চিনের অন্যতম সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান ‘লু শুন লিটারারি অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন ৫৬ বছর বয়সি ওয়াং জিবিং। তিনি এক জন গিগ-কর্মী, এক অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার ‘ডেলিভারি পার্টনার’। ক্রেতাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে লেখা কবিতার সঙ্কলন লো ফ্লাইট-এর জন্য এই স্বীকৃতি পেলেন ওয়াং। অনটনের সংসারেই জন্ম। আর্থিক টানাটানিতে স্কুল ছাড়ার পর নির্মাণশ্রমিক থেকে ফেরিওয়ালা— নানা কাজ করেছেন তিনি। শেষ কয়েক বছর ‘ডেলিভারি রাইডার’ হিসেবেই কাজ করছেন, আর সেই জীবনের অভিজ্ঞতাই জায়গা করে নিয়েছে তাঁর কবিতায়। শুধু ওয়াং নন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনে গিগ-অর্থনীতির একাধিক কর্মীর লেখা বই পাঠক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে। এতে ধরা পড়ছে অস্থায়ী কাজ, অনিশ্চিত আয় আর শহুরে শ্রমজীবনের চাপের অন্য এক ইতিহাস। পুরস্কার জিতেও ওয়াং জানিয়েছেন, তিনি চাকরি ছাড়বেন না। তাঁর কথায়, এই কাজ তাঁকে মানুষের আরও কাছাকাছি রাখে। হয়তো সেই কারণেই প্রান্তের মানুষের জীবনও এখন সাহিত্যের মূলস্রোতে নিজের ভাষা খুঁজে পাচ্ছে।
বিজয়ী: ওয়াং জিবিং।
তাঁর বইয়ের প্রচ্ছদ।
নাগালের বাইরে স্বাস্থ্য
বিশ্বে প্রতি তিন জনে এক জনের পক্ষে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। রাষ্ট্রপুঞ্জের পাঁচটি সংস্থার যৌথ রিপোর্টে উঠে এসেছে, প্রায় ২৬৯ কোটি মানুষ এখনও পুষ্টিগুণসম্পন্ন বৈচিত্রময় খাদ্যের নাগাল পান না। যদিও টানা তিন বছর বিশ্বে ক্ষুধার হার কমেছে, তবু শুধু পেট ভরলেই যে পুষ্টি মেলে না, সেই বাস্তব ছবিই সামনে আনছে রিপোর্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতিতে এখনও শস্যের উপর জোর বেশি— ফল, আনাজ, দুধ বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রয়ে গিয়েছে অনেকের সাধ্যের বাইরে। ফলে অপুষ্টির পাশাপাশি বাড়ছে স্থূলতা ও নানা অসংক্রামক রোগও। অর্থাৎ, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও, সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার এখনও কোটি কোটি মানুষের নাগালের বাইরে।
বিচার! তা হবে...
ভেনেজ়ুয়েলার ভূতপূর্ব প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-এর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলার বিচার শুরু হবে আগামী বছর জুনে। আমেরিকার দাবি, রাষ্ট্রপ্রধান থাকাকালীন মাদুরো মাদক পাচারের চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিযোগেই চলতি বছরের শুরুতে সামরিক অভিযানে তাঁকে ভেনেজ়ুয়েলা থেকে গ্রেফতার করে আনা হয়। এই অভিযান ঘিরে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুললেও, ওয়াশিংটন ডিসি বলছে, এটি ছিল আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ। ফলে মামলাটি এখন শুধু এক প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানের বিচারে সীমাবদ্ধ নয়। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সীমা কোথায় শেষ হয়, আর অন্য রাষ্ট্রের আইনের হাত কোথা থেকে শুরু হয়— সেই প্রশ্নও আবার সামনে এল।
‘পিঁপড়া কাঁদিয়া যায়’
ডেজ়ার্টের উপরে পিঁপড়ে ছড়িয়ে পরিবেশন করছিল দক্ষিণ কোরিয়ার এক ‘মিশেলিন স্টার’ রেস্তরাঁ। তার মালিকের এক বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। সে দেশের আইনে খাওয়ার উপযোগী হিসাবে অনুমোদিত পোকামাকড়ের তালিকায় পিঁপড়ে নেই। অভিযোগ, গত চার বছরে আমদানি করা প্রায় ৪৯,০০০ পিঁপড়ে নানা পদে ব্যবহার করা হয়েছে। শেফের অবশ্য দাবি, সামান্য দু’-একটি পদেই পিঁপড়ে ব্যবহার করা হত। অতিথিদের বিকল্পও দেওয়া হত। বিশ্ব জুড়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাস যতই বদলাক, নতুন স্বাদ গ্রহণের আগে আইনের অনুমোদনও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, বহু মূল্যে তা শিখছেন রেস্তরাঁর মালিক।
আকর্ষণ: খাবারে পিঁপড়ে। ছবি: প্রতীকী।
গরম ও বিতর্ক
গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এ বার অফিসে পুরুষকর্মীদের হাফপ্যান্ট পরে আসার পরামর্শ দিয়েছে টোকিয়ো প্রশাসন। বহু বছর ধরে চলা জাপানের ‘কুল বিজ়’ কর্মসূচিরই নতুন ধাপ এটি, যার লক্ষ্য বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো এবং কর্মীদের স্বস্তি বাড়ানো। পুরুষকর্মীরা স্বাভাবিক ভাবেই লুফে নিয়েছেন এ-হেন পরামর্শ। কিন্তু, গোলমাল বেধেছে অন্যত্র। মহিলারা চটেছেন। কোথাও পোশাকবিধিতে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ, কোথাও আবার সহকর্মীদের পায়ের লোম নিয়ে অস্বস্তি— এমনকি বেড়েছে লেজ়ার হেয়ার রিমুভালের চাহিদাও। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নীতি তাই শুধু পোশাক নয়, কর্মক্ষেত্রের সামাজিক রীতিনীতিও যে বদলে দিতে পারে, জাপান তারই নতুন উদাহরণ।