বাংলা ভাষায় মানবীবিদ্যাচর্চার ধারাটি গত তিন দশকে গতিময় হয়ে উঠেছে। সেখানে নতুন তরঙ্গ তোলা সহজ নয়। নতুনত্বের স্বাদ মেলে জয়া মিত্রের ‘কাত্যায়নীর কথা’, শর্মিষ্ঠা দত্তগুপ্তের ‘রোকেয়া থেকে গৌরী’ প্রবন্ধে। কিছু প্রবন্ধের বিষয়বস্তুও অনেকখানি অচেনা— যেমন কেরলে বাংলার মেয়ে শ্রমিকদের জীবন, পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারে মেয়ে-বৌদের জীবন, পূর্ব উপকূলে মৎস্যজীবী মেয়েদের লড়াই, তাঁতি মেয়ে বা মহিলা প্রতিমাশিল্পীদের কথা, কর্মরত মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য। পশ্চিমবঙ্গে গৃহপরিচারিকাদের আন্দোলনের ধারা তুলে ধরেছেন শমিতা সেন। জাতীয়তাবাদ ও নারী বিষয়ে মননশীল বিশ্লেষণ করেছেন অনুরাধা রায়। উনিশ শতকে বাংলার আদালতে মেয়েদের সম্পত্তি-বঞ্চিত করতে কী ভাবে প্রয়োগ হত সতীত্বের ধারণা, দেখিয়েছেন অপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমতার আন্দোলন এই সংখ্যার একটি বিশেষ চিহ্নক; পারিবারিক আইনে সমতা চেয়ে মুসলিম মেয়েদের লড়াই, ট্রান্স ও সমকামী মানুষের সমানাধিকার আন্দোলনের কথা উঠে এসেছে সাবনূর সনম কামিনী, সুমিতা বীথি, অনুরাগ মৈত্রী ও আফরোজা খাতুনের লেখায়। কুমার রাণা ঝাড়খণ্ডের শিক্ষিত, কর্মরত আদিবাসী মেয়েদের চিন্তার জগৎ তুলে ধরেছেন। দলিত মেয়েদের কথা উঠে এসেছে আত্মজীবনীর আলোচনায়, সাক্ষাৎকারে। রবীন্দ্রনাথের নারী-বিষয়ক ভাবনা নিয়ে লিখেছেন আব্দুল কাফি, বিশ্বজিৎ রায় ও মলয় রক্ষিত। অনিতা অগ্নিহোত্রী, সুমিতা চক্রবর্তী, তৃপ্তি সান্ত্রা, নব দত্তের প্রবন্ধের পাশাপাশি ৯৬৬ পাতার এই সংখ্যার অনন্য প্রাপ্তি সুদীপ্ত কবিরাজের দীর্ঘ প্রবন্ধ ‘রাধাচরিত্র’।
অনুষ্টুপ, নারীবিষয়ক বিশেষ সংখ্যা
অতিথি সম্পা: যশোধরা রায়চৌধুরী
৭০০.০০
বাংলা হরফ নিয়ে আলোচনায় সাধারণত ১৭৭৮-এ নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড-এর বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও তার পরের অন্যান্য বইয়ে ‘মুভেবল টাইপ’, বা বিচল হরফে ছাপার কথা উঠে আসে। কিন্তু ১৭৭৮-পূর্ব সময়েও বাংলা হরফের নমুনা পাওয়া যায়; ‘ব্লক’ থেকে, অর্থাৎ তামার পাতে খোদাই করে যে ছাপা, তা দিয়ে। অন্তত গোটাকয়েক বইয়ের নিদর্শন তো আছেই, যার মধ্যে ১৬৯২ সালের ‘পদার্থবিদ্যা ও গণিত সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণসমূহ’-ই বাংলা হরফের প্রথম ছাপা বলে জানা যায়। নানা অজানা, প্রচলিত ভুলের উপর নতুন আলো এই সংখ্যায়, একটিই দীর্ঘ গবেষণাধর্মী প্রবন্ধে, প্রামাণ্য ছবি-সহ।
হরফচর্চা ১০
সম্পা: সুস্নাত চৌধুরী
৮০.০০
উজ্জ্বল রত্নের দ্যুতি, সংখ্যাটি জুড়ে। ১৯৫৭-য় চিন সফরে গিয়েছিলেন প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ, সেই সময়ের অপ্রকাশিত দিনলিপির পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ করেছেন দীপাঞ্জনা মণ্ডল। চিনে পরিসংখ্যানের পদ্ধতি ও তার নির্ভরযোগ্যতা, চিন সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে প্রশান্তচন্দ্রের মন্তব্যের পাশাপাশি রয়েছে চিনা শিল্প, ঘাটতি বাজেট, জন্মনিয়ন্ত্রণ, বর্ণমালা থেকে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে তাঁর পর্যালোচনাও। অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে ভবানী সেনের প্রস্তাবের খসড়া রয়েছে প্রবন্ধাকারে, ‘স্বাধীন ভারতে স্বাধীন বাংলা’। অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদে দেব নাথনের বক্তৃতা ‘বিশ্ব অর্থনীতির যুগসন্ধিতে মেরুবিন্যাস’, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমার বইজীবন’, সৌরীন ভট্টাচার্যের ‘বিশ্বভারতী ও বৃহত্তর ভারত’— নানা ভাবনার সম্মিলন। অরিন্দম চক্রবর্তীর দু’টি পদ্য-প্রবন্ধ, আশীষ লাহিড়ী রুশতী সেন সোমেশ্বর ভৌমিক কুমার রাণা বিশ্বজিৎ রায়ের কলমে প্রবন্ধ, এ ছাড়াও গল্প কবিতা পত্রাবলির সম্ভার।
পরিচয় শারদ ১৪৩৩
সম্পা: অভ্র ঘোষ
২৫০.০০
ইমার্জেন্সি চলছে। আকাশবাণীর সঙ্গীত বিভাগে অলিখিত নিয়ম, ‘আগুন’, ‘ভাঙা’, ‘দুর্বার’, ‘প্রতিবাদ’ এমন শব্দ থাকলে সে গান বাজানো হবে না। বেশ কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি নিষিদ্ধ। সরকার-ঘোষিত বিশ দফা কর্মসূচির সমর্থনে গান-নাটক লিখিয়ে গাওয়ানো ও অভিনয় হচ্ছে। এর মধ্যে নির্বাচনে হেরে গেলেন ইন্দিরা গান্ধী। “পরদিন অফিসে গিয়ে দেখি শুরু হয়েছে বহ্ন্যুৎসব,” লিখছেন বরুণকুমার চক্রবর্তী। বিশ দফা কর্মসূচির সমর্থনে যত স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছিল, সব আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। একশো বছরে এমন কত মুহূর্ত দেখেছে কলকাতা বেতার। সংবাদ-সংস্কৃতির নির্মাণে এসেছে নতুন বাঁক। কর্মী-আধিকারিক ও শ্রোতাদের স্মৃতিভাষ্যে ইতিহাসকে ধরার চেষ্টা এই সংখ্যায়। ১৯৬০-৬১ নাগাদ হুগলি-বর্ধমান সীমান্তের জুতিহাটা গ্রামে গিরিন কামার আউশ জমি বিক্রি করে একটা রেডিয়ো কিনেছিলেন, সে দিন পাঠশালা ছুটি হয়ে গিয়েছিল। “আমাদের গ্রাম প্রথম সাবালক হয়ে ওঠে একটি রেডিওর সৌজন্যে,” লিখছেন শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়। মহীরুহ-সম বহু ব্যক্তিত্বের স্টুডিয়ো রেকর্ডিং-এর গল্প, মুক্তিযুদ্ধে কলকাতা বেতারের ভূমিকা, ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র ইতিহাস, ইডেনের ধারাবিবরণী। কেন্দ্র অধিকর্তা দিলীপ সেনগুপ্তের মৌলিক আবিষ্কার ছিল অল্প সময়ের ‘রেডিয়ো কার্টুন,’ এমন নানা অভিনব চিন্তার ঐতিহ্য-কথা পাতায় পাতায়।
কোরক, শতবর্ষে কলকাতা বেতারসম্পা: তাপস ভৌমিক
৩০০.০০
ধ্রুব এষের আঁকা প্রচ্ছদে গভীর উজ্জ্বল রঙের খেলা, বেঁধে দিয়েছে পত্রিকারও সুর। কবিতা এই পত্রিকার প্রাণভোমরা, উৎসব সংখ্যাতেও দুই পর্বে রয়েছে শতাধিক কবির কবিতা, প্রবীণ-নবীন সকলেরই। রয়েছে কাব্যোপন্যাস, বিশেষ আগ্রহ জাগায় ‘কবির ভ্রমণ’ বিভাগটি। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান তাঁর ছেলেবেলার ডিপ্রেশন, তারুণ্যের আত্মহননেচ্ছার কথাও— অপার্থিব মনে হয় পড়ে। আর আছে ত্রিশেরও বেশি গদ্যরচনা— অমিয় দেব তপন বন্দ্যোপাধ্যায় তরুণকুমার ঘটক অনিতা অগ্নিহোত্রী যশোধরা রায়চৌধুরী মৃদুল দাশগুপ্ত সৈয়দ কওসর জামাল পার্থজিৎ চন্দ প্রমুখের কলমে। বিষয়বৈচিত্রের তুলনা নেই, আর সব ক’টিই কোথাও না কোথাও একটি তারে বাঁধা— কবিতা।
কবিসম্মেলন, শারদীয় সংখ্যা
সম্পা: শ্যামলকান্তি দাশ
২৫০.০০
ছোটগল্প নিয়ে নিরন্তর চর্চা এই পত্রিকার কাজ, এই সংখ্যাটিও তার উজ্জ্বল উদ্ধার। ‘গল্পভাবনা’ অংশে সুমিতা চক্রবর্তী লিখেছেন বোক্কাচিয়োর ডেকামেরন নিয়ে, প্রচেত গুপ্ত সন্ধান করেছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের গল্পবিশ্ব। অনিতা অগ্নিহোত্রীর সঙ্গে কথালাপ জয়ন্ত সরকারের, সেখানে লেখিকা বলেন, “সচেতন প্লট নির্মাণ করি না বলে গল্প মাঝে মাঝে পথ বদলায়।” বাংলা অনুবাদে ভারত (তেলুগু) ও বিশ্বের ছোটগল্প-উপহার: কাজুও ইশিগুরো হারুকি মুরাকামি ও এস্টোনিয়ার ভীভি লুইকের গল্প পাবেন পাঠক। বাদবাকি বাংলা ভাষায় মৌলিক গল্পগুচ্ছ, এই সময়ের বিশিষ্ট গল্পকারদের কলমে।
নতুন গল্পপত্র, শারদীয় সংখ্যাসম্পা: শংকর চক্রবর্তী
১৫০.০০
ছয়শো পৃষ্ঠারও বেশি, বিপুলায়তন পত্রিকা-সংখ্যাটি সন্জীদা খাতুনকে ঘিরে, কিছু দিন আগেই যাঁর প্রয়াণ। এই বাংলায় সন্জীদার স্মরণ ও মূল্যায়নের অভাববোধও তৈরি হচ্ছিল তার পর থেকে, সেই শূন্যস্থান পূর্ণ হল এই পত্রিকা-সংখ্যায়। সম্পাদক সযত্নে পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন চারটি পর্বে ভাগ করে সন্জীদার ত্রিশটি প্রবন্ধ, নানা বিষয় ও মেজাজের: রবীন্দ্রনাথ, বাংলা ও বাঙালি, স্মৃতিগদ্য, সাহিত্যের বিবিধ পরিসর-বিহারী— এ থেকেই আন্দাজ পাওয়া যাবে ওঁর মননের গভীরতা। কবিতায় শ্রদ্ধার্ঘ্য দুই বাংলার কবিদের; পুনর্মুদ্রণ ও নতুন গদ্যরচনায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্মৃতিকথা ও মূল্যায়ন বিভাগটি: শঙ্খ ঘোষ দেবেশ রায় আবুল আহসান চৌধুরী থেকে এই সময়ের কলমেও ওঁর গান, লেখালিখি ও জীবনের নানা দিক-আঙ্গিকের উন্মোচন। দিলীপ সাহা তৈরি করে দিয়েছেন শিল্পীর জীবন ও সৃষ্টির সবিস্তার পঞ্জি।
দিবারাত্রির কাব্য, সন্জীদা খাতুন
সম্পা: আফিফ ফুয়াদ
৬০০.০০
আগে বেরিয়েছে ‘সত্যজিৎ প্রশংসিত বাংলা ছায়াছবি’ সংখ্যা, এ বার সঙ্গে জুড়ল সত্যজিতের প্রিয় ভারতীয় ও বিশ্বের ছবি নিয়ে দুই মলাটে আলোচনা। সংগ্রহযোগ্য, সন্দেহ নেই: চারু রায়-খ্যাত বাঙ্গালী, ছিন্নমূল, কল্পনা, দো বিঘা জমিন থেকে গরম হাওয়া, ওকা উরি কথা, মাথিলুকাল নিয়ে শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় গৌতম ভদ্র সূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রকাশ মিত্র প্রমুখের লেখা। বড় প্রাপ্তি— রজত রায়ের বঙ্গানুবাদে বাইসাইকেল থিভস-এর পুরো চিত্রনাট্য; সন্দীপ রায়ের লেখা ‘বাবার প্রিয় সিনেমা’।
বৈশাখী, সত্যজিতের প্রিয় দেশ-বিদেশের সিনেমাসম্পা: ধ্রুবজ্যোতি মণ্ডল
৩৩০.০০