আগামী মঙ্গলবার, ১৮ অগস্ট টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যার মূলে রয়েছে টাটা গোষ্ঠীর মূল সংস্থাটির অন্যতম অংশীদার রতন টাটা ট্রাস্টের পর্ষদকে ঘিরে চলা অস্থিরতা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে ওই দিন সভা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত বুধবার টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে না ফেরার কথা জানিয়েছেন এন চন্দ্রশেখরন। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারির পরে গোষ্ঠীর হাল ধরার জন্য চেয়ারম্যান নিয়োগ দ্রুত সারতে হবে তাদের। এজিএম-এ তার দিশা মেলে কি না, সে দিকে নজর সব মহলের। এখনও পর্যন্ত অবশ্য টাটা সন্সের পক্ষ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের সভার দিন বদলের কথা জানানো হয়নি। এ নিয়ে কোনও মন্তব্যও করেনি তারা।
রতন টাটা ট্রাস্টের হাতে রয়েছে টাটা সন্সের ২৩.৫৬% শেয়ার। দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের হাতে আরও ২৭.৯৮%। বাদ বাকি ট্রাস্ট মিলিয়ে অংশীদারি ৬৬%। ফলে টাটা সন্সের এজিএম-এর জন্য তাদের মনোনীত সদস্যকে উপস্থিত থাকতে হবে। এ দিকে নিজেদের পর্ষদের গঠন নিয়ে মহারাষ্ট্রের চ্যারিটি কমিশনারের কড়াকড়ির মুখে পড়েছে রতন টাটা ট্রাস্ট। যে কারণে তারা বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করতে পারছে না। ফলে সদস্যের মনোনয়নও আটকে। তাই টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা না-ও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, তিনি ফেব্রুয়ারির পরে তৃতীয় বারের জন্য চেয়ারম্যান পদে ফিরবেন না। কারণ, প্রস্তাবটি সকলের সায় পায়নি। পর্ষদের এক জন আপত্তি তুলেছেন। তিনি নাম না নিলেও সূত্রের খবর, এতে আপত্তি তুলেছিলেন টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। প্রাথমিক ভাবে চন্দ্রের উত্তরসূরি হিসেবে গোষ্ঠীর কিছু সংস্থার শীর্ষ কর্তা ও টাটা পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে আসছে। সবচেয়ে বেশি চর্চা টাটা স্টিলের এমডি-সিইও টি ভি নরেন্দ্রন এবং নোয়েলের ছেলে নেভিল টাটাকে ঘিরে। ফলে টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তো বটেই, সারা দেশ এবং আন্তর্জাতিক মহলের বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।