E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ধাক্কা দিচ্ছে বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারে, আশঙ্কা বাড়াচ্ছে জ্বালানি, সার আর সোনার দাম

সরকারি মহলের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি বহাল থাকলে জোগানের সঙ্কট আরও বাড়বে।আরও মাথা তুলবে অশোধিত তেলের দাম। ফলে ভারত আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৬:৪৫

ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি, সার এবং সোনার দাম মাত্রাছাড়া উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে জাহাজে করে পণ্য পরিবহণে। সরকারি সূত্রের দাবি, এর জেরে মূলত ওই তিন পণ্য অর্থাৎ জ্বালানি, সার এবং সোনাই ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারে ধাক্কা দিচ্ছে। বেরিয়ে যাচ্ছে ডলার। লাগাতার পড়তে থাকায় ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে টাকা। সূত্রের আশঙ্কা, বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে ওই তিন পণ্যের দাম কোথায় পৌঁছে থামতে পারে সে সম্পর্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না। ফলে আশঙ্কা এবং ঝুঁকির মাত্রা ক্রমাগত চড়ছে।

সূত্রের দাবি, এই তিনটি ক্ষেত্রেই ভারত আমদানি নির্ভর। ফলে সমস্যা বাড়ছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পণ্যের অস্থির দাম বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারে চাপ তৈরি করে বিপাকে ফেলছে অর্থনীতিকে। সূত্র বলছে, ‘‘সার ও সোনা আমদানি করা এবং বিশ্ব বাজার থেকে অশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই টাকায় দাম মেটানো যায় না। অথচ ঘরোয়া চাহিদা মেটাতে ভারত ওই তিনটি পণ্য আমদানি করতে বাধ্য। ফলে সেগুলির বর্ধিত দাম চোকাতে অনেক বেশি ডলার খরচ করতে হচ্ছে। সেই কারণেই আমাদের এখন অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে হবে।’’

সরকারি মহলের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি বহাল থাকলে জোগানের সঙ্কট আরও বাড়বে।আরও মাথা তুলবে অশোধিত তেলের দাম। ফলে ভারত আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। কারণ আমদানির বিল তখন আরও মোটা হবে। এমনকি হরমুজ় আটকে থাকায় সারের দামও এই মুহূর্তে কমার কোনও লক্ষণ নেই বলেও আশঙ্কা সূত্রের। সূত্র জানাচ্ছে, এই সঙ্কট যুঝতে অর্থ মন্ত্রকের কাছে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ৩.৪ লক্ষ কোটি টাকা সাহায্য চেয়েছে সার মন্ত্রক। চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে ওই খাতে ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ফলে সার মন্ত্রকের আর্জি মানলে রাজকোষ থেকে বার করতে হবে বাজেট বরাদ্দের দ্বিগুণ। এর আগে ভোটের মরসুমে ৭৮ দিন জ্বালানির দর বাড়াতে না দেওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকা দিতে হয়েছে সরকারকে। তার মধ্যে রয়েছে উৎপাদন শুল্ক কমানোর খাতে ছেড়ে দেওয়া অর্থও। ফলে চাপে রাজকোষ।

সম্প্রতি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক টাকার পতন আটকাতে এবং আরও বেশি বিদেশি মুদ্রা টানতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। যার মধ্যে আছে ব্যাঙ্কের থেকে ডলার কেনা, অনাবাসী ভারতীয়দের ডলারে আমানত বাড়ানো বা বিদেশিদের থেকে আরও বেশি লগ্নি টানার মতো ব্যবস্থা। তার পরেও সরকারি মহলের এই আশঙ্কার বাণী শুনে কার্যত প্রমাদ গুনছে গোটা দেশ। বিশেষত সূত্র যেহেতু স্পষ্টই দাবি করছে, সোনা আমদানির মতো ক্ষেত্রে তা কমানোর নীতি নেওয়া হলেও, তার একটা সীমা আছে। কারণ, এ দেশে ধাতুটির চাহিদা বিপুল। সূত্রের বার্তা, শীর্ষ ব্যাঙ্কের পদক্ষেপগুলি বাস্তবে কতটা কাজে দেয় কার্যত সেই দিকেই তাকিয়ে সরকার, সেই সঙ্গে গোটা দেশও।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Central Government Price Hike West Asia Fuel Price Fuel Crisis Gold Price Fertilizer

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy