কাগুজে নোটের বদলে ডিজিটাল লেনদেনে বাড়ছে আগ্রহ। ফলে, আর্থিক দেওয়া-নেওয়ায় ‘ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস’ বা ইউপিআই ব্যবহারে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে এ দেশের আমজনতা। এতে সরাসরি নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অপরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট টাকা পাঠাতে পারেন গ্রাহক। আর, সেটা করতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই কিছু অদ্ভুত সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি কিছু কেনাকাটার পর বিল মেটালেন ইউপিআই-এর মাধ্যমে। ফলে, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা গেল টাকা। কিন্তু বিপণী জানাল, বিলের অর্থ পায়নি তারা! এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি আবারও টাকা পাঠাবেন গ্রাহক? না কি রিফান্ডের জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি? আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিবেদনে তুলে দেওয়া হল যাবতীয় প্রশ্নের জবাব।
উল্লেখ্য, প্রতিটি ইউপিআই লেনদেনে প্রেরক ও অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই নিয়ন্ত্রণকারী ‘ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’ (এনপিসিআই)-এর সুইচিং পরিকাঠামো এবং গুগ্ল পে বা ফোনপে-র মতো থার্ড পার্টি অ্যাপের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির যে কোনও একটিতে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে লেনদেন ব্যর্থ বা প্রেরকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার পরেও বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।
ইউপিআই-তে টাকা কেটে নেওয়া সত্ত্বেও লেনদেন অমীমাংসিত থাকলে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর পোশাকি নাম ‘ইউপিআই রিফান্ড’। যেটি ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) ‘টার্ম অ্যারাউন্ড টাইম’ বা টিএটি-তে গ্রাহক ক্ষতিপূরণ কাঠামো দ্বারা পরিচালিত। এই প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত পেতে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে ব্যবহারকারীকে।
অমীমাংসিত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রথমেই ইউপিআই অ্যাপের ইতিহাস (পেমেন্ট হিস্ট্রি) খুলতে হবে গ্রাহককে। সেখানে ঢুকে লেনদেনটি ব্যর্থ বা পেন্ডিং রয়েছে কি না, তা দেখে নেবেন তিনি। দ্বিতীয় ধাপে রেফারেন্স নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে তাঁকে। অবশ্যই প্রাপক টাকা পেয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করবেন ওই ব্যক্তি।
এর পর ইউপিআই অ্যাপের ডিসপিউট বা সমস্যা লেখার বিকল্পটিতে ঢুকতে হবে গ্রাহককে। সেখানে গিয়ে অভিযোগ জানালে একটি টিকিট নম্বর পাবেন তাঁরা। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কের কাছেও আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন তিনি। সেখানে অবশ্যই লেনদেনের বিবরণ, রেফারেন্স এবং টিকিট নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি দিতে হবে তাঁকে।
আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে অমীমাংসিত লেনদেনে টি+১ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক। ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা দাঁড়াবে টি+৫ দিন। যেখানে ‘টি’ বলতে লেনদেনের তারিখকে বোঝানো হয়েছে। তবে, এক্ষেত্রে গ্রাহক কবে অভিযোগ জানাচ্ছেন, সেই দিন বা তারিখটিও বিচার্য।