E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

লাফিয়ে বাড়ছে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, সামলাতে জরুরি বিশেষ সঞ্চয়

বিভিন্ন কারণে কম খরচের সরকারি শিক্ষাঙ্গনে পড়ার ঝোঁক ক্রমশ কমছে। বাড়ছে ঝাঁ চকচকে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বড় পরিকাঠামোযুক্ত নামী বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আকর্ষণ। তার সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে সেখানে সন্তানকে পড়ানোর খরচ।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩০

— প্রতীকী চিত্র।

সরকারি পরিসংখ্যানে শিক্ষা খাতে খরচ বৃদ্ধির হার তেমন বেশি না দেখালেও, বেসরকারি মহলের মতে শহরাঞ্চলে তা এখন ১০ শতাংশরও বেশি। খরচবহুল শহরে ১২ শতাংশের আশেপাশে হতে পারে। যা মূলত সাধারণ রোজগেরে মধ্যবিত্ত বহু পরিবারকে সমস্যায় ফেলছে। বিশেষত খাবার-সহ সব কিছুর দামই যখন ঊর্ধ্বমুখী।

বিভিন্ন কারণে কম খরচের সরকারি শিক্ষাঙ্গনে পড়ার ঝোঁক ক্রমশ কমছে। বাড়ছে ঝাঁ চকচকে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বড় পরিকাঠামোযুক্ত নামী বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আকর্ষণ। তার সঙ্গে লাফিয়ে বাড়ছে সেখানে সন্তানকে পড়ানোর খরচ। বিদেশে পড়তে পাঠালে অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে গেলে লাগে কোটি টাকারও বেশি। পড়াশোনা ছাড়াও তার মধ্যে রয়েছে খাওয়া, যাতায়াত-সহ আনুষঙ্গিক খরচ। বাবা মায়েরা চান তাঁদের সন্তান দেশ-বিদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের খরচ অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তা সামাল দিতে তাই সন্তানের জন্মের পরে শুধু তাকে কোন স্কুলে ভর্তিকরাবেন, সেই পরিকল্পনা করলে চলবে না। বরং দ্রুত নামতে হবে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড়ের কাজে। শৈশব অবস্থায় কিস্তিতে লগ্নি শুরু করলে লম্বা মেয়াদে তা সুদে-মূলে বেড়ে বিরাট তহবিল হবে। কোন কোন প্রকল্পে এবং কি পদ্ধতিতে লগ্নি করলে সুবিধা হতে পারে, দেখে নেব—

পাবলিক প্রভিডেন্ড ফান্ড (পিপিএফ): লম্বা মেয়াদে নিয়মিত টাকা জমিয়ে বড় তহবিল গড়ার আদর্শ জায়গা। প্রাথমিক মেয়াদ ১৫ বছর। পরে তা ৫ বছর করে বাড়িয়ে নেওয়া যায়। বছরে সর্বাধিক ১.৫ লক্ষ (মাসে ১২.৫ হাজার) টাকা জমা করা সম্ভব। সুদ এখন ৭.১%, যা করমুক্ত। ২০ বছর ধরে ১.৫ লাখ করে জমিয়ে গেলে মোট লগ্নি দাঁড়াবে ৩০ লক্ষ টাকা। ৭.১% সুদে মেয়াদ শেষে মিলতে পারে ৬২-৬৫ লক্ষ। এটাও করমুক্ত।

সুকন্যা সমৃদ্ধি প্রকল্প: কন্যা সন্তানের জন্যে টাকা জমানোর পথ। বৈশিষ্ট্য অনেকটা পিপিএফের মতো। যেমন, বছরে জমা করা যায় ১.৫ লক্ষ টাকা, সুদ করমুক্ত। তবে তার হার ৮.২%। মেয়ের বয়স ১০ পেরনোর আগে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘর অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। প্রকল্পের মেয়াদ ২১ বছর। উচ্চশিক্ষার জন্যে জমার ৫০% তুলে নেওয়া যায় ১৮ হলে।

ব্যাঙ্কের রেকারিং ডিপোজ়িট: প্রতি মাসে নিয়মিত জমানোর আর এক পথ। তবে সুদ কিছুটা কমের দিকে, করযোগ্যও।

মিউচুয়াল ফান্ড: এসআইপি পদ্ধতিতে টাকা জমালে লম্বা মেয়াদে বড় আকারের তহবিল তৈরি হতে পারে। করেও কিছু সুবিধা মেলে। অনেক ফান্ডে শিশুদের জন্য বিশেষ প্রকল্প আছে।

ইউনিট লিঙ্কড ইনশিয়োরেন্স প্ল্যান (ইউলিপ): এখানেও নিয়মিত টাকা জমিয়ে বড় মেয়াদে প্রয়োজনীয় পুঁজির ব্যবস্থা করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাবা/মায়ের অকালমৃত্যু হলে পরের প্রিমিয়াম মকুব করা হয়।

এনপিএস বাৎসল্য: ভবিষ্যতে শিশুর আর্থিক সাচ্ছন্দ্যের লক্ষ্যে বড় মেয়াদে অল্প করে জমানো যায়।

শেয়ার: বাজার বুঝে নিয়মিত ভাল শেয়ার কিনে অনেকটা খরচ তোলা সম্ভব। তবে ফান্ডের থেকেও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। নিয়মিত লগ্নি করা যায় সোনা-রুপোতেও।

(মতামত ব্যক্তিগত)

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Indian Education System Education system Savings Tips Cost Savings Children Higher education

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy