খুচরোর পর এ বার পাইকারি বাজার। মুদ্রাস্ফীতির কাঁটায় সেখানেও চড়চড়িয়ে বাড়ছে দাম। এতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ যে চওড়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এই নিয়ে টানা পাঁচ মাস ঊর্ধ্বমুখী রইল পাইকারি মূল্য সূচক বা ডব্লিউপিআই (হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স)। শুধু তা-ই নয়, সর্বাধিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে জ্বালানি ক্ষেত্র। অন্য দিকে স্বস্তি দিয়েছে বিদ্যুতের দর।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রকাশ করে কেন্দ্রের শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক। সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ১১.৩৯ শতাংশে গিয়ে পৌঁছোয় ডব্লিউপিআইয়ের অঙ্ক। অগস্টে সেটা ছিল ৯.৯২ শতাংশ। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো বেড়েছে খাদ্য সূচকের মুদ্রাস্ফীতির হার। অগস্টের ৭.০৫ শতাংশের থেকে চড়ে সেপ্টেম্বরে ৮.৬৬ শতাংশে দৌড় থামিয়েছে সেটি।
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, শেষ ছ’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে ডব্লিউপিআই। গত এপ্রিলে এর হার ছিল ৮.৩৬ শতাংশ। এর পর মে, জুন ও জুলাইয়ে পাইকারি মূল্য সূচকের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৮৮, ৯.৯৭ এবং ৯.৭৮ শতাংশ। এ ছা়ড়া সেপ্টেম্বরে সমস্ত পণ্যের (পড়ুন, অল কমডিটিজ়) ডব্লিউপিআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২.৫। অগস্টে ১১০.৮ পয়েন্ট ছিল এর সূচক। অর্থাৎ পাইকারি মূল্যের সর্বব্যাপী বৃদ্ধি বকলমে স্বীকার করেছে কেন্দ্র।
জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যে পাইকারি বাজারের চাপ বাড়িয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সেপ্টেম্বরে ২৫.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এই ক্ষেত্রের মুদ্রাস্ফীতির সূচক। সেটা অগস্টের ২২.৯৩ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এই বিভাগের শীর্ষ স্থানে রয়েছে খনিজ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস। অগস্টের তুলনায় যেগুলির দাম ৩৮.৪৮ ও ৩৪.৪১ শতাংশের থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে গিয়ে পৌঁছোয় ৪০.০২ এবং ৫৭.৩২ শতাংশে।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে একমাত্র স্বস্তি দিয়েছে বিদ্যুৎ। অগস্টে ১.৭৩ শতাংশ ঋণাত্মকে চলে যায় এই ক্ষেত্রের মুদ্রাস্ফীতির হার। সেপ্টেম্বরে সেটাই গিয়ে দাঁড়ায় ঋণাত্মক ০.৪৩ শতাংশ। পাইকারি মূল্য সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকার নেপথ্যে খনিজ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্য, কয়লা, লিগনাইট, ধাতু সংকর, রাসায়নিক, বস্ত্র, রাবার, প্লাস্টিক এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রক।
সোমবার, ১২ অক্টোবর খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার প্রকাশ করে কেন্দ্রের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক। অগস্টের ৪.৮৩ শতাংশের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সেটাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ। এর জন্য অবশ্য খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকেই মূলত দায়ী করেছে সরকার।