গত চল্লিশ বছর ধরে মানব-বিবর্তন নিয়ে বই লেখা হয়েছে একের পর এক। আধুনিক মানুষকে সাক্ষী ধরে যুক্তির জাল বুনে গবেষকরা পিছনে হেঁটেছেন লক্ষ বছর। এক-একটা গবেষণার মোচড় মানব-বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ বদলে দিয়েছে। লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের অচেনা, গন্তব্যহীন পথে মানুষ এগিয়েছে, হারিয়েছে বাকি সব প্রাণের মতোই। সুমন প্রতিহারের মানুষ কী করে মানুষ হল বইটিতে বিজ্ঞানের নিক্তিতে মাপা হয়েছে গাছ থেকে নেমে দাঁড়ানো, হাঁটা, দৌড়ানো, রান্না, হাতিয়ার, চাষবাস, আহার, মদ্যপান, ব্যবসা, প্রেম, বিবাহ, ধর্ম, সমাধি বিবর্তনের প্রতিটি ছোট-বড় মাইলফলক। আফ্রিকায় বিবর্তিত হয়ে পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় মানব পরিযাণের গতিপথ সাবলীল আলোচনা করেছেন সুমন। প্রাঞ্জল গদ্যে জিন-মানচিত্রের আলোকে পৃথিবীর বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর বিবর্তনের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। এর মধ্যে কিছু নিবন্ধ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আগেই প্রকাশিত। তবে নিবন্ধগুলি দুই মলাটের মধ্যে এলেও ধারাবাহিক নয়। ভূমিকায় লেখক বলেছেন, “আট বছর ধরে লেখা নিবন্ধগুলো সময়ের সঙ্গে নিজেদের স্বতন্ত্র করেছে।” নৃতত্ত্ব, প্রত্নতত্ত্ব, জীবাশ্মবিদ্যা, পুরাতত্ত্ব, বিবর্তনবিদ্যা, অ্যানাটমি, স্নায়ুবিজ্ঞান, জিন-বিজ্ঞান, জলবায়ু বিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব, প্যালিয়ো-জিনোমিক্স, বিজ্ঞানের পুরাতন থেকে নতুন সমস্ত শাখার যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণে কাটাছেঁড়া হয়েছে মানব-বিবর্তনের প্রতিটি পদক্ষেপ।
মানুষ কী করে মানুষ হল
সুমন প্রতিহার
৫৫০.০০
গাঙচিল
রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে গেলে, রাষ্ট্রব্যবস্থার বদল চাইলে রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থাকে কখনওই তারা মেনে নেয় না, শাসন ভীতি-প্রদর্শনের পর তাদের দাঁতনখ সব বেরিয়ে পড়ে। এমন এক অন্তর্লীন তথ্য চারিয়ে দিতে থাকেন লেখিকা তাঁর এই আখ্যানদ্বয় জুড়ে। তবে সেই তথ্যজ্ঞাপন এতটাই লুকোনো থাকে এই দুই নভেলায়, পড়তে পড়তে কোথাও হোঁচট লাগবে না পাঠকের, তরতরে তাজা বিন্যাসে মজে থাকবেন পাঠক। ‘এনকাউন্টার’ আর ‘অন্তর্ধানের নেপথ্যে’— প্রথমটি আয়তনে বড়, সময়ক্রম গত শতকের ষাটের দশকের শেষ থেকে শুরু হয়ে এসে পৌঁছয় নতুন শতকের দ্বিতীয় দশকে। তাতে যেমন শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, তেমনই চিহ্নিত হয় নকশালপন্থী নিধনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। স্থিরীকৃত এই সময়পর্ব ফ্ল্যাশব্যাক ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড রীতিতে উঠে আসে। গোটা আখ্যানভাগে পশ্চিমবঙ্গের নানা অংশ, দার্জিলিং বীরভূম বা কলকাতার কলেজ স্ট্রিট যাদবপুর নরেন্দ্রপুর বাগবাজার মানিকতলা পার্কসার্কাস ইএমবাইপাস যেন ইতিহাসের ‘ডকুমেন্ট’ হয়ে ওঠে, যার ভিত্তি ছাড়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্বে পরিপ্রেক্ষিতের পরিবর্তন ধরাই পড়তে পারে না, তেমন ভাবেই সমাজ ও দেশের তথ্যগত বিবরণ দিয়ে চলেন লেখিকা। দ্বিতীয়টিতেও তা বজায় থাকে, শুধু সময়ক্রম পাল্টে যায়, শুরু হয় ১৯৯৭-এ, শেষ ২০২৩-এ। আখ্যান কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে উঠলেই তাকে থ্রিলার বলে চালানোর চেষ্টা চলছে আজকাল, এও এক ধরনের শিল্পরীতি ভুলিয়ে দেওয়ার খেলা। উপন্যাসের আঙ্গিক বলব কাকে, ঔপন্যাসিকের অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানকে যা উপন্যাসে পরিণত করে সেটাই আদত আঙ্গিক বা ফর্ম, সেই নতুন ধরনের উপন্যাসের খোঁজেই রচনা দু’টির সৃষ্টি।
এনকাউন্টার
দীপান্বিতা রায়
২৯৯.০০
দে’জ়
“চরিত্রটা তাঁর যতটা মনে ধরেছে জটায়ুর ইলাস্ট্রেশন ততটা ধরেনি।... সন্তোষের মনে হচ্ছে জটায়ু তাঁর ভিতরে যেমনটা রূপ নিচ্ছে, পর্দায় তিনি ঠিক তেমনটা করবেন।” অতঃপর দুঁদে আইনজীবী উকিলের ভূমিকা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে রওনা দিলেন রাজস্থান, ফেলুদার সোনার কেল্লা অভিযানে সঙ্গী হতে। জটায়ুরূপে সন্তোষ দত্তের জনপ্রিয়তা এমন মাত্রা ছুঁল যে, বইয়ের প্রাথমিক চিত্রণ বদলে সন্তোষ দত্তের আদলে আঁকলেন সত্যজিৎ রায়। সন্তোষ দত্তের জন্মশতবর্ষে তাঁর জীবননির্ভর এই উপন্যাসে উঠে এসেছে জানা-অজানা কথা: প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে মিশেছে কল্পনা, ফিরে দেখা হয়েছে কিংবদন্তি অভিনেতাকে। চাকরিজীবনে অফিসের নাটকে অভিনয়-পরিচালনা; অফিস কেটে শিশির ভাদুড়ী শম্ভু মিত্র উৎপল দত্তের প্রযোজনা গোগ্রাসে গিলতেন। ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে আইনের ছাত্র, পরে ওকালতি ও অভিনয়, পাশাপাশি অন্তরমহলে স্ত্রী প্রতিমাদেবী, মেয়ে বুলার সঙ্গে তাঁর রসায়ন ফুটিয়ে তোলে সেকালের কলকাতা-জীবন। চিত্রজগতের খ্যাতনামাদের সঙ্গে সংযোগ, আদালতে তাঁর সওয়াল-জবাব ধরা আছে আখ্যানে। ব্যবহৃত ছবির ক্ষেত্রে চিত্রঋণ, শিল্পীকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁদের সঙ্গে কথোপকথন, নানা বই-পত্রিকা এই বইয়ের রসদ। ‘জীবনী’মূলক উপন্যাস, তাই গ্রন্থপঞ্জি দিলে ভাল হত।
জটায়ু পুরাণ
দীপারুণ ভট্টাচার্য
৩৫০.০০
দীপ প্রকাশন