তেরো বছর বয়সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেন আকিরা কুরোসাওয়া। ১৯২৩-এর সেই সব ভূমিকম্প-ধ্বস্ত অঞ্চলে অল্পবয়সি দাদার সঙ্গে পায়ে হেঁটে ঘুরে ঘুরে দেখেছিলেন হাজারো মানুষের স্তূপীকৃত লাশ। কে জানে, এমন অভিজ্ঞতাই হয়তো ভবিষ্যতের বিশ্ববিশ্রুত চলচ্চিত্রকারের সৃষ্টিকর্মে গভীর প্রভাব ফেলেছিল! সুশীল সাহা জানিয়েছেন, “কুরোসাওয়ার ভাষ্যমতে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি সরল সত্য অনুভব করতে সাহায্য করেছিল... ভীতিকর কিছুর দিকে সেইভাবে দৃকপাত করলে ভয় পাওয়ার স্পৃহা ক্রমশ কমে যায়।” আকিরা কুরোসাওয়া ও তাঁর সৃষ্টিবিশ্বকে নতুন ভাবে ফিরে পড়ার প্রণোদনা জোগাবে এই বইটি। গত শতকের অন্যতম সেরা পরিচালক হিসেবে যখন তিনি কর্মময় ছিলেন চল্লিশের দশকের গোড়া থেকে নব্বইয়ের দশকের গোড়া পর্যন্ত, তাঁর সিনেমায় যে ভাবে সেই মুগ্ধতা তৈরি করতেন কুরোসাওয়া, তারই মানবিক সূত্রগুলি খুঁজে দেখার প্রয়াস করেছেন লেখক; তাঁরই ছ’টি ছবি ঘিরে পরিচালকের চিন্তা-মননের নানা দিক পাঠকের কাছে পৌঁছনোর দায়ে। রশোমন, ইকিরু, থ্রোন অব ব্লাড, র্যাপসোডি ইন অগস্ট, দি ইডিয়ট, ড্রিমস— ছবিগুলির আলোচনা রয়েছে এক-একটি অধ্যায়ে, বিশেষ করে ড্রিমস নিয়ে রচনাটি নজরকাড়া। প্রতিটি রচনার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে ছবিগুলির চরিত্রলিপি; কুরোসাওয়ার শিল্পকর্ম চিত্রনাট্য নিয়ে প্রবন্ধাদি এবং তাঁকে নিয়ে লেখা বইপত্রের তালিকাও। চোখ-টানা অঙ্গসজ্জা, সেই সঙ্গে আলোচিত সিনেমাগুলির স্থিরচিত্রের সাদা-কালো মুদ্রিত প্রতিরূপ আকর্ষণীয় করেছে বইটিকে।
বিপর্যয় ও পুনর্জন্মের উপাখ্যান: কুরোসাওয়ার কয়েকটি ছবির নিবিড় অবলোকন
সুশীল সাহা
২২৫.০০
কালি কলম ও ইজেল
বিরাট এই বিশ্বের কতটুকুই বা জানি? বিশেষ করে যখন মানুষের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ ওঠে, অবাক হতে হয়। বিশ্ব দূরস্থান, আমাদের দেশেরই নানা রাজ্যে, নানা গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে খাবার হিসেবে যা জনপ্রিয়, তার নাম শুনলে অন্য অনেক মানুষের নাক কুঁচকে ওঠে। সাধারণ শহুরে মানুষ কি কখনও কল্পনা করতে পারবেন ছত্তীসগঢ়ের বস্তার জেলায় মুরগি ভাজার সঙ্গে চাপড়ার চাটনি খাচ্ছেন, বা তামিলনাড়ুর কোডাইকানালে খাচ্ছেন ‘মসুরু রসম’? সেখানে পালিয়ার জনজাতি গোষ্ঠী মানুষদের কাছে ‘মসুরু’ এক আবেগের নাম, তাঁদের ঐতিহ্য। চাপড়া, মসুরু বাংলার জঙ্গলমহলে ঢুকে হয়ে যায় কুরকুট, হাও ইত্যাদি। আসলে এ সবই নালসে পিঁপড়ে বা লাল পিঁপড়ে। নেহাতই কীটপতঙ্গ বলে দাগিয়ে দিলে ভুল হবে, এরা ভারী উপকারী। উপাদেয় খাদ্য, পুষ্টির জোগানদার; আবার এদের ব্যবহারে সর্দি-কাশি, জ্বরও সারে। কুরকুটদের নিয়েই এই বই: লোকায়ত ধাঁধায় কুরকুট, তাদের নিয়ে গল্প, ডিম সংগ্রহের পদ্ধতি, কুরকুট রেসিপি। খাবারের পাতে যার নাম শুনলে সচরাচর বিশেষ প্রীতি জন্মায় না, তা যে কত রকম ভাবে এ দেশের এক বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, সে সব জানাতেই এই বইয়ের অবতারণা।
কুরকুট: হাও, কাই, চাপড়া, নালসে, লাল পিঁপড়ে
বিধান দেবনাথ
৩০০.০০
কবিতিকা
১৭৫৮-য় গোবিন্দপুরে নতুন ফোর্ট উইলিয়াম তৈরির জন্য জমির ব্যবস্থা করতে শেঠ, বসাক, ঠাকুর, মল্লিকদের মতো প্রাচীন পরিবারের জমি ও বাড়ি অধিগ্রহণ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। পরিবর্তে তাদের জায়গা দেওয়া হয় কালীঘাটগামী তীর্থযাত্রীদের পথ, অর্থাৎ চিৎপুর রোড লাগোয়া সুতানুটিতে। সেই সময়ই সুতানুটির সাহেবরা উঠে যেতে শুরু করেন নতুন কেল্লার লাগোয়া এলাকায়। ফলে এক ধরনের জনসংখ্যার অদলবদল হয়ে দেশি পাড়া ও শ্বেতাঙ্গ পাড়ায় ভাগ হল কলকাতা। আঠারো-উনিশ শতকে কলকাতার সেই দেশি পাড়ার কেন্দ্রস্থলে থাকা পাথুরিয়াঘাটা অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের খতিয়ান রয়েছে বইটিতে। মল্লিকদের বিভিন্ন গোষ্ঠী, সুখময় রায়ের বংশধর থেকে ঠাকুর পরিবারের আভিজাত্যের রেশ আজও মেলে চিৎপুর রোডের এই অংশে। আধুনিক শহর হয়ে ওঠার পর্বে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ধর্ম ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে পাথুরিয়াঘাটা ও সংলগ্ন এলাকার কৃতী মানুষদের অবদান জানা যাবে। স্থানীয় ইতিহাস চর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত স্থাননামের উৎস, গৃহদেবতা-কুলদেবতা কথা, সমাজরীতি, বিলাস, দানধ্যানের প্রসঙ্গও এসেছে। তবে তথ্যসূত্র-নির্দেশ নিয়ে আরও যত্নবান হওয়া চাই, সমাজমাধ্যমের মন্তব্যকে তথ্যের মর্যাদা দেওয়ার আগে তার যাথার্থ্য সুনিশ্চিত করা দরকার়। নন্দকুমারের ছবি হিসেবে বরোদার মহারাজার ছবি ছেপে দেওয়া— ঠিক হল?
পাথুরিয়াঘাটার ইতিবৃত্ত
শান্তা শ্রীমানী
৭৫০.০০
পত্রলেখা