E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দুনিয়া ডায়েরি: বেঁচে আছেন সু চি, পাঁচ বছর পর প্রকাশ্যে

সু চি দীর্ঘ দিন ধরেই মায়ানমারের রাজনীতির মঞ্চে অনুপস্থিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের কাছে মায়ানমারের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর গুরুত্ব যে এখনও ফুরিয়ে যায়নি, এই ‘ফোটো-অপ’ই তার প্রমাণ।

শেষ আপডেট: ০৯ অগস্ট ২০২৬ ০৬:২০

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পরে মায়ানমারের ভূতপূর্ব নেত্রী আউং সান সু চি-কে প্রকাশ্যে দেখা গেল, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস-এর এক প্রতিনিধির সঙ্গে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে কার্যত বিশ্বের চোখের আড়ালেই ছিলেন নোবেলজয়ী এই নেত্রী। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল। রেড ক্রস-এর প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখে অন্তত জানা গেল, সু চি জীবিত এবং সুস্থ। তবে এই পদক্ষেপকে মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি কূটনৈতিক বার্তা হিসাবেও দেখা হচ্ছে। সামরিক সরকার এমন এক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিকে সু চি-র সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে, যাদের কাজ মানবিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা— যদিও অন্য বহিরাগতদের জন্য সু চি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই। তাইল্যান্ড-সহ একাধিক দেশ এখন মায়ানমারের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের পথ খুঁজছে। ফলে এই ছবি শুধু এক বন্দি নেত্রীর খোঁজ মেলার নয়, বরং সে দেশের সামরিক সরকারের সুচিন্তিত রাজনৈতিক বার্তাও। সু চি দীর্ঘ দিন ধরেই মায়ানমারের রাজনীতির মঞ্চে অনুপস্থিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের কাছে মায়ানমারের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর গুরুত্ব যে এখনও ফুরিয়ে যায়নি, এই ‘ফোটো-অপ’ই তার প্রমাণ।

সাক্ষাৎ: পাঁচ বছর পর প্রকাশ্যে এলেন আউং সান সু চি।

সাক্ষাৎ: পাঁচ বছর পর প্রকাশ্যে এলেন আউং সান সু চি।

গোপন কথাটি

জানা ছিল, এই ঠিকানা হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্দি নাৎসি জেনারেলদের জন্য বিলাসবহুল শিবির। আট দশক পরে জানা গেল, লন্ডনের উপকণ্ঠে সেই ট্রেন্ট পার্কের দেওয়ালের আড়ালে চলত ব্রিটেনের এক গোপন গোয়েন্দা অভিযান। ঘরের নানা কোণে বসানো লুকানো মাইক্রোফোনে ধরা পড়ত জেনারেলদের কথোপকথন, তা শুনে লিখে রাখতেন জার্মান ভাষা-জানা এক দল উদ্বাস্তু, যাঁদের অনেকেই ছিলেন ইহুদি। হিটলারের ইহুদি-নিধনের সামান্য প্রতিশোধ? সে কথা অবশ্য জানা যায়নি। তাঁদের উদ্ধার করে দেওয়া তথ্য থেকেই ব্রিটেন নাৎসি জার্মানির ভি-২ রকেট কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায়। এত দিন প্রায় বিস্মৃত থাকা সেই অধ্যায়ের স্মৃতি নিয়েই খুলেছে ট্রেন্ট পার্কের নতুন জাদুঘর।

কলমে শিকল

বিদেশি সংবাদমাধ্যমের উপর নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে পাকিস্তান। নতুন নিয়মে ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের বাইরে কোনও খবর সংগ্রহ করতে হলে বিদেশি সাংবাদিক বা তাঁদের স্থানীয় সহকর্মীদেরও আগে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। সাংবাদিক সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এতে মাঠে নেমে স্বাধীন ভাবে খবর সংগ্রহ কঠিনতর হয়ে পড়বে, বিশেষ করে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায়। যদিও সরকারের দাবি, এটি সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং প্রশাসনিক সমন্বয়ের ব্যবস্থা। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা যখন অনুমতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন গণতন্ত্রে তথ্যপ্রবাহও স্বাভাবিক থাকে না। তার ফাঁকেই সবচেয়ে সহজে জায়গা করে নেয় একপেশে বয়ান।

নতুন বিপদ

প্রবল খরায় দানিয়ুবের জলস্তর এতটাই নেমে গিয়েছে যে, রোমানিয়া ও হাঙ্গেরিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শীতলীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জল পৌঁছে দিতে রোমানিয়া নদীর প্রবাহ ঘোরাতে বিস্ফোরণ পর্যন্ত ঘটিয়েছে। হাঙ্গেরিতেও দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কম ক্ষমতায় চলছে, সামনে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে দুই দেশই ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এত দিন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কথা উঠলে কৃষি বা পানীয় জলের সঙ্কটই বেশি আলোচনায় এসেছে। দানিয়ুবের এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, চরম আবহাওয়া এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও সরাসরি বিপন্ন করতে শুরু করেছে।

সঙ্কট: নামছে জলস্তর, দানিয়ুবে চর।

সঙ্কট: নামছে জলস্তর, দানিয়ুবে চর।

হেরেও যাঁরা জয়ী

নির্বাসিত আফগান মহিলা ফুটবল দল ফিফা-র স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথম বার এক সঙ্গে মাঠে নামল নিউ জ়িল্যান্ডে। কুক দ্বীপপুঞ্জের কাছে দু’টি ম্যাচেই হারতে হয়েছে তাদের। কিন্তু স্কোরলাইনই এই সফরের আসল গল্প নয়। তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর সে দেশের যত মহিলা খেলোয়াড় দেশ ছেড়েছেন, পরিবার হারিয়েছেন, খেলার অধিকার হারিয়েছেন— তাঁদের কাছেও এই মাঠে ফেরা এক ঐতিহাসিক জয়। চার বছর আগে যে দলটিকে মুছে দিতে চেয়েছিল মৌলবাদী স্বৈরশাসক, তারা আবার দেশের জার্সি গায়ে খেলছে। কোনও স্কোরবোর্ডে এই অবিশ্বাস্য জয়ের হিসাব লেখা যাবে না। আফগান মেয়েদের ঘিরে উন্মাদনাও তুঙ্গে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
England Hitlar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy