ফের রক্তাক্ত শেয়ারবাজার। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ৩০০ পয়েন্টের বেশি পড়ল সেনসেক্স। নিফটি-৫০র অবস্থাও তথৈবচ। ৯৫.২৫ পয়েন্ট নেমেছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (এনএসই) এই সূচক। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই মাথায় হাত লগ্নিকারীদের। যদিও ‘আখের রসে’ গলা ভিজিয়ে পকেট গরম রাখতে পেরেছেন তাঁদেরই একাংশ!
সোমবার, ৩১ অগস্ট বাজার খোলার পর থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে থাকে স্টকের সূচক। সেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম চিনির শেয়ার। স্রোতের উল্টো দিকে হেঁটে লগ্নিকারীদের ১১ শতাংশ মুনাফা দিয়েছে তারা। সর্বাধিক মুনাফার তালিকায় রয়েছে বলরাম, রেণুকা ও মাওয়ানা সুগার্সের মতো চিনিকলের নাম।
আরও পড়ুন:
এ দিন প্রায় ৩৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলরাম চিনি মিল্সের স্টকের দাম। ফলে ৬৮৮ টাকায় উঠে এসেছে সেটি। এতে ৫.০৬ শতাংশের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩৮ টাকা ছিল এর শেয়ারের দর। ওই সময় ১০ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক। যদিও লেনদেনের দ্বিতীয়ার্ধে সেখান থেকে নামতে থাকে সেটি।
একই ভাবে বাম্পার মুনাফা করেছেন ডালমিয়া ভারত লিমিটেডের লগ্নিকারীরাও। এ দিন ৪৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে সংশ্লিষ্ট চিনিকলটির শেয়ারের দাম। ফলে বাজার বন্ধ হওয়ার সময় ১,৮৯০ টাকায় দৌড় থামায় এই স্টক। শতাংশের বিচারে এতে লাভের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২.৪২।
অন্যান্য চিনি মিলগুলির মধ্যে ত্রিবেণী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ় লিমিটেড, মাওয়ানা সুগারস লিমিটেড এবং শ্রী রেণুকা সুগারস লিমিটেডের শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে যথাক্রমে ৪.৬৪, ০.৭২ এবং ৩.৩৬ শতাংশ। বর্তমানে এদের স্টক ২৯৭, ১৪৯ এবং প্রায় ২৫ টাকায় ঘোরাফেরা করছে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সুগার মিলগুলির শেয়ার সূচক। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে উৎসবের মরসুম। ফলে আগামী কয়েক মাস খুচরো বাজারে চিনি বিক্রি বেশি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। সে ক্ষেত্রে আরও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এই সমস্ত সংস্থাগুলির স্টকের দর।
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বিক্রিকে বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্র। ফলে চিনিকলগুলিতে দেখা দিয়েছে কাঁচামালের সঙ্কট (পড়ুন আখ)। এর জেরে খুচরো বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে চিনির দাম। সেটা নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। যদিও এখানও কেজিপ্রতি দর ৬০ টাকার নীচে নামেনি বলে জানা গিয়েছে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)