রাজস্থানের ঢোলপুরে মিলিটারি স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন অখিলেশ যাদব। তার পর মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল এঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিগ্রি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অবশ্য রাজনীতির মঞ্চে বরাবরই হিন্দিতে বক্তৃতা করেন। তা সে প্রচারের জনসভা হোক বা লোকসভার কক্ষ। কারণ তাঁর ভোটব্যাঙ্ক উত্তরপ্রদেশের হিন্দি বলয়ের বাসিন্দা। তামিলনাড়ুর এমডিএমকে দলের প্রধান ভাইকো-র সংসদীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে অখিলেশ ঝরঝরে ইংরেজিতে বক্তৃতা করলেন। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন রাহুল গাঁধীও। সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস মজা করে বলেছিলেন, ৮২ বছরের ভাইকো রাহুল গাঁধীর থেকেও তরুণ। রাহুল উত্তরে বললেন, ভাইকো শুধু তরুণ নন, সুদর্শনও।
উদ্যাপন: বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভাইকো ও অখিলেশ যাদব, রয়েছেন রাহুল গাঁধী।
আমে-দুধে মিশে যাবে?
আপনার প্রিয় বিজেপি নেতা কে? ইনস্টাগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনই প্রশ্নের মুখে রাহুল গাঁধী। হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ। কারণ তিনি সামরিক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ। ‘হ্যালো, অমরিন্দর আঙ্কল’ও বলেছেন রাহুল। এই মন্তব্যে পঞ্জাবের রাজনীতিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ অমরিন্দর আদতে কংগ্রেসেরই নেতা। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। গত বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানো হয়। পরে কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল তৈরি করেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট হয়নি। আগামী বছরের গোড়াতেই পঞ্জাবের বিধানসভা ভোট। রাহুল ১৫ অগস্টের পরেই পঞ্জাব যাচ্ছেন। অমরিন্দরকে প্রিয় বিজেপি নেতা বলে কী বার্তা দিলেন রাহুল গাঁধী?
ডেরেকের বই
নীল ট্রলি ব্যাগ-সহ সংসদে ঢুকছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি? কিন্তু তা কী করে হয়, গতকালও তো তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ছিলেন অধিবেশনেই। আসলে ব্যাগভর্তি তাঁর নতুন বই— পলিটিক্স, পলিসি অ্যান্ড প্রেডিকশনস: ভিউজ় ফ্রম দ্য ফ্রন্ট রো অব পার্লামেন্ট। হইহই করে সাংসদরা নিলেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে নিলেন দু’কপি! একটি নিজের অন্যটি তাঁর লাইব্রেরির। বিষয় দেখে বাম সাংসদদের উৎসাহ সবচেয়ে বেশি। সদ্যবিদায়ী সতীর্থদের (এনসিপিআই) কি দিয়েছেন বই? অথবা বিজেপির কোনও সাংসদকে? ঘাড় নেড়ে নেতিবাচক জবাব সাংসদের!
সৌজন্য বেঁচে আছে
রাজনীতিতে তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী। সাম্প্রতিক ছাত্রআন্দোলন, রামমন্দিরে চুরির ঘটনার কারণে চলতি অধিবেশনে তরজাও চরমে। এই আবহেই গত সপ্তাহে বিরোধী হাঙ্গামায় রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবির পরে সংসদের উচ্চকক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে। পায়ের সমস্যা, একা হাঁটতে পারেন না। দীর্ঘ ক্ষণ ব্যক্তিগত সহায়কের জন্য অপেক্ষা করতে দেখে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এসে হাত ধরেন। হাত ধরে হেঁটে রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে সংসদে তাঁর ঘরে পৌঁছেও দেন। ভারতীয় রাজনীতিতে সৌজন্য যে এখনও সজীব, বোঝালেন দুই জাতীয় দলের নেতা।
পপিন্স শাড়ি
বাইরে আকাশ ভেঙে পড়ছে। আক্ষরিক অর্থেই বাদল অধিবেশন রাজধানীতে। যদিও বিরোধী বিক্ষোভে অচল লোকসভা, রাজ্যসভা। অধিবেশন হওয়ার আশা নেই বুঝে সাংসদরা কেউ কেউ ফিরেছেন বাড়ি। অনেকে ইতস্তত গুলতানি করছেন। মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়ার শাড়ির রং সে দিন গুঞ্জনের কেন্দ্রে। হ্যান্ডলুমের সুতির মসলিন সাদা খোলের উপর নীল, আকাশি, গোলাপি কাঁচা হলুদ— নানা রঙের স্ট্রাইপ। সহ-সাংসদদের ঠাট্টা, বাইরে ঘোর বর্ষা আর জুনের শাড়িতে রামধনু! ‘আপনা দল’-এর মির্জ়াপুরের সাংসদ অনুপ্রিয়া পটেলের বক্তব্য, শাড়িটি শৈশবের স্মৃতিকে ফিরিয়েছে তাই সবার ভাল লাগছে। এটা পপিন্স শাড়ি! পপিন্স খাওয়ার স্মৃতিচারণা চলল তার পর।
রামধনু: আলোচিত জুন মালিয়ার শাড়ি।
পঞ্জাবি দাওয়াত
খেতে ভালবাসেন, খাওয়াতেও। সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন তরুণ চুগ। অনেক দিন ধরেই তাঁর কাছে বিশুদ্ধ পঞ্জাবি খাবারের দাবি বিজেপির অন্য সাংসদদের। সোমবার সংসদে মধ্যাহ্নভোজনে তাই দলের রাজ্যসভা সাংসদদের জন্য চুগ আনিয়েছিলেন অমৃতসরি কুলচা, লস্যি ও ফ্রুট ক্রিম। নিজে পরিবেশনও করলেন। জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডাদের মধ্যাহ্নভোজন সারতে দেখা গেল এক সঙ্গে।