শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা করতে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ (এলটিসিজি) কর পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিল নিয়ন্ত্রক সেবি। লক্ষ্য, তাদের পুঁজিকে ভারতমুখী করে তোলা। দেশের লগ্নিকারীদেরও কিছু সুরাহা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ডের দেশীয় লগ্নিকারীরা এক প্রকল্প থেকে লগ্নি সরিয়ে অন্য প্রকল্পে নিয়ে গেলে মুনাফায় এলটিসিজি কর দিতে হবে না। দু’টি ক্ষেত্রেই করের সুবিধা দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভে মিলবে, অর্থাৎ শেয়ার বা ফান্ড কেনার পরে কমপক্ষে ১২ মাস কাটলে তবে বিক্রি বা প্রকল্প সরানোর পদক্ষেপে। সোমবার প্রধানত সেবির কর ছাড়ের এই প্রস্তাবেই বিরাট লাফ দিয়েছে বাজার। একলপ্তে ১২৩৩.২৫ পয়েন্ট উঠেছে সেনসেক্স। থেমেছে ৭৫,৬৯২.৭৮ অঙ্কে।
প্রস্তাবগুলি অনুমোদনের জন্য গিয়েছে কেন্দ্রের কাছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, বাজারে জ্বালানি জোগাতে আগামী বাজেটের আগেই সায় মিলতে পারে। একাংশের মতে, সে ক্ষেত্রে ফের নতুন শিখর ছুঁতে পারে শেয়ার সূচক।
উল্লেখ্য, ভারতে ১২.৫% এলটিসিজি কর দিতে হয়। শেয়ার বা ফান্ড কেনার পরে ১২ মাসের কম সময় ধরে রেখে বিক্রি করলে স্বল্পমেয়াদি মূলধনী লাভ (এসটিসিজি)কর বসে ২০%। সেবি নিজেই জানিয়েছে, যে সব দেশেশেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি কর গুনতে হয়, ভারত তার অন্যতম। বেশ কিছু দিন ধরে ভারতের বাজার থেকে টানা লগ্নি তুলে নিচ্ছে বিদেশি লগ্নিকারীরা। ফলে এক দিকে সূচকের পতন হচ্ছে। অন্য দিকে বিদেশি সংস্থাগুলি শেয়ার বিক্রি করে পাওয়া টাকা ডলারে পরিণত করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ফলে ডলারের দাম বেড়ে গিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে টাকাকে। বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দীর দাবি, সেবির প্রস্তাবে এ দিন লগ্নিকারীদের শেয়ার সস্পদ বেড়ে গিয়েছে ৮.০৪ লক্ষ কোটি টাকা। বাজার অবশ্য এর আগের দু’দিনেও ১২০০-র বেশি বেড়েছে। কর ছাড়ের প্রস্তাব ছাড়াও বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমা, আমেরিকায় বন্ডের বাজারে পতন এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের ভাল আর্থিক ফল উত্থানে রসদ জুগিয়েছে।