E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দিল্লি ডায়েরি: যাই ঘটুক, দাদা সব সময় বোনের পাশেই

প্রিয়ঙ্কা বক্তৃতার শেষে বলেন, বিজেপি ভোট চুরি করে, রামমন্দিরের প্রণামী চুরি করে, প্রশ্ন চুরি কী ভাবে রুখবে?

প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়, অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০২ অগস্ট ২০২৬ ০৭:১৬

“আপনি বোধ হয় আমার উপরে রাগ করেছেন। একটুও হাসছেন না।” প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার মুখে এ কথায় না হেসে পারলেন না লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। নিট-এর মতো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে কঠোর সাজার আইন নিয়ে আলোচনায় প্রিয়ঙ্কা নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে নিশানা করেছিলেন। তাই নিয়ে লোকসভা তেতে ওঠে। সে দিন রাহুল গাঁধী তাঁর চিরপরিচিত কার্গোর সঙ্গে সাদা টি-শার্টের বদলে হালকা হলুদ টি-শার্ট পরেছিলেন। প্রিয়ঙ্কা বক্তৃতার শেষে বলেন, বিজেপি ভোট চুরি করে, রামমন্দিরের প্রণামী চুরি করে, প্রশ্ন চুরি কী ভাবে রুখবে? স্পিকারকে বলেন, “এ বার তো হেসে দিন। বক্তৃতা শেষ হয়ে গেল!” স্পিকার আবার হাসতে শুরু করেন। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তখন বলেন, প্রিয়ঙ্কা রাহুল গাঁধীর বক্তৃতা চুরি করে নিয়েছেন। পরে রিজিজু আরও বললেন, রাহুলের চেয়ে প্রিয়ঙ্কা ভাল বলেন। ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া লাগানোই উদ্দেশ্য? প্রিয়ঙ্কা অবশ্য সংসদ থেকে বেরিয়ে দাদার কাঁধ জড়িয়ে বলেছেন, “ইনি সব সময় আমার সঙ্গে রয়েছেন!”

বন্ধন: সংসদের বাদল অধিবেশনে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা ও রাহুল গাঁধী।

বন্ধন: সংসদের বাদল অধিবেশনে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা ও রাহুল গাঁধী। ছবি: পিটিআই।

আজ হাতে কী?

জুনের গোড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিদেশ থেকে যখন দিল্লি পৌঁছে যন্তর মন্তর রওয়ানা হলেন, তাঁর হাতে বি আর আম্বেডকরের একটি আত্মজীবনী। প্রশ্ন উঠেছিল, দীপকে কি তাঁর দলিত পরিচিতি ব্যবহার করতে চাইছেন? তাঁর কি আদৌ আম্বেডকরকে নিয়ে ধারণা আছে? কারণ ওই বইটি আম্বেডকরের নানা নিবন্ধের সংকলন। প্রকাশক সংস্থা সঙ্ঘ পরিবার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। আম্বেডকর ওয়েটিং ফর আ ভিসা ছাড়া আর কোনও আত্মজীবনী লেখেননি। যন্তর মন্তরের আন্দোলন শেষে দেখা গেল, দীপকের হাতে লাল-কালো মলাটের সংবিধান। ঠিক যে রকম রাহুল গাঁধীর হাতে দেখা যায়।

আহত রাজনীতি

নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপরে পুলিশি হামলার পরে এনডিএ শাসিত বিহারেও পড়ুয়ারা বিরাট বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ সেই ছাত্রদের উপরে লাঠির পাশাপাশি গুলিও চালিয়েছিল। তার প্রতিবাদে বিহারের সাংসদ পাপ্পু যাদব মাথায় নকল ব্যান্ডেজ বেঁধে, কাঁধ থেকে নকল ব্যান্ডেজে হাত ঝুলিয়ে সংসদে এসেছিলেন। অন্য হাতে লম্বা লাঠি। নিরাপত্তা কর্মীদের চক্ষু চড়কগাছ। ব্যান্ডেজে আপত্তি নেই। কিন্তু লাঠি! তাঁদের অনুনয় বিনয়ে পাপ্পু রাজি হন। লাঠি ছাড়া, হাতে, মাথায় নকল ব্যান্ডেজ নিয়েই সংসদে ঢোকেন।

ভাগাভাগির পরেও

সদ্য নতুন তৃণমূল (এনসিপিআই) এবং পুরনো তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে চলছে মনকষাকষির খেলা। মাঝে পাঁচিল তৈরি হয়েছে, যা স্থানে স্ফটিক, স্থানে লৌহ। চলতি বাদল অধিবেশনে লোকসভার তৃণমূল ব্লকে এই ছায়া রোদ্দুরের ছবি সামনে আসছে বার বার। যে হেতু এনসিপিআই এখনও তৃণমূলের নামেই সংসদে, তাই বিপ্রতীপ ব্লক তৈরি হয়নি এখনও, বসতে হচ্ছে একই সঙ্গে, আগুপিছু করে। তার জেরেই অস্বস্তি। এরই মধ্যে মধুর বাতাস তৃণমূলের সৌগত এবং এনসিপিআই-এর শতাব্দী— দুই রায়ের মধ্যে! পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শতাব্দী সৌগতর হাতে গুঁজে দিলেন গুঁড়ো সুপুরি, অধিবেশন চলাকালীন মুখে রাখতে। পরের দিনই ঋণশোধে সৌগত শতাব্দীকে দিলেন লজেন্স!

পরিবর্তন চাই

বিজেপির সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় সভাপতি রূপে দলের শীর্ষ পদে বসেছেন বিহারের নিতিন নবীন। অধিকাংশ নেতাই তাঁর ‘সিনিয়র’। বাদল অধিবেশন শেষ হলেই ঘোষণা হতে চলেছে নিতিনের নিজস্ব ‘টিম’। তার আগে নিতিনের চেহারাতে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এত দিন কেবল গোঁফ থাকলেও, ধীরে ধীরে উঁকি মারছে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি। অনেকেরই প্রশ্ন, গাম্ভীর্য আনতেই কি ফ্রেঞ্চকাট-এর আবির্ভাব?

নবরূপ: নিতিন নবীন।

নবরূপ: নিতিন নবীন।

বেচাকেনার হাঁক উঠেছে

বাদল অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহে অনুপস্থিত তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের প্রশ্নে তাঁর জবাব— “কী করব মহামান্য চেয়ারম্যান? বাংলায় বিজেপি দোকান খুলেছে, বেচাকেনা চলছে! নজর রাখতে হচ্ছে। আপাতত দিল্লি আছি, পরে ফিরব।” উপস্থিত বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা হাসতে হাসতে ঠাট্টার স্বরে ডেরেককে বলেন, “ফিরে যান, ফিরে যান! নয়তো আরও বিক্রি হয়ে যাবে!”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
parliament NEET Politics

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy