ভারতে এখন ‘ভাতা-সংস্কৃতি’ চলছে রমরমিয়ে। আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া হত। এখন সরাসরি ভাতা ঢুকছে প্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ভাতা পান মহিলা, কাজ না পাওয়া যুবক-যুবতী এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে নিচু তলার মানুষেরা। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের মুখে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে চালু হয় এই ভাতা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়। এই ভাতার পরিবর্তে কাজ বা কোনও প্রতিদান থাকে না। এমনকি, এমন অনেক মানুষ তা পান, যাঁদের তেমন প্রয়োজনও নেই।
আর্থিক ভাবে দুর্বলদের কাছে অবশ্য নগদ ভাতার মূল্য অনেক। অসংগঠিত ক্ষেত্রে যে অসংখ্য মানুষ নানা পেশায় কাজ করেন, তাঁদের সব সময়ে আয়ের নিশ্চয়তা থাকে না। হঠাৎ রোজগার বন্ধ হলে ভরসা এই ভাতা। তবে আয় চালু থাকলেও তা ভরসা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই ভাতা থেকে কিছুটা অর্থ বাঁচাতে হবে। কারণ, এঁদের অনেকেরই সামাজিক সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা থাকে না। অবসরের পরে থাকে না পিএফ, গ্র্যাচুইটি এবং পেনশনের ব্যবস্থা। ভাতা থেকে বাঁচানো অর্থ বড় মেয়াদে নিয়মিত জমিয়ে গেলে, চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে তা একটি বড় তহবিল গড়ে দেবে। যা বিপদে এবং অবসরের পরে বড় সহায় হতে পারে। বাংলার যে মহিলারা আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁরাই এখন অন্নপূর্ণার ভান্ডার নামে দ্বিগুণ অর্থ পাচ্ছেন। এই বাড়তি টাকা যদি তাঁরা লম্বা মেয়াদে নিয়মিত জমিয়ে যান, তা হলেও তৈরি হবে বড় সঞ্চয় তহবিল। এই টাকা নিজের কোনও শখ মেটাতে, সন্তানের শিক্ষায় অথবা হঠাৎ আসা কোনও বিপদে কাজে আসতে পারে। অনেকে আবার এই ভাতার টাকা ঋণ শোধের কাজে লাগান।
প্রতি মাসে একই পরিমাণ টাকা সুরক্ষিত এবং সম্ভাব্য ভাল আয়যুক্ত প্রকল্পে নিয়মিত লগ্নি করে গেলে তা বড় মেয়াদে কী পরিমাণে বাড়তে পারে, তা না দেখলে অনেক সময়ে বিশ্বাস করা শক্ত। যাকে চক্রবৃদ্ধির শক্তি অথবা ‘ম্যাজিক’ বলা হয়। যেমন, মাসে ১৫০০ টাকা করে যদি ১৮০ মাস (১৫ বছর) টানা জমিয়ে যাওয়া যায়, তা হলে মোট লগ্নি হবে ২,৭০,০০০ টাকা। এই লগ্নি গড়ে ১২% হারে ক্রমপুঞ্জিত বৃদ্ধি হলে মেয়াদ শেষে তহবিলের আকার বেড়ে হতে পারে ৭,১৩,৮৯৭ টাকা। পরে মাসিক কিস্তি বাড়ানো গেলে তা আরও ফুলেফেঁপে উঠবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে আয়ের হার আরও বেশি হতে পারে। এখন প্রশ্ন হল, এত উঁচু হারে রিটার্ন পাওয়া যাবে কোথায়? দেখে নেব এক নজরে—
পেনশনের লক্ষ্যে তহবিল গড়তে চাইলে, রয়েছে জাতীয় পেনশন প্রকল্প (এনপিএস)। এখানে শেয়ার ভিত্তিক বিকল্পে বড় মেয়াদে চড়া রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
পাঁচ বছর মেয়াদে পিএফআরডিএ অনুমদিত কিছু এনপিএস ফান্ড ১৫%-১৬% রিটার্ন দেখাচ্ছে। এখানে প্রতি অর্থবর্ষে ন্যূনতম ১০০০ টাকা রাখতে হবে। জমার ঊর্ধ্বসীমা নেই।
দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প না চাইলে শেয়ার ভিত্তিক ফান্ডে ৫, ১০, ১৫ বা ২০ বছর মেয়াদে মাসিক কিস্তিতে এসআইপি করা যায়। ১২%-১৫% রিটার্ন সম্ভব।
কম ঝুঁকির লগ্নি পছন্দ হলে, রয়েছে হাইব্রিড প্রকল্প। যেখানে পুরো টাকা শেয়ারে খাটে না। বড় মেয়াদে ১২% রিটার্ন সম্ভব।
প্রয়োজনে ফান্ডে লগ্নির টাকার পুরোটা বা একাংশ দিন দুয়েকের মধ্যে তুলে নেওয়া যায়।
(মতামত ব্যক্তিগত)