যদি ‘প্রোটেস্ট ডায়েট’ বা বিক্ষোভের সময় খাওয়াদাওয়া কিছু থাকে, রাহুল গাঁধীর ক্ষেত্রে সেটা অবশ্যই খান মার্কেটের খান চাচার কাঠি রোল। সংসদ মার্গ থানা হোক বা আকাশবাণী ভবন, দীর্ঘ সময় ধর্নায় বসতে হলেই রাহুলের জন্য তা আসবে। সঙ্গে বিশেষ নরম পানীয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আকাশবাণী ভবনে ধর্নার সময় রাহুলের জন্য আরও এল লাল এনার্জি ড্রিঙ্ক। রাহুল এক চুমুক খেয়ে বোন প্রিয়ঙ্কাকে খেতে বললেন। সারা দিনের দৌড়, ঘাম, পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি, বট গাছের তলায় থাকতে কাজে দেবে। কিন্তু প্রিয়ঙ্কা খুনসুটি করে প্রথমে রাহুলের থেকে এনার্জি ড্রিঙ্ক নিয়ে শুঁকলেন। বাকিদের জিজ্ঞাসা করলেন, এতে কী আছে! ভাল হবে কি না! রাহুল পাশ থেকে বলছেন, খেয়ে নাও, খেয়ে নাও। দুই ভাই বোন এক এক চুমুক দিলেন। ব্যস। এই দৃশ্য নিয়েই মাঠে বিজেপি। এক্স হ্যান্ডল থেকে কটাক্ষ— এমনই বিশ্বাসযোগ্যতা, যে নিজের বোনই বিশ্বাস করে না! কিছু খেতে দিলেও যাচাই না করে খায় না। কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনতের কড়া জবাব, যারা নিজের পরিবার ছেড়ে সঙ্ঘ পরিবারে থাকে, তারা ভাই বোনের সম্পর্কের মজা, খুনসুটি বুঝবেই না।
স্নেহশীল: বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে পিপাসা নিবারণ করছেন প্রিয়ঙ্কা, পাশে রাহুল। —নিজস্ব চিত্র।
গরমে হাঁসফাঁস
শরৎ এসেছে, কিন্তু রাজধানীর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবহাওয়া প্রবল গরম। সম্প্রতি সকাল সাড়ে দশটা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে নির্বাচন সদন অভিযানে হাঁসফাঁস করেছেন প্রবীণ সাংসদরা। হাঁটেননি কিন্তু ব্যাটারিচালিত গাড়িতে এসে ধর্নাস্থলে (নীতি আয়োগের সামনে উত্তপ্ত পিচ রাস্তায়) বসে থাকাটাও কম কষ্টের নয়। প্রবীণ সৌগত রায়, মল্লিকার্জুন খড়্গে ঘন ঘন জল খাচ্ছিলেন। রামপুরের সমাজবাদী সাংসদ মোহিবুল্লা নদভি তো গরমে অজ্ঞানই হয়ে গিয়েছিলেন প্রায়। সাংবাদিকরা ঘিরে প্রশ্ন করতে চাইলে হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দেন, সুস্থ বোধ করছেন না, কথা বলার অবস্থায় নেই।
মৈত্রীর জল-ছবি
কনট প্লেস থেকে জনপথ ধরে ইন্ডিয়া গেটের দিকে এগোলে বাম হাতে পড়বে দিল্লির বিজেপি সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ বর্মার সরকারি বাসভবন। আম আদমি পার্টির কর্মীকে থাপ্পড় মেরে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। আম আদমি পার্টির নেতারা রাস্তার মেরামতি ঠিকমতো হচ্ছে না বলে মন্ত্রীর সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তখনই হাত চালান প্রবেশ। তবে তাঁর বাড়ির সামনে সব সময় পথচারীদের জন্য ঠান্ডা জল, জিরিয়ে নেওয়ার চেয়ার পাতা। বুধবার বিরোধী সাংসদদের বাসে চেপে যন্তর মন্তর অভিযান চলছিল এই জনপথ দিয়েই। রাস্তায় হাঁটছিলেন যুব কংগ্রেসের কর্মীরা। স্লোগান উঠছিল, ‘ভোট চোর কাহা মিলেঙ্গে? বিজেপি কে দফতর মে।’ তার মধ্যেই কংগ্রেসকর্মীদের অনেকে প্রবেশের বাড়ির সামনে এসে জল খেয়ে গেলেন। প্রবেশের বাড়ির কর্মীরাও বাড়ির ছাদ থেকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার ছবি নিলেন মোবাইলে।
পুরনো বন্ধু
সাল ২০০১। নরেন্দ্র মোদী বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। আরএসএসের অনুষ্ঠানে কানপুরে গেলে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয় কানপুরের বিজেপি নেতা গোপীকৃষ্ণ পান্ডের বাড়িতে। বাড়ির সামনেই লাল প্যালেস টকিজ়। চড়া দেশাত্মবোধে মোড়া সানি দেওল-অমিশা পটেলের গদর সিনেমাটি সেখানে দলীয় সঙ্গীদের নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এ যাত্রায় উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন পুরনো পরিচিত গোপীকৃষ্ণ। যাঁর বাড়িতে একাধিক রাত কাটিয়েছিলেন মোদী। ফলে ফের সজীব মোদীর গদর দেখার ইতিহাস।
জনপ্রিয়: গদর সিনেমার পোস্টার। —ফাইল চিত্র।
জেন জ়ি-র মাঠে
পাশ থেকে সরে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। তাই জেন জ়ি-দের কাছে টানার পরিকল্পনা বিজেপির। উত্তরাখণ্ডে দু’দিনের দলীয় বৈঠকে গিয়েছিলেন জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সকাল থেকে সন্ধ্যা বৈঠকের পরে মাঠে যুবকদের ফুটবল খেলতে দেখে নেমে পড়েন নিতিন। সঙ্গী মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর ধামী ও গাড়োয়ালের সাংসদ অনিল বালুনি। যুবকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ড্রিবল করলেন নিতিন ও বালুনিকে। খেলার শেষে তাঁদের সঙ্গে মাঠের পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা নিয়েও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন নিতিন।
(জেন জ়ি: এটি আদতে আমেরিকায় বিপণন কৌশলের অঙ্গ হিসাবে বয়সভিত্তিক বিভাজন, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়)