বিদ্যুৎ, খনি, ধাতু। পশ্চিমবঙ্গে বেদান্তর লগ্নি পরিকল্পনায় যে এই তিন ক্ষেত্র জোরালো ভাবে ঠাঁই পেয়েছে, বুধবার কলকাতায় এসে স্পষ্ট জানালেন প্রতিষ্ঠাতা-কর্ণধার অনিল আগরওয়াল। সেই সূত্রেই বার্তা, রাজ্যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লগ্নির কথা ভাবছেন তাঁরা। মূল প্রকল্প এবং অনুসারি শিল্প মিলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান হবে। শুধু বেদান্ততেই ১০ হাজার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন অনিল। যেমন, আসানসোলে ইউনিট গড়তে চান। ১০ হাজার কাজ দিতে পারবেন স্থানীয়দের। তবে বিস্তারিত না পেলে বেশি বলা যাবে না। আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’ নীতিতে বিশ্বাস করেন না তিনি।
অনিলের দাবি, প্রথমে বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়বেন। তার পরে অ্যালুমিনিয়াম। তৈরি হবে অ্যালুমিনিয়াম স্মেল্টার (আকর থেকে ধাতু নিষ্কাশনের চুল্লি) প্লান্ট। তাঁর কথায়, ‘‘বেশি দেরি করতে চাই না। শীঘ্রই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করব। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প চালুর ইচ্ছে। তবে সব রাজ্য সরকারের সক্রিয় সহযোগিতার উপর নির্ভর করছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‘জায়গা ওঁর হাতে আছে। খতিয়ে দেখবেন সম্ভাব্যতা। আমাদের দিক থেকে যা করণীয় করব, দ্রুত অনুমোদন দেব কাজ শুরুর।’’
এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে কাজ করতে খুব আগ্রহী অনিল। নিজেই বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ছিল বলে বাংলায় আসেননি। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তুষ্টিকরণ, আইনকানুন না থাকাই কারণ। সাতটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে লগ্নি আছে।’’
এই সরকারকে যে তিনি শিল্পবান্ধব মনে করেন, তা জানিয়েছেন অনিলও। দাবি করেন, আসানসোলের কাছে বিধানবাগে বেদান্তর ৩০০ একর জমি রয়েছে। তা ব্যবহৃত হবে। তবে আরও লাগতে পারে। অনিলের কথায়, ‘‘আশা করছি দ্রুত কারখানা গড়ার সব অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি সমস্ত সহযোগিতা করবে রাজ্য। আমাদের লগ্নির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ আগ্রহী বলে মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, তিনি ‘প্রোঅ্যাকটিভ’ভূমিকা নেবেন।’’