শেয়ারবাজারের নিজের শেয়ারের আইপিও। স্বাভাবিক ভাবেই দেশের সর্ববৃহৎ স্টক এক্সচেঞ্জ হিসাবে পরিচিত ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের আইপিওর দিকে নজর ছিল বিনিয়োগকারীদের। শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা ছিল আবির্ভাবেই ঝড় তুলবে আইপিওটি। কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর আইপিও তালিকাভুক্তির আগেই মুখ পুড়ল বহু প্রতীক্ষিত আইপিওটির। কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের আগেই গ্রে মার্কেট প্রিমিয়ামে (জিএমপি) বড় ধরনের পতন ঘটেছে অন্যতম বড় এই পাবলিক অফারিংটির।
১৭ সেপ্টেম্বর এনএসই-র আইপিওতে সাবস্ক্রিপশন শুরু হয়েছে। একই দিনে এর গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম কমে ১২৫ টাকায় নেমে আসে। জিএমপি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এনএসই-র মূল্যায়ন, ট্রেডিং থেকে সম্ভাব্য আয় এবং নিয়ন্ত্রক সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। আইপিওটি ব্যাপক আগ্রহ জাগালেও, এর গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম তীব্র ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এনএসই বা নিফটি এক্সচেঞ্জ। ২২,৫৬৯ কোটি টাকার বহু প্রতীক্ষিত আইপিওর জন্য প্রতি শেয়ারের দাম ১,৭০০ টাকা থেকে ১,৭৮৫ টাকা মধ্যে রেখেছে এনএসই। একটি লটে মোট আটটি শেয়ার থাকবে। আইপিওতে আবেদনকারী একজন খুচরো বিনিয়োগকারীকে শেয়ার কিনতে হলে ন্যূনতম ১৪,২৮০ টাকার প্রয়োজন হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনএসই আইপিও-র গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম কমে ১২৫ টাকা হয়েছে। এনএসই-র শেয়ার প্রতি ১,৭৮৫ টাকা সর্বোচ্চ ইস্যু মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে, সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি মূল্য প্রায় ১,৯১০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি দামে শেয়ারটি বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় জিএমপির লেখচিত্রে স্পষ্ট পতন দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর ২১৮ টাকা থেকে কমে ১২ সেপ্টেম্বর ২০৮ টাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২১০ টাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০৮ টাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৬০ টাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ১৪৫ টাকা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ১২৫ টাকা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের ২১৮ টাকা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ১২৫ টাকায় নেমে প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে গ্রেমার্কেট প্রিমিয়াম।
ফলে, এনএসই আইপিও-র সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি প্রিমিয়ামও কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে এটি ১২ শতাংশের বেশি ছিল, বর্তমানে তা কমে প্রায় ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা দেখে কিছুটা হতাশই হয়েছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। অনেকেই ভেবেছিলেন লিস্টিংয়েই ঝড় তুলবে শেয়ার বাজারের নিজস্ব আইপিও। গ্রে মার্কেট প্রিমিয়ামের হাল হকিকত দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের টানতে ব্যর্থ এনএসই-এর শেয়ার। বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়টি হল, ২০২৬ অর্থবর্ষে এনএসই-র আর্থিক গতি মন্থর হয়ে পড়া। ২০২৬ অর্থবর্ষে পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১৬,৬০১.৩১ কোটি টাকা, যা ২০২৫ অর্থবর্ষের ১৭,১৪০.৬৮ কোটি টাকার থেকে কম। কর পরবর্তী মুনাফা ১২,১৮৭.৬৯ কোটি টাকা থেকে কমে ১০,৩০২.০৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে ভারতের বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জটির।