।
বস্তুত, রবি ফসলের জন্য বর্ষার পরেই অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বীজ বপন শেষ হয়। ফসল ওঠে মার্চ-জুনে। বিশেষ করে এপ্রিল এবং মে মাসে। কেন্দ্রের নির্দেশ, যে সব অঞ্চলে সেচের জলের অভাব রয়েছে, সেখানে যেন কম জলে চাষের মতো ফসল উৎপাদনে জোর দেন কৃষকেরা। বিষয়টির উপর নজর রাখতে হবে কৃষি মন্ত্রকের আধিকারিকদের।