E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভাবনার বিচিত্র তরঙ্গভঙ্গ

বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ প্রেমচন্দ বিভূতিভূষণ তারাশঙ্কর সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে শরৎ-সংযোগও আলোচিত।

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১৫
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শরৎচন্দ্রের জন্মের ১২৫ বছরে হয়েছিল একটি সংখ্যা, দেড়শো বছরে সেই বৃত্ত পূর্ণ হল। চল্লিশটি প্রবন্ধকে ভাগ করা হয়েছে পাঁচটি পর্বে: শরৎচন্দ্রের উপন্যাস ছোটগল্প প্রবন্ধ চিঠিপত্রের ছানবিন করে সময়ের নিরিখে মূল্যায়ন করেছেন গোপা দত্ত ভৌমিক দর্শন চৌধুরী শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। অসাধারণ গায়ক ছিলেন শরৎচন্দ্র, এসেছে সে-প্রসঙ্গও। থিয়েটার সিনেমা কী ভাবে অধিকার করেছিল শরৎ-সাহিত্য, জানতে পারবেন পাঠক। হিন্দি ওড়িয়া তেলুগু-সহ নানান ভাষায় তাঁর সাহিত্যকর্মগুলি অনূদিত হয়ে আসছে অনেক কাল আগে থেকেই, এমনই তার অনায়াস বিস্তার যে বাংলার বাইরে অন্য ভাষাভাষী অনেকেই মনে করেন শরৎচন্দ্র ছিলেন তাঁদের ভাষারই লেখক। বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ প্রেমচন্দ বিভূতিভূষণ তারাশঙ্কর সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে শরৎ-সংযোগও আলোচিত। সঙ্গে সমকালীন দুই বাংলার কথাকারদের কলমে শরৎ-বিশ্বের পুনরবলোকনও।

কোরক, সার্ধশতবর্ষে শরৎচন্দ্র

সম্পা: তাপস ভৌমিক

৩০০.০০

“পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮-৩০ শতাংশ হলেও শিক্ষা, চাকরি, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিসরে তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রান্তিক,” এই সত্য উচ্চারিত সম্পাদকীয়তে। সমসাময়িক রাজনীতি অর্থনীতি বিষয়ক লেখাগুলি বলিষ্ঠ; এসেছে বাংলার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পালাবদল-প্রসঙ্গ, আলোচিত হয়েছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভারতের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারে রাশ টানার প্রয়োজনীয়তা। জীবনানন্দ-চর্চা নিয়ে দীপক সাহা ও রাকিবুজ্জামান মণ্ডলের লেখা; ‘অন্নদাশংকর রায়-এর সাথে এক সকাল’, ‘উন্নয়ন রাজনীতির গোড়ার কথা’, ‘সংবিধানের শাসন’, ‘ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের ভূমিকা’-সহ একগুচ্ছ লেখা। প্রবন্ধ, কবিতা, চলচ্চিত্র-লেখা।

উদার আকাশ, ইদ-শারদ সংখ্যা

সম্পা: ফারুক আহমেদ

১০০০.০০

নিজের প্রবন্ধে মিশেল ফুকো জানিয়েছিলেন যে, বিশ শতক হয়তো সংজ্ঞায়িত হবে জিল দ্যলোজের নামে। ফরাসি উত্তর-আধুনিক চিন্তক জিল দ্যলোজের প্রভাব শুধুমাত্র দর্শনের গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকেনি; বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, সিনেমা, ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মতো ক্ষেত্রেও তাঁর অনুসন্ধান, চিন্তাভাবনা ছাপ রেখে গেছে, এই শতকেও। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ফিরে দেখা দ্যলোজের জীবনকথা ও দর্শন, একাধিক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে। তাঁর নিজের কলমে প্লেটোর তত্ত্ব, ফ্রান্সিস বেকন, সাহিত্য-জীবন, চিত্রকলা-আলোকচিত্র-ধর্ম নিয়ে লেখালিখির অনুবাদে সমৃদ্ধ এই সংখ্যা। সঙ্গে ফেলিক্স গুয়াতারি-কে লেখা দ্যলোজের চিঠি, অ্যান্টি-ইডিপাস নিয়ে দু’জনের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। এ ছাড়াও আছে জিল দ্যলোজের পাঁচটি আঁকা, গ্রন্থপঞ্জি, ও চিত্রমালা।

এবং মুশায়েরা, জিল দ্যলোজ

সম্পা: সুবল সামন্ত

৬০০.০০

ভারতের সাম্প্রতিক জন-আন্দোলনগুলি প্রধান বিষয়। “নয়ডার আন্দোলনের তাৎপর্য এখানেই যে, একটি কারখানা বা কর্মক্ষেত্রের সমস্যা বৃহত্তর শিল্পাঞ্চলের প্রশ্নে পরিণত হতে পেরেছে,” লিখছেন গার্গী চট্টোপাধ্যায়। বুন্দেলখণ্ডে কেন-বেতওয়া সংযোগ প্রকল্পে বাস্তুহারাদের আন্দোলন সরেজমিনে দেখে শবনম গুরুং লিখছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সমীক্ষায় বাদ যাচ্ছেন মহিলারা। নতুন সমীক্ষার দাবিতে মেয়েরা প্রতীকী চিতায় শুয়ে, জলে ডুবে প্রতিবাদ করেছেন, মিলেছে কেবল মিথ্যা আশ্বাস। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ডে সরকারিকর্মী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে আশাকর্মীদের আন্দোলনের সমর্থনে লিখেছেন অশোক সরকার। পশ্চিমবঙ্গের চা বাগানে শ্রমিক লড়াই, লাদাখে পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনও আলোচিত। ‘যাদবপুর কাণ্ড’ নিবন্ধে রংগন চক্রবর্তী লিখছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উচ্ছৃঙ্খল সংস্কৃতি’র নিন্দার মূলে “যুগ যুগ ধরে চলে আসা মেয়েদের শরীর ও মনের ওপর সামাজিক শাসনের ইতিহাস।” আসন্ন পুরনির্বাচনে যেন গুরুত্ব পায় প্রাথমিক স্কুলগুলির সংস্কার, বলছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, কারণ “পুরসভার স্কুলকে পিছিয়ে রেখে শহরের শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা যায় না।” রাজ্যের তিনটি শ্রমিক সমবায়ের সাফল্য-সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেছেন রজতকান্তি সুর: সোনালি চা বাগান, সত্যযুগ শ্রমিক সমবায় এবং নির্মাণ শ্রমিকদের ইমারত স্বনির্ভর গোষ্ঠী। শঙ্কর গুহ নিয়োগীর ‘সংঘর্ষ ও নির্মাণ’ দর্শন নিয়ে লিখেছেন পুণ্যব্রত গুণ।

শ্রমজীবী ভাষা, অক্টোবর-নভেম্বর ২৬

সম্পা: উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্র দস্তিদার, অশোক সরকার

৫০.০০

গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতার পাশাপাশি ছোটদের বিভাগ, তথ্যচিত্র, কৌতুক ও প্রহসন, পুজোর নাটক, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, খেলা। রয়েছে ‘বেড়াল সম্পর্কে দুটো একটা কথা যা আমি জানি’ এবং ‘বাসুদেব দাশগুপ্ত-এর ডায়েরি থেকে’ শীর্ষক অপ্রকাশিত পূর্ণেন্দু পত্রী ও অপ্রকাশিত বাসুদেব দাশগুপ্ত। শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপচারিতা, ভাল লাগে পড়তে। কৌশিক দত্তের লেখা ‘দেবী সুহ্মেশ্বরী’ নিয়ে, সঙ্গে সন্মাত্রানন্দ, বিমল লামা, হিন্দোল ভট্টাচার্য, অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়: এই সময়ের শক্তিশালী কলমে লেখা।

উজানস্রোত, শারদীয় ১৪৩৩

সম্পা: স্বর্ণালী হাজরা

৩০০.০০

স্মৃতিকথার ঝাঁপি থেকে উঠে এসেছে দেশভাগ, দুই বাংলার রান্নার ধরন, ‘ঘটি-বাঙাল’ মিলমিশ ও দ্বন্দ্ব। ‘মায়ের হাতের রান্না’ ঘিরে একগুচ্ছ লেখা— উনুনের ধোঁয়া, শিলনোড়ায় বাটা মশলার গন্ধ আর শৈশবের স্মৃতি হাতড়ানোর ছলে পরিচয় করায় বাঙালির সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সঙ্গে। নস্টালজিয়ার পাশাপাশি এক জরুরি সামাজিক ভাবনার সামনেও দাঁড় করায়: মায়ের হাতের রান্না বলতে আমরা তাঁদের ভালবাসার কথা ভাবি, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে তাঁদের সারা দিনের নিরবচ্ছিন্ন শ্রম ও ক্লান্তি, পারিবারিক কাঠামোর কঠিন বাস্তবতা। রান্নাঘরের কাজে লিঙ্গসাম্য, পারস্পরিক সম্মান ও সাধ্যমতো দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বয়ানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সঙ্গে রয়েছে ‘মায়ের রান্নার খাতা’, পাতায় পাতায় বিখ্যাত মানুষদের রান্না সংক্রান্ত স্মৃতি, পারিবারিক সংস্কৃতির কথা। বিদ্যাসাগর বা বিপিনচন্দ্র পালের মতো মানুষও যে রান্নাঘরে সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, বোঝা যায় খাতার বিভিন্ন উল্লেখ থেকে। রান্নার টুকরো রেসিপি একসূত্রে গেঁথে পারিবারিক ইতিহাসের প্রামাণ্য নথি তৈরির চেষ্টা।

চারুপাঠ, মায়ের হাতের রান্না

সম্পা: সোমনাথ মুখোপাধ্যায়

৫০০.০০

১৯৪৭-এর ১৩ মে অকালে হারিয়ে যান এক বিরল প্রতিভা, ভারতের স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৯৩ দিন আগে— সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর দুঃসহ স্পর্ধার কলম থেকেই বেরিয়েছিল সেই পঙ্‌ক্তি: “আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়/ পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা...” এ বছর তাঁর জন্মশতবর্ষ। জেন-জ়ি আন্দোলন এক নতুন আন্দোলনের তরঙ্গভঙ্গের জন্ম দিয়েছে ভারতে এবং সারা বিশ্ব জুড়েও, এই আবহে তরুণ কবিকে স্মরণ করেছে পত্রিকাটি। সেখানে ‘সুকান্ত ভট্টাচার্য: বিপ্লব ও কবিতার ভারসাম্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ লিখেছেন দেবেশ ঠাকুর। রয়েছে একগুচ্ছ ছোটগল্প, কবিতা, শ্রদ্ধার্ঘ্য, সমসাময়িক প্রসঙ্গে লিখিত এই সংখ্যার প্রবন্ধগুলিও। বাংলা সমালোচনা ও প্রবন্ধ-সাহিত্যে বিশিষ্ট নাম অধ্যাপক সুমিতা চক্রবর্তীর আশি বছর পূর্ণ হল, সেই বিষয়ে লিখেছেন মেঘ মুখোপাধ্যায়।

বাংলার আভাষ, এপ্রিল-সেপ্টেম্বর

সম্পা: আশিস পান্ডে

১০০.০০

মহাভারত মহাকাব্য, ইতিহাসের স্মৃতি, ধর্মগ্রন্থ ও নীতিশাস্ত্র, আবার রাজনীতির উৎস। বিনোদনও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নতুন ভাবে তুলে ধরার এই ক্ষমতাই তার বড় শক্তি। এই জোরেই আজও আধুনিক মানুষের সামাজিক ও মানসিক সঙ্কটে কৌতূহলী পাঠক তা থেকে পথনির্দেশ পান। মহাভারতের এই বহুমুখী রূপকে কেন্দ্র করেই নতুন পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা। মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভূমিকা বিচার করে মহাভারতের ভাবনার গভীরতা মেপে দেখার চেষ্টা সেখানে। মোগল আমলে মহাভারতের অনুবাদের মধ্য দিয়ে কী ভাবে ভারতীয় সংস্কৃতিতে ভাবের আদান-প্রদান ঘটেছিল— এসেছে সেই চিত্রও। পণ্ডিত, শিক্ষক, গবেষক, ইতিহাসের পাশাপাশি ভূ-পদার্থবিদ্যা, লিঙ্গভিত্তিক চর্চা, প্রত্নতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব ও তুলনামূলক সাহিত্যের মতো বহু ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা মহাভারতের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পাঠে আগ্রহীদের কাজে দেবে।

বীক্ষণ, প্রসঙ্গ: মহাভারত— ইতিহাস ও বহুমাত্রিকতা

সম্পা: শ্রেয়সী সেন

৬০০.০০

সমকালীন সাহিত্যের পরিচয় চারটি স্বতন্ত্র বিভাগে। ‘প্রকল্প’ অংশে মননশীল প্রবন্ধ: রাষ্ট্রভাষা, প্রশাসনিক ভাষা, শিক্ষার ভাষা ও নিজের ভাষার রূপ-বৈশিষ্ট্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পবিত্র সরকারের। সাউথ পার্ক স্ট্রিট কবরস্থানে হেনরি ডিরোজিয়োর হারিয়ে যাওয়া সমাধির খোঁজ ও তা সংস্কারের ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি নথিবদ্ধ করেছেন শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়। শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোচনা বাদল সরকারকে ঘিরে; রবীন্দ্রনাথের পুরাণভিত্তিক লিখনশৈলীর বিশ্লেষণে হান্স হার্ডার। শতবর্ষে উত্তমকুমার, শৈলবালা ঘোষজায়ার ছোটগল্প নিয়েও নিবন্ধ। ‘কল্প’ বিভাগে ছোটগল্প; শহর ও গ্রামের মানসিক ও নৈতিক টানাপড়েন, বিশ্বায়ন-পরবর্তী রাজনৈতিক ওলটপালটে নাগরিক জীবনের সঙ্কট উঠে এসেছে। ‘অনুকল্প’ অংশে একগুচ্ছ কবিতা; নজর কাড়ে অনুবাদ সাহিত্যের ‘বিকল্প’ বিভাগটি। গুস্তাভ ফ্লবের গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ডরোথি পার্কার নীল গেম্যান স্লাভিৎসা ক্লিমকভস্কি আর্কেদি আভেরচেঙ্কা দিনো বুজ্জাতির অনুবাদ, ইংরেজি স্প্যানিশ জার্মান রুশ ফরাসি ইটালিয়ান থেকে।

ঋতবাক ২০২৬

সম্পা: সুস্মিতা বসু সিংহ

৪০০.০০

কোনও জনগোষ্ঠীকে অধিকারচ্যুত করার সহজতম উপায় তাঁদের সম্পর্কে উদ্দেশ্যমূলক ‘গল্প’ বলা; এতেই লুকিয়ে ক্ষমতার আসল চরিত্র— জানাচ্ছেন নাইজিরিয়ার লেখিকা চিমামান্দা এনগোজি আদিচে। এই ঘৃণাপ্রচারের পৃথিবীতে ঘোর সত্য। এই বক্তৃতা ছাড়াও আছে তাঁর সাক্ষাৎকার, দু’টি গল্পের অনুবাদ। আভাঁ-গার্দ সাহিত্যের স্বর, চিনা লেখক কান শুয়ে-র ‘রেড লিভস’ গল্পের অনুবাদ, তাঁর সাক্ষাৎকার। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই-এর প্রথম উপন্যাস শাতানটাঙ্গো-র অনুবাদ, সঙ্গে আর এক নোবেলজয়ী হান কাং-এর ছোটগল্প ‘দ্য ফ্রুট অব মাই উওম্যান’-এর ভাষান্তর। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতার পাশাপাশি অনুবাদে মার্গারেট অ্যাটউড জঁ বদ্রিয়ার ইউসুফ ইদ্রিস আগ্নেস ভার্দা-কে।

ধূসর শহর, চিমামান্দা এনগোজি আদিচি

সম্পা: দেবাশিস চক্রবর্তী

৩০০.০০

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাংলাদেশের জন্মকাহিনি। অগণিত বাঙালির উপর অত্যাচারের কথা, পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত উচ্চপদস্থ ও সাধারণ বাঙালির যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর দুর্দশা, সর্বোপরি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অবদানের তথ্যনির্ভর বয়ান। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের বাঙালিদের পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার নেপথ্যে ছিল স্বাধীন জাতিসত্তার প্রেরণা। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক-অসামরিক বাঙালি আধিকারিকদের সন্দেহভাজন-তালিকাভুক্ত করা, বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরে পশ্চিম পাকিস্তানের বাঙালি নাগরিকদের ‘অবিশ্বস্ত’ ও ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার, যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের দর কষাকষিতে বাঙালিদের ব্যবহার করা, সমসাময়িক কমিউনিস্টদের ভূমিকা-সহ বহু অজানা তথ্য, দুই বাংলার লেখকদের রচনায়। তবে সবচেয়ে বড় সম্পদ করণ সিংহ, জয়রাম রমেশ, বাহরাম এম পান্থকি ও শ্রীনাথ রাঘবনের সাক্ষাৎকার।

অন্বেষা, ইন্দিরা-’৭১

সম্পা: শ্রীপর্ণা মিত্র

২৫০.০০

যা দিনকাল, তাতে অমর্ত্য সেন যখন বলেন ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে শাসন’, মনে হয় এক আশ্চর্য স্বপ্নের দেশ গড়ার রসায়ন। কিন্তু এই শাসনও কি যথেষ্ট সহযোগিতা, সংহতি তৈরি করতে পারে? এক জন শ্রমিক আর এক জন আদানির মধ্যে আলোচনা কেমন হতে পারে? ফলে বৈষম্য দূর করাই আগে দরকার, তার পর আলোচনার শাসনকাজ, আর সেই লক্ষ্যেই অমর্ত্য সেনের ভাবনাসূত্র আমাদের সহায়তা করতে পারে— জঁ দ্রেজ় বলেছিলেন এক বক্তৃতায়, ২০২৫-এ; তা অনূদিত হয়ে প্রকাশিত। সৌরীন ভট্টাচার্যের অমর্ত্য-প্রবন্ধও অতি মূল্যবান। দুই মলাটে সুপাঠ্য প্রবন্ধের সমাহার: জয়ন্তবিষ্ণু নারলিকার ভারতজ্যোতি রায়চৌধুরী ও শৈলেন মিশ্র বিষয়ক প্রয়াণলেখ-প্রবন্ধ; অনুরাধা রায় শিমূল সেন রুশতী সেন অনিতা অগ্নিহোত্রী আশীষ লাহিড়ী তাপস ভট্টাচার্যের লেখা সংগ্রহযোগ্য; কবিতাসমূহ ভাল। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কয়েকটি সুচিন্তিত লেখা। বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার দুর্দিনে তার মূল্য আলাদা।

দাগ, ভাষা শৃঙ্গার

সম্পা: মনোনীতা চক্রবর্তী

৬০০.০০

আবিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক সঙ্কট নিয়ে আলোচনা শমীক লাহিড়ীর: সাধারণ মানুষের উপর কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি আরোপের অসারতার কথা সেখানে। মহাবিশ্ব থেকে কৃষিক্ষেত্র কী ভাবে বর্ণিত কবি দেবদাস আচার্যের কবিতায়, তা নিয়ে মৃদুল দাশগুপ্তের স্মরণ। মননশীল প্রবন্ধগুচ্ছ; গুচ্ছ কবিতা অরণি বসুর। আকাশবাণী কলকাতার শততম জন্মদিন উপলক্ষে ভবেশ দাশের রচনায় ধরা আছে, এই কেন্দ্রটি কী ভাবে শ্রোতাদের চিরসখা হয়ে উঠল। সর্বোপরি শতবর্ষে কুমার রায়কে নিয়ে ক্রোড়পত্র, তাতে কুমার রায়ের চারটি প্রবন্ধ— তৃপ্তি মিত্রকে নিয়ে লেখা দু’টি সবিশেষ উল্লেখ্য। কুমার রায়কে নিয়ে লিখেছেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় অশোক মুখোপাধ্যায় দেবাশিস মজুমদার সৌমিত্র বসু দেবেশ রায়চৌধুরী প্রমুখ, লিখেছেন ও প্রচ্ছদ এঁকেছেন ইন্দ্রপ্রমিত রায়।

পরম্পরা, এপ্রিল-জুন ২০২৬

সম্পা: গৌতম দাশ

৪৫০.০০

ইউনেস্কোর বিবৃতি মনে করায়, “একটি ভাষা মানে একটি স্বতন্ত্র চিন্তন কাঠামো, তার নিজস্ব শব্দ রূপক আর ধ্বনি মিলিয়ে এক স্থাপত্য কীর্তি।” ভাষা ও চিন্তনের আত্মিক বন্ধন, মানুষের অন্তরের গভীরে প্রোথিত ভাষার ধ্রুপদী রূপের সন্ধান, নানা লেখায়। উঠে এসেছে রাজনীতির ভাষা, ভ্রমণের ভাষা, শিল্প-ভাস্কর্যের ভাষা। রাশিয়ান চিত্রশিল্পী ক্যান্ডিনস্কির শব্দ দেখতে পাওয়ার, চিত্রশিল্পীদের বিদেশি অনুকরণের ভাষা থেকে বেরিয়ে আসার গল্প। রঘু রাই থেকে দিব্যেন্দু দাশগুপ্তের আলোকচিত্রের যাত্রা: যেখানে সাদা বরফচূড়ার ছায়া নদীর জলের উপর পড়ে এক অন্য ভাষার অনুভব তৈরি করে। ইসলামপুর থেকে প্রকাশিত, সাড়ে ছয়শোরও বেশি পৃষ্ঠার পত্রিকাটি মনে করায়, অক্ষরের হাড়-মাংস-পাঁজরে আস্থা রাখা চলে, কারণ তা জীবনেরই ভাষা।

নন্দিনী অন্যভাবনা, চৈত্র ১৪৩২

সম্পা: বিক্রমজিৎ মণ্ডল

৫০০.০০

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Review book review

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy