শেয়ার থেকে বন্ড, সোনা থেকে রুপো, ধস নামছে সর্বত্র। এই দুর্বল বাজারেও প্রথম শেয়ার ছেড়ে নজির গড়ল রিলায়্যান্স জিয়ো প্লাটফর্মস। শুক্রবার বন্ধ হওয়া ইসুটি দেশের বৃহত্তম (৩০,২১৩ কোটি টাকা)। শেয়ারের জন্য মোট আবেদন জমা পড়েছে ১.৩৮ কোটি, যা বিশ্ব রেকর্ড। যত শেয়ার ছাড়া হয়েছে, চাহিদা ছিল তার ২২.১৯ গুণ বেশি। টাকার অঙ্কে ৭.৪ লক্ষ কোটি টাকা। ছোট লগ্নিকারীদের থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছে। চাহিদা এত তীব্র হওয়ায় সব আবেদনকারী সম্ভবত শেয়ার পাবেন না। আজ, সোমবার তা বণ্টন হবে ও বুধবার নথিবদ্ধ হবে এক্সচেঞ্জে।
তবে জিয়োর সাফল্যেও স্বস্তি নেই। কারণ, এই ইসুর আবেদন করতে মোটা টাকা বাজার থেকে সরেছে, যা সূচককে দুর্বল করেছে। জিয়োর মূল ইসুর ৩০,০০০ কোটি বাদ দিয়ে বাকি টাকা ফিরবে আগামিকাল। শেয়ার, সোনা, বন্ডের অবাধ পতনে লগ্নিকারীরা নিত্য লোকসানের হিসাবে ব্যস্ত। তবে এই করুণ অবস্থাতেও তাঁরা টাকা ঢালছেন ভাল নতুন ইসু এবং মিউচুয়াল ফান্ডের এসএইপি-তে। আশা, হাল ফিরলেই মুনাফা হবে। যদিও সে দিন কবে আসবে, বলা মুশকিল। কারণ, এক দিকে দেশে মূল্যবৃদ্ধি চড়ায় সুদ বাড়ছে। অন্য দিকে অশোধিত তেল বেড়ে চলেছে। ব্যারেলে ব্রেন্ট ক্রুড ছাড়িয়েছে ১১৭ ডলার। তা এই জায়গায় থাকলে বা বাড়লে হয়তো ফের পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়ানো হবে। যা মূল্যবৃদ্ধিকে আরও ঠেলে তুলবে। ফের বাড়বে সুদ।
তেলের কারণে দাম বাড়ছে বিশ্বের সর্বত্র। ফলে জনরোষ দেখা দিয়েছে ইউরোপের নানা দেশে। আমেরিকায় সুদ বাড়ায় চড়েছে বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড)। সেখানে বন্ডে রিটার্ন বাড়ায় ও ভারতে টাকার পতনে বাজার ছাড়ছে বিদেশি লগ্নি। উপরন্তু দেশে বৃষ্টি কম হওয়ায় খরার কবলে বহু অঞ্চল। ফলে কৃষিপণ্যের দাম চড়ার সম্ভাবনা। সুদ বৃদ্ধিতে ভারতেও বন্ডের ইল্ড বেড়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল।
দুর্দিনে সোনা, রুপোর দাম বৃদ্ধিই চিরাচরিত রীতি। এ বার হচ্ছে উল্টোটা। ইউক্রেনের সঙ্গে টানা যুদ্ধের কারণে রাশিয়া বিপুল বাজেট ঘাটতির মুখে। আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা চাপানোয় তাদের সামনে সোনা বিক্রি ছাড়া পথ নেই। সোনা বেচছে তুরস্কও। ফলে তার দামে ধস নামছে। ভারতে এ পর্যন্ত জুলাই-সেপ্টেম্বরের কোম্পানি ফল মোটের উপরে ভাল। যে কারণে সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি শেয়ার দর উঠেছে। তবে ইনফোসিস ভবিষ্যৎ সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করেছে, তা বাজার কী ভাবে নেয় জানা যাবে আজ, সোমবার।
(মতামত ব্যক্তিগত)